Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
মানুষ কিংবা প্রাণী সবার পাশেই মামুন
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকা যেভাবে ঢুকল

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
agamir somoy
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬:০০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকা যেভাবে ঢুকল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য। ছবি: সংগৃহীত

দেশে যেমন, বিশ্ববিদ্যালয়েও তেমনি, গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়নি। আমরা আশা করছিলাম গণতন্ত্রের চর্চার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় হবে অগ্রপথিক, সেটা ঘটল না। অভিযোগ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বড় বেশি দলাদলি করেন। কথাটা অর্থসত্য মাত্র। নির্বাচনীব্যবস্থা আছে, একা একা নির্বাচন করা যায় না, তাই নির্বাচনী জোট তৈরি হয়েছে; ভিত্তিটা ছিল মতাদর্শগত ভিন্নতা। সেটা কোনো খারাপ ব্যাপার নয়। শিক্ষকতা কখনোই তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে ছাত্রদের মধ্যে নিয়ে যেতে সচেষ্ট হননি। নির্বাচনব্যবস্থার ফলে দু’টি ভালো জিনিস পাওয়া গিয়েছিল, একটি হলো শিক্ষকদের ভেতর পরিচিতি গড়ে তোলা। দ্বিতীয়টি এই বোধ তৈরি হচ্ছিল যে, শিক্ষকদের ভেতর জ্ঞান ও বয়সের পার্থক্য অবশ্যই সত্য, কিন্তু এটাও সত্য যে শিক্ষক হিসেবে তারা একই সমতলে রয়েছেন। এককথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অধ্যাদেশ আমাদের সামন্তবাদী সংস্কৃতির বলয় থেকে বের হয়ে গণতন্ত্রের প্রশস্ত ক্ষেত্রে আসার সুযোগ করে দিয়েছিল। গণতন্ত্রের সুফল যে পুরোপুরি পাওয়া যায়নি তার দায় গণতন্ত্রের নয়, দায় রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের। ঘটনাটা আমরা ঘটতে দেখলাম, কিন্তু থামাতে পারলাম না। একসময়ে দেখা গেল সাদা ও নীল উভয় গোষ্ঠীর কিছু শিক্ষক বড় দুই রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। রাজনৈতিক নেতাদেরও আগ্রহ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভেতরে সমর্থক জোগাড় করার। এভাবেই বাইরের দলীয় রাজনীতিটা চলে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভেতরে। ক্ষুণ্ন হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ঘটেছিল সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের দেওয়া ‘কনসেশন’ হিসেবে; শাসক বদল হয়েছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন হয়নি।

রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ আরেকভাবে ঘটছিল। সেটা হলো মেধাবান তরুণদের সরকারি চাকরিতে টেনে নিয়ে যাওয়া। সরকারি চাকরিতে ক্ষমতা, উন্নতি ও অর্থ- তিনটিরই প্রাপ্তির যে সুযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় তা ছিল না। যে তরুণরা শিক্ষক হলে তাদের নিজেদের জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য উপকার হতো, তারা অনেকেই সরকারি চাকরিতেই চলে গেছেন। এটা ব্রিটিশ আমলে ঘটেছে, পাকিস্তান আমলে তো কমেইনি, বরং বেড়েছে। দেখা যেত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় যারা ভালো ফল করেছেন তারা সরাসরি সিভিল সার্ভিসে যাওয়ার লক্ষ্যে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতেন প্রস্তুতিকালীন সময় কাটানোর জন্য। আমি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছিলাম সেটা অত দ্রুত সম্ভব হতো না, যদি না আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সিভিল সার্ভিসে চলে যেতেন। সেকালে পদ খালি না হলে নতুন নিয়োগের কোনো সুযোগ ছিল না; আর পদ সৃষ্টি ছিল প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। আমার বাবা সরকারি চাকরি করতেন, তিনিও চেয়েছিলেন আমি সিভিল সার্ভিসমুখো হই এবং না হওয়াতে যে মনঃক্ষুণ্ন হননি এমন নয়। রাষ্ট্র টানত, বিশ্ববিদ্যালয়ও ঠেলে দিত, কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে সুযোগ-সুবিধাগুলো ছিল অত্যন্ত সীমিত।

বায়ান্নতে যখন প্রবেশ করি তখন আমাদের বিভাগে শিক্ষক ছিলেন অল্প কয়েকজন। অমলেন্দু বসু গিয়েছিলেন অক্সফোর্ডে, ডক্টরেট শেষ করে তিনি আর ঢাকায় ফেরত আসেননি দেশভাগের কারণে। প্রফেসর এ জি স্টক এসেছিলেন অক্সফোর্ড থেকে, সাতচল্লিশের আগস্টের অল্পকিছু আগে। শিক্ষক হিসেবে তিনি অত্যন্ত খ্যাতিবান ছিলেন, পণ্ডিত হিসেবেও; এবং উপনিবেশবাদবিরোধী ছিলেন দৃষ্টিভঙ্গিতে, যে জন্য তার ঢাকায় আসা। সাতচল্লিশের পর থেকেই ছাত্রবিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয় তপ্ত হয়ে উঠছিল, প্রফেসর স্টক টের পাচ্ছিলেন যে তাকেও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে; তার চিঠিপত্র গোয়েন্দারা নড়াচড়া করছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ভাবলেন সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেওয়া ভালো। সেটাই তিনি করেছেন, চলে গেছেন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের আগেই। আমরা তাকে পাইনি। তবে আমাদের অনার্সের মৌখিক পরীক্ষা নিতে তিনি এসেছিলেন।

প্রফেসর স্টক কিন্তু আবারও এলেন এবং এবারও স্বেচ্ছায়; একাত্তরের পরে। ড. মুর্শিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, ব্যবস্থাটা তিনিই করেছিলেন। একান্নতে প্রফেসর স্টক চলে গিয়েছিলেন যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ দেখে, বায়াত্তরে এসে তারই বিজয় দেখতে পেলেন। কিন্তু নতুন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিস্থিতি যে তাকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছিল, এমনটা মনে হয়নি। এক বছর থাকার পর তিনি চলে গেলেন। যাওয়ার আগে অবশ্য একটি বই লিখে গেছেন, মেময়ার্স অব ঢাকা ইউনিভার্সিটি নাইনটিন ফরটি সেভেন-ফিফটিওয়ান নামে। চমৎকার বই। উপন্যাসের মতো। স্টকের পরে আরেকজন ইংরেজ এসেছিলেন, প্রফেসর ও বিভাগীয়প্রধান হিসেবে। নাম জে এস টার্নার। তার সময়ে আমরা ছাত্র। তিনি ছিলেন অনেকটা দার্শনিকের মতো। তার প্রিয় কবি ছিলেন মিল্টন ও ওরার্ডসওয়ার্থ; তিনি ওই দুই কবির কবিতা পড়াতেন এবং আমরা টের পেতাম খুব আনন্দ পাচ্ছেন পড়িয়ে, এবং সচেষ্ট রয়েছেন নিজের আনন্দকে আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে। ১৯৭২-এ তিনিও একবার এসেছিলেন তার প্রিয় ঢাকা ও পূর্ববঙ্গকে দেখতে। তখন তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তার সঙ্গে দেখা কলকাতার এক সেমিনারে, যেখানে আমি বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের ওপর একটি প্রবন্ধ পড়েছিলাম; তিনি শুনলেন এবং শুনে বললেন, ‘তা ভালোই লিখেছ হে, কিন্তু বেশ পলিটিক্যাল’। মন্তব্যটা মনে আছে। সাহিত্যে পাঠদানের আরেকটি ধরন ছিল, সেটি ব্যাখ্যা করা, শব্দের অর্থ স্পষ্ট করা, উপমাগুলোর তাৎপর্য তুলে ধরা। এই রীতিতে পড়াতেন বি সি রায়। পড়তেন; এবং পড়াতে ভালোবাসতেন। ছিলেন অকৃতদার। ছাত্রজীবনে তো বটেই, যখন শিক্ষক হয়েছি তখনো টের পেয়েছি ভেতরে ভেতরে ছিলেন অত্যন্ত স্নেহপ্রবণ। ধুতি পরে আসতেন; কিন্তু সে পরিধেয়তে থাকতে পারলেন না, ১৯৬৪-এর দাঙ্গার পরে নিরাপত্তার স্বার্থে তার শুভার্থীরা তাকে পোশাক বদলানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন; বদলানো পোশাকে কয়েকদিন এসেছেনও; কিন্তু কাজটা তার কাছে কতটা অপমানজনক মনে হয়েছে জানি না, আমরা কিন্তু অপরাধী মনে করেছি নিজেদের। আমি তো চোখ তুলে তার দিকে তাকাতেই পারিনি লজ্জায় ও অপরাধবোধে। এর পরে অবশ্য তিনি বেশিদিন আমাদের সঙ্গে থাকেননি, অবসর গ্রহণ করে কলকাতায় চলে গেছেন।

শুরুতে পাঠ্যসূচিতে কোনো আমেরিকান লেখকের উপস্থিতি ছিল না; কিছুদিন পরে দেখা গেল আমেরিকান সাহিত্য বলে একটি বিকল্প পত্র এসে গেছে। বইপত্র সব আমেরিকার দূতাবাস থেকে আসছে। বৃত্তিও দেওয়া হচ্ছে আমেরিকায় যাওয়ার

শিক্ষা-ছুটি নিয়ে কেম্ব্রিজ গিয়েছিলেন সৈয়দ আলী আশরাফ, তিনি ফিরে এসেছিলেন আমরা যখন প্রথমবর্ষের ছাত্র তখনই। সাহিত্যপাঠে তখন নতুন একটি রীতির প্রবর্তন ঘটছিল; সেটা ছিল টেক্সটের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ; বৈজ্ঞানিকভাবে নয়, নান্দনিকভাবেই। এই পদ্ধতিতে সাহিত্যপাঠ ও সাহিত্যের মর্মোদ্ধার আরও গভীর হতো। সৈয়দ আলী আশরাফ ওই রীতির সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বেশিদিন রইলেন না, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেলেন। জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার উপস্থিতিটা ছিল খুবই উজ্জ্বল। আমরা জানতাম তিনি এম এন রায়ের রাজনৈতিক মতাদর্শে আস্থাবান ছিলেন; যে আস্থার প্রতিফলন ঘটেছিল মুক্তি নামে একটি সাহিত্য পত্রিকার মধ্যে। পত্রিকাটি তিনি যে সম্পাদনা করতেন তা নয়। তবে তিনি ছিলেন পেছনের অনুপ্রেরণা। মুক্তি কেবল যে নামের ওই বানানের জন্য বিশিষ্ট ছিল তা নয়, সেখানে যে আলোচনাগুলো বের হতো সেগুলোও ছিল মনোযোগ দিয়ে পড়ার মতো। কিন্তু পত্রিকাটি টেকেনি। জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ও তার স্ত্রী বাসন্তী গুহঠাকুরতা ছিলেন মনে-প্রাণে শিক্ষক; তারা দেশ ছেড়ে যাবেন এমনটা কখনো ভাবেননি; যাকে বলে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা, অনেকটা সেভাবেই রয়ে গেলেন এবং আমাদের এই শিক্ষক, যার উপস্থিতিতে আমরা অনুপ্রাণিত বোধ করতাম, তিনি চলে গেলেন একাত্তরে, পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণে।

তা একাত্তর আমাদের জন্য কেমন অভিজ্ঞতা ছিল তা বর্ণনা করা কঠিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল আক্রমণের প্রাথমিক কেন্দ্রগুলোর একটি। ওই আক্রমণে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারী কোনো বাছবিচার করা হয়নি। পরে ১৪ ডিসেম্বরে ঘটেছে ‘নির্বাচিত হত্যাকাণ্ড’। পঁচিশে মার্চ আমরা বেঁচে গেছি আমাদের আবাসিক এলাকাটিতে হানাদাররা ঢোকেনি বলে, পরে আমি বাঁচলাম পলাতক থাকার দরুন। আল-বদর যাদের খুঁজেছিল আমিও তাদের একজন ছিলাম। সামরিক প্রশাসক টিক্কা খান বিদায় নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছয়জন শিক্ষককে সতর্ক করে দিয়ে গিয়েছিল তাদের মধ্যেও আমি ছিলাম। ওই প্রথম ও শেষবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয়টা হয়ে দাঁড়িয়েছিল অনিরাপদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ছাত্রকালের বিভাগীয় পাঠ্যসূচি সম্পর্কে একটু বলি। পাঠ্যসূচি ছিল খুবই সংকীর্ণ, বলা যায় দরিদ্র। ধরা যাক, আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের তিনজন প্রধান ঔপন্যাসিক কনরাড, ফরস্টার ও লরেন্সের কথা; তারা কেউই কিন্তু আমাদের সময়কার পাঠ্যসূচিতে স্থান পাননি। কারণ হতে পারে দুটো; একটি ভিক্টোরীয় নীতিবোধের অবশেষের উপস্থিতি; অন্যটি হয়তো মফস্বলের শিক্ষার্থীদের প্রতি কর্তৃপক্ষের করুণা। তা শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রেও ঘটেছে। প্রথম দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের তেমন একটা পাত্তা দেওয়া হতো না, বিশেষভাবে চাকরিবাকরির ক্ষেত্রে; পরে অবশ্য সেটা কেটে গেছে। তবে আমার মনে পড়ে ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে একজন অধ্যাপিকার পড়ানোর কথা। তিনি আমাদের পড়িয়েছেন ‘দি রেইপ অব লক্’ নামের দীর্ঘ কবিতাটি। এমনভাবে পড়ালেন যেন আমরা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী।

আমরা টের পাচ্ছিলাম যে আমেরিকার চোখ পড়েছে পূর্ব বাংলার ওপরে। তাদের ভয় ছিল কমিউনিজমের। শুরুতে পাঠ্যসূচিতে কোনো আমেরিকান লেখকের উপস্থিতি ছিল না; কিছুদিন পরে দেখা গেল আমেরিকান সাহিত্য বলে একটি বিকল্প পত্র এসে গেছে। বইপত্র সব আমেরিকার দূতাবাস থেকে আসছে। বৃত্তিও দেওয়া হচ্ছে আমেরিকায় যাওয়ার। আরও পরে দেখেছি বরিস পাস্তারনেকের ড. জিভাগো উপন্যাসটির কপি বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে শিক্ষকদের মধ্যে, কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রিডমের বেনামিতে।

আগে বৃত্তি পাওয়া যেত ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে, উচ্চশিক্ষার জন্য আমি যে বিদেশে গিয়েছিলাম সেটা ব্রিটিশ বৃত্তিতেই; পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে যুক্ত হলো আমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ। ততদিনে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমেরিকা পাকিস্তানের ঘাড়ে বেশ ভালোভাবেই সওয়ার হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাদের চোখ তো পড়বেই। মুনীর চৌধুরীকে নিয়ে যাওয়া হলো আমেরিকায়, ভাষাতত্ত্ব পড়বার জন্য। তিন মাসের লিডারশিপ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে শিক্ষকদের কেউ কেউ গেলেন শিক্ষাভ্রমণে। সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনও গিয়েছিলেন এবং আমেরিকা থেকে কয়েকটি চিঠি লিখেছিলেন পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকায়। ১৯৫৮ সালে রকফেলার ফাউন্ডেশন আমাদের ইংরেজি বিভাগকে বেশ বড় অঙ্কের একটা অনুদান দিয়েছিল সাম্প্রতিক বাংলা সাহিত্যের ওপর আটটি সেমিনার করার জন্য। ওদিকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা পরিবর্তন দেখা গেল, তারা সাহিত্যপাঠের জন্য বৃত্তি না দিয়ে ভাষার পঠন-পাঠন শেখার জন্য বৃত্তি দেওয়াতে আগ্রহী হয়ে উঠল। ধারণাটা হয়তো এই ছিল যে, সাহিত্য হলো গিয়ে ওপরকাঠামোর ব্যাপার, ভাষা শেখাতে পারলে সংস্কৃতির গভীরে প্রবেশ করা যাবে এবং বাণিজ্যিকভাবেও ওই শিক্ষাদান লাভজনক হবে।

আমরা যখন ছাত্র তখন রেডিওর প্রচারকেন্দ্রটি ছিল কলাভবনের খুব কাছে, নাজিমুদ্দিন রোডে। ওই ভবনটি আমাদের খুব টানত; সেখানে শিক্ষকরা যেতেন, আমরা ছাত্ররা, যাদের অল্পস্বল্প লেখার অভ্যাস, তারাও যাতায়াত করতাম। সেটা ছিল একটি বিশেষ সুযোগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমার ঋণ অপরিশোধ্য; সে ঋণ যত বেড়েছে বহন করে, ততই আমি সাবালক হয়েছি।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ৩০ জুন ২০২৬
    রাত ১১:০০ টা
    আইভরি কোস্ট
    ১
    নরওয়ে
    ২
    ০১ জুলাই ২০২৬
    রাত ৩:০০ টা
    ফ্রান্স
    ৩
    সুইডেন
    ০
    ০১ জুলাই ২০২৬
    রাত ১০:০০ টা
    ইংল্যান্ড
    ০
    কঙ্গো
    ০
    ০২ জুলাই ২০২৬
    রাত ২:০০ টা
    বেলজিয়াম
    ০
    সেনেগাল
    ০
    ০২ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৬:০০ টা
    যুক্তরাষ্ট্র
    ০
    বসনিয়া-হার্জেগোভিনা
    ০
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    স্পেন
    ০
    অস্ট্রিয়া
    ০
    advertisement
    advertisement
    যৌথ সেবা ফি আরোপে ইরান-ওমানের আলোচনা, আপত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র

    যৌথ সেবা ফি আরোপে ইরান-ওমানের আলোচনা, আপত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৮

    মাতৃত্বকালীন বিরতির ঘোষণা সামান্থার

    মাতৃত্বকালীন বিরতির ঘোষণা সামান্থার

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬

    ইতিহাস গড়ে শেষ ১৬তে মেক্সিকো

    ইতিহাস গড়ে শেষ ১৬তে মেক্সিকো

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪

    সালথায় নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

    সালথায় নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭

    মানুষ কিংবা প্রাণী সবার পাশেই মামুন

    মানুষ কিংবা প্রাণী সবার পাশেই মামুন

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০০:১৪

    দুই বছর পরও চেতনা, অর্জন অপূর্ণ

    দুই বছর পরও চেতনা, অর্জন অপূর্ণ

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯

    ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা  রক্ষায় আমি অঙ্গীকারবদ্ধ

    ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমি অঙ্গীকারবদ্ধ

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৬

    সিলগালা কক্ষের চাবি পেয়েছে আদ্-দ্বীন

    সিলগালা কক্ষের চাবি পেয়েছে আদ্-দ্বীন

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২

    আজকের নামাজের সময়সূচি (০১ জুলাই)

    আজকের নামাজের সময়সূচি (০১ জুলাই)

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩

    ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, হতে পারে বৃষ্টি

    ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, হতে পারে বৃষ্টি

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৫

    ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চায় না ইরানিরা

    ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চায় না ইরানিরা

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫

    ক্রিপ্টো থেকে এক বছরে ১ বিলিয়ন ডলার আয় ট্রাম্পের

    ক্রিপ্টো থেকে এক বছরে ১ বিলিয়ন ডলার আয় ট্রাম্পের

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১

    নরওয়েকে কখনই হারাতে পারেনি ব্রাজিল

    নরওয়েকে কখনই হারাতে পারেনি ব্রাজিল

    ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২

    ধ্বংসস্তূপ থেকে ছয় দিন পর ৩ বছরের শিশু উদ্ধার

    ধ্বংসস্তূপ থেকে ছয় দিন পর ৩ বছরের শিশু উদ্ধার

    ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০

    তেলুগুতে বড় তারকারা কেন ঝুঁকছেন ছোট গল্পে?

    তেলুগুতে বড় তারকারা কেন ঝুঁকছেন ছোট গল্পে?

    ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬

    advertiseadvertise