Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
৪০০ মানুষের চোখের আলো খায়রুল
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

পুরনো ভয় সরে গিয়ে নতুন ভয়

সাঈদ জুবেরী
সাঈদ জুবেরী
agamir somoy
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০০:০১
পুরনো ভয় সরে গিয়ে নতুন ভয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

বাংলাদেশের রাজনীতির কিছু মৌলিক সংকট নিয়ে কাজ করছেন গবেষক ও বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ডক্টরাল এই ফেলো বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন আগামীর সময়ের। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক, মতাদর্শিক রাজনীতি, নাগরিক পরিচয়সহ আলাপে অনেক বিষয় উঠে এসেছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাঈদ জুবেরী

আগামীর সময়: বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ধস ও রাষ্ট্রের নৈতিক কর্তৃত্বের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য গত দুই বছরে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ কেন চোখে পড়ছে না?

আসিফ বিন আলী: গত এক-দেড় দশকে রাষ্ট্র শুধু বলপ্রয়োগের যন্ত্রে পরিণত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো নৈতিক বৈধতা ও আস্থা হারিয়েছে। ফুকো বা আলথুসারের তত্ত্ব অনুযায়ী, রাষ্ট্র যখন শুধু ভয়ের জোরে চলে এবং সম্মতি উৎপাদনে ব্যর্থ হয়, তখন নাগরিকের চোখে সেটি আর নিরপেক্ষ থাকে না। ক্ষমতাসীনরা প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত দলীয়করণ করেছে, এটা সত্য। আবার বিরোধী রাজনীতিও অনেক সময় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বদলে প্রতিষ্ঠান অস্বীকারের ভাষা তৈরি করেছে। সমস্যাটা শুধু সরকার বদলের প্রশ্ন নয়, নৈতিক কর্তৃত্ব ভেঙে পড়ার প্রশ্ন।

গত দুই-আড়াই বছরে কিছু কমিশন বা সংস্কার প্রস্তাব এলেও দৃশ্যমান রূপান্তর না ঘটার মূল কারণ হলো— আইন, প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি বদলানোর চেয়ে এখনো ‘বয়ান ও প্রতিশোধের রাজনীতি’ প্রাধান্য পাচ্ছে। সংস্কারের জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ক্ষমতাকে নিয়ম দিয়ে সীমাবদ্ধ করার ধৈর্য প্রয়োজন, তার ঘাটতি রয়েছে। রাষ্ট্রকে আবার বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে শুধু পুরনো শাসকের বিচার নয়; বরং ভবিষ্যতের শাসককেও জবাবদিহির আওতায় আনার মতো একটি নিরপেক্ষ কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

আগামীর সময়: জুলাই আপরাইজিংয়ের পর ‘মব’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে এবং মানুষ কেন নিজেই ‘পুলিশ, বিচারক ও জল্লাদ’ সেজে বসছে?

আসিফ বিন আলী: আমি মবকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখি না। এটি বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতার সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ফল। গত ৫ আগস্টের পর ক্ষমতার প্রতীকী কাঠামো ভেঙে পড়ায় একদিকে যেমন মুক্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে জমে থাকা রাগ ও প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও বেরিয়ে এসেছে।

সমাজবিজ্ঞানী দুরখাইমের ভাষায়, সমাজ যখন নিয়মের স্থিতি হারিয়ে এক ধরনের ‘অ্যানোমি’ বা নৈতিক বিশৃঙ্খলায় পড়ে, তখন মানুষ বৈধ কর্তৃত্বের শূন্যতায় নিজেই আইন হাতে তুলে নেয়। এই বিপজ্জনক প্রবণতাকে আরও উসকে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু ইনফ্লুয়েন্সারের উত্তেজনা ছড়ানোর রাজনীতি, যেখানে বিচার কোনো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া না হয়ে ‘পারফরম্যান্স’ বা উন্মাদনায় পরিণত হয়েছে।

আগামীর সময়: ১৮ কোটি মানুষের একটি দেশকে শুধু পুলিশ বা আমলাতন্ত্র দিয়ে চালানো অসম্ভব। এ সত্যটি বর্তমান রাজনৈতিক অংশীজন এবং নীতিনির্ধারকরা কতটা উপলব্ধি করতে পারছেন?

আসিফ বিন আলী: লক্ষণ দেখে মনে হয়, আংশিক উপলব্ধি আছে। কিন্তু সেই উপলব্ধির সঙ্গে যথেষ্ট রাজনৈতিক পরিপক্বতা রয়েছে কি না, সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তারা এখনো ‘কন্ট্রোল’ বা নিয়ন্ত্রণকে ‘গভর্ন্যান্স’ বা সুশাসন মনে করছেন। একটি রাষ্ট্র শুধু পুলিশ, আমলাতন্ত্র বা গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে চলতে পারে না; গ্রামশির ভাষায়, শুধু বলপ্রয়োগ (Domination) নয়, রাষ্ট্রের টিকে থাকার জন্য সম্মতিমূলক নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা প্রয়োজন। রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয় যখন আদালত, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। বর্তমান মূল কাজ ক্ষমতাকে আরও কেন্দ্রীভূত করা নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সীমাবদ্ধ ও জবাবদিহির আওতায় আনা।

আগামীর সময়: বিগত সরকারের ন্যারেটিভ যেমন গণঅভ্যুত্থানে ভেঙে পড়েছে, তেমনি জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন পক্ষ যেভাবে ‘বয়ানের রাজনীতি’ তৈরি করতে চাচ্ছে, সেটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

আসিফ বিন আলী: জুলাই অভ্যুত্থানের পর ‘বিজয়ী পক্ষ’ বলতে একক কোনো দল বা গোষ্ঠীকে বোঝানো কঠিন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গভীর মতভেদ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বয়ান শেষ দিকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, কারণ সেটি বাস্তবতার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। বয়ান অতিরিক্ত ব্যবহারে ফাঁপা হয়ে যায়, যদি তার সঙ্গে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার সম্পর্ক না থাকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রের প্রধান রাজনৈতিক শিক্ষা ছিল, নিয়ন্ত্রণই স্থিতিশীলতা। সেই নিয়ন্ত্রণের কাঠামো ভেঙেছে; কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ভাঙলেই গণতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা তৈরি হয় না। অনেক সময় পুরনো ভয় সরে গিয়ে নতুন ভয় জায়গা নেয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে কয়েকটি বিপজ্জনক ধারণা— প্রতিশোধ মানেই ন্যায়বিচার, সংখ্যাগরিষ্ঠ নৈতিকতা মানেই সত্য, অভিযোগ মানেই অপরাধ, ভিন্নমত মানেই ষড়যন্ত্র, সমালোচনা মানেই কোনো পক্ষের দালালি— এই ভাষা গণতান্ত্রিক নয়

বর্তমানে জুলাইয়ের নতুন বয়ান তৈরির রাজনীতিতেও একই ধরনের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে। যেখানে এই আন্দোলনের মূল স্পিরিট হওয়া উচিত ছিল নাগরিক মর্যাদা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন— সেখানে বিভিন্ন পক্ষ একে নিজেদের মতো করে শুধু ইসলামপন্থী, জাতীয়তাবাদী কিংবা তরুণদের একক বিজয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। কেউ কেউ আবার একে প্রতিশোধের নৈতিক লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করছে। নতুন এই বয়ানও যদি নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব আর শত্রু নির্মাণের বৃত্তে আটকে যায়, তবে এটিও দ্রুত অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়বে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রের প্রধান রাজনৈতিক শিক্ষা ছিল, নিয়ন্ত্রণই স্থিতিশীলতা। সেই নিয়ন্ত্রণের কাঠামো ভেঙেছে; কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ভাঙলেই গণতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা তৈরি হয় না। অনেক সময় পুরনো ভয় সরে গিয়ে নতুন ভয় জায়গা নেয়। আমার মনে হচ্ছে, আমরা সে ধরনের ভয় বা এক নতুন স্বাভাবিকতার চাপ দেখছি। এর কেন্দ্রে রয়েছে কয়েকটি বিপজ্জনক ধারণা— প্রতিশোধ মানেই ন্যায়বিচার, সংখ্যাগরিষ্ঠ নৈতিকতা মানেই সত্য, অভিযোগ মানেই অপরাধ, ভিন্নমত মানেই ষড়যন্ত্র, সমালোচনা মানেই কোনো পক্ষের দালালি— এই ভাষা গণতান্ত্রিক নয়।

আগামীর সময়: আমাদের গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরগুলো কি খোলস বদলে নতুন কোনো কর্তার প্রতি ‘সম্মতি উৎপাদনের কারখানায়’ রূপান্তরিত হচ্ছে?

আসিফ বিন আলী: অনেক জায়গায় মনে হচ্ছে ক্ষমতার ভাষা বদলেছে; কিন্তু ক্ষমতার প্রতি সম্মতি উৎপাদনের কাজটা রয়ে গেছে। গ্রামশির হেজিমনির ধারণা দিয়ে বললে, আধিপত্য শুধু জোর করে চলে না; সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক পরিসর দিয়ে সম্মতি তৈরি করে। আমাদের সে কারখানাগুলো এখনো ভাঙেনি। বর্তমানে পুরনো রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের জায়গায় একধরনের নতুন সামাজিক সেন্সরশিপ বা ভীতি তৈরি হয়েছে। আগে ভিন্নমতাবলম্বীদের যেভাবে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ তকমা দেওয়া হতো, এখন শব্দ বদলে তাদের ‘দালাল, ফ্যাসিবাদের সহযোগী, বিপ্লববিরোধী বা ধর্মবিরোধী’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

আগামীর সময়: পোস্ট-কলোনিয়াল, পোস্ট-স্ট্রাকচারাল বা সাব-অল্টার্ন স্টাডিজের মতো লিবারেল তাত্ত্বিক বয়ানগুলোকে এখন উগ্রপন্থী বা ইসলামপন্থীরা নিজেদের কর্তৃত্ববাদী এজেন্ডা বৈধ করার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে— এই রূপান্তরকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আসিফ বিন আলী: এটি তত্ত্বের ব্যর্থতা নয়; বরং এর নির্বাচিত ও সুবিধাবাদী ব্যবহার। এডওয়ার্ড সাঈদ, স্পিভাক বা ফুকোর তত্ত্বগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল সর্বগ্রাসী ক্ষমতার সমালোচনা করা। কিন্তু ডানপন্থী ও উগ্রপন্থী রাজনীতি এ তত্ত্বগুলো থেকে শুধু পশ্চিমা বিরোধিতা, সেক্যুলার এলিট বিরোধিতা বা সাংস্কৃতিক আধিপত্যের সমালোচনার অংশটুকুই গ্রহণ করে, যা তাদের শত্রু নির্মাণে সাহায্য করে। তারা ঔপনিবেশিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার সমালোচনা করলেও নিজেদের ধর্মীয় কর্তৃত্ব, সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, নারীবিদ্বেষ বা ভিন্নমত দমনের রাজনীতিকে সম্পূর্ণ প্রশ্নের বাইরে রাখে। এ তত্ত্বগুলোকে তারা নিজেদের পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির ‘নৈতিক লাইসেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করে। একসময়ের ক্ষমতাবিরোধী তত্ত্ব ডানপন্থীদের হাতে এসে নতুন ক্ষমতার আগ্রাসী ভাষায় পরিণত হচ্ছে।

ভারতে হিন্দুত্ববাদীরা পশ্চিমা ও সেক্যুলার কাঠামোর বিলোপ ঘটিয়ে ‘হিন্দু সভ্যতাগত রাষ্ট্রের’ দাবি তৈরিতে এ তত্ত্ব ব্যবহার করে। বাংলাদেশেও ইসলামপন্থীরা একই যুক্তির কাঠামো ব্যবহার করে দাবি করছে— মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের সংস্কৃতি, ধর্মীয় নৈতিকতা ও ইসলামি পরিচয়কে দীর্ঘদিন ধরে সেক্যুলার, ভারতঘেঁষা বা পশ্চিমা এলিটরা দমন করে রেখেছে।

এখানে মূল আপত্তির জায়গা হলো সাব-অল্টার্ন স্টাডিজ, যেখানে প্রতিনিধিত্বহীন ও প্রান্তিক মানুষের কথা বলেছিল, সেখানে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী পুনঃস্থাপনে সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনীতি নিজেই প্রান্তিকতার ভাষা ধারণ করছে (Majority posing as subaltern)। তারা বাংলাদেশের ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ ও আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল ইতিহাসকে আড়াল করে একে ‘মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের সাংস্কৃতিক পুনরুদ্ধার’-এর একটি একরৈখিক গল্প বানাতে চায়।

আগামীর সময়: চলমান বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটে প্রগতিশীল বা লিবারেল মহলের দায় কতটুকু এবং কীভাবে তাদের দুর্বলতাকে ডানপন্থীরা ব্যবহার করছে?

আসিফ বিন আলী: প্রগতিশীল ও লিবারেল বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের বড় দায় রয়েছে। প্রথমত, তারা তত্ত্বগুলোকে বাস্তব ও সামাজিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত করতে পারেননি; ফলে মাঠের রাজনীতি চলে গেছে ডানপন্থীদের হাতে।

এটিকে খুব ঝুঁকিপূর্ণ হাইব্রিড হিসেবে দেখি। এখানে লেনিনবাদ হয়ে যায় সংগঠিত মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণের কৌশল, যা ডানপন্থার জন্য খুব সুবিধাজনক

দ্বিতীয়ত, তাদের মধ্যে একধরনের ‘নির্বাচিত নৈতিকতা’ বা সুবিধাবাদী অবস্থান ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের সামাজিক আস্থা কমে গেছে।

আগামীর সময়: দেখা যাচ্ছে ‘নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা’র চেয়ে ‘মতাদর্শিক ও ধর্মীয় শুদ্ধি অভিযান’ বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে...।

আসিফ বিন আলী: কারণ শুদ্ধি অভিযান সহজ, শাসন করা কঠিন। নাগরিকের অধিকার, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে আদালত ঠিক করতে হয়, পুলিশকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হয়, স্কুল-হাসপাতাল চালাতে হয়, বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, দুর্নীতি কমাতে হয়, প্রশাসনকে সেবামুখী করতে হয়। কিন্তু মতাদর্শিক বা ধর্মীয় শুদ্ধি অভিযান দ্রুত শত্রু তৈরি করে, নিজের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে, আর বাস্তব শাসন-ব্যর্থতা থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দেয়।

আগামীর সময়: পেশাজীবীদের পেশাগত নীতিশাস্ত্র ভুলে ‘মব কালচারে’ যোগ দেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া একটি একরৈখিক ‘পাবলিক স্পেস’ তৈরি করার ফলে আমাদের সামাজিক কাঠামো কি ভেঙে পড়ছে?

আসিফ বিন আলী: সোশ্যাল মিডিয়া একা বহুত্ববাদ ধ্বংস করে না; কিন্তু বহুত্ববাদ ধ্বংসের গতি অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এর কাঠামো সন্দেহ, রাগ, অপমান, দ্রুত বিচার এবং দলবদ্ধ আক্রমণকে পুরস্কৃত করে। শান্ত, জটিল, প্রমাণভিত্তিক ও সংযত কথা সেখানে কম ছড়ায়; উচ্চৈঃস্বরে বলা মতামত বেশি ছড়ায়। হাবারমাস যে rational-critical public sphere-এর কথা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার বর্তমান বাস্তবতা অনেক সময় তার উল্টো দিকে যায়। পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুতর। একজন বিচারক, সাংবাদিক, শিক্ষক বা ব্যাংকারের পেশাগত নীতিশাস্ত্র তাকে সংযম, প্রক্রিয়া, প্রমাণ এবং দূরত্ব বজায় রাখতে শেখায়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার দৃশ্যমানতা তাকে অনেক সময় রাজনৈতিক পারফরম্যান্সের দিকে টেনে নেয়।

আগামীর সময়: সমাজে ‘সহিংসতার ভাষা’ বদলে দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কি ভূমিকা রাখা সম্ভব?

আসিফ বিন আলী: সম্ভব, কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না। গত দেড় দশকের বেশি সময় ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, বিচারহীনতা এবং তার বিপরীতে জমে থাকা ক্ষোভ সমাজে একটি সহিংসতার ভাষা তৈরি করেছে। বিপদ হলো, অনেকে এ ভাষাকে ন্যায্য প্রতিশোধের ভাষা হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো যদি মনে করে এ ভাষা শুধু প্রতিপক্ষকে দুর্বল করবে, তাহলে তারা ভুল করবে। এ ভাষা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে দুর্বল করে, সমাজকে অনিরাপদ করে এবং একদিন নিজ দলের বিরুদ্ধেও ফিরে আসে। আইনের বাইরে তৈরি করা প্রতিটি সংস্কৃতি ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি। তবে শুধু দলের সদিচ্ছার ওপর ভরসা করলে হবে না। চাপ ছাড়া দলগুলো নিজেদের বদলাবে না। রাজনীতিকে সহনশীলতা ও আইনিপ্রক্রিয়ার ভাষায় ফেরাতে হলে প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারকে কেন্দ্রে আনতে হবে। ন্যায়বিচার মানে অপরাধ ভুলে যাওয়া নয়; অপরাধের বিচারকে প্রমাণ, প্রক্রিয়া ও আইনের ভেতরে আনা।

আগামীর সময়: জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন ক্ষমতার বয়ানটি কি কেবল ‘সংস্কৃতি যুদ্ধ’ দিয়েই টিকে থাকতে পারবে, নাকি তা স্রেফ হুজুগে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে?

আসিফ বিন আলী: জুলাই অভ্যুত্থান দেখিয়েছে, networked mobilization খুব শক্তিশালী হতে পারে। ছবি, স্লোগান, রাগ, শোক, সাহস, নাগরিক ক্ষোভ— সব মিলিয়ে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। কিন্তু অভ্যুত্থান আর রাষ্ট্রগঠন এক জিনিস নয়। অভ্যুত্থান ক্ষমতার প্রতীকী কাঠামো ভাঙতে পারে; রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে হলে দরকার গণসংগঠন, স্থানীয় কাঠামো, রাজনৈতিক শিক্ষা, প্রশাসনিক দক্ষতা, অর্থনৈতিক কর্মসূচি, জবাবদিহি এবং দীর্ঘমেয়াদি নৈতিক শৃঙ্খলা।

গণসংগঠন ছাড়া নতুন ক্ষমতার বয়ান খুব দ্রুত influencer-driven নৈতিক ঢেউয়ে পরিণত হয়। আজ যে ঢেউ আপনাকে বহন করবে, কাল সেই ঢেউ আপনাকেই ডোবাতে পারে। সংকটকে স্থায়ী রাজনৈতিক সংগঠনে রূপান্তর করা না গেলে তা হুজুগ, নৈতিক আতঙ্ক বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে আটকে যায়।

আগামীর সময়: ডানপন্থীরা গ্রামসির ‘হেজিমনি’ ও লেনিনের সাংগঠনিক কৌশল থেকে তাদের মূল মার্ক্সবাদী ভিত্তি বাদ দিয়ে সেগুলোকে স্রেফ ‘সংস্কৃতি যুদ্ধ’ বা ‘ক্ষমতার রাজনীতিতে’ রূপান্তর করেছে, আপনার পর্যবেক্ষণ কি বলে?

আসিফ বিন আলী: এখানে রাজনীতি ক্রমেই প্রতীক, পরিচয়, ধর্মীয় নৈতিকতা, সেক্যুলার বনাম ইসলামপন্থী দ্বন্দ্বের মতো ‘বয়ানের লড়াই’ বা ‘সংস্কৃতি যুদ্ধে’ আটকে যাচ্ছে। এই বয়ান-রাজনীতি সুবিধাজনক, কারণ এতে আবেগ ও নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব তৈরি করা সহজ হলেও ক্ষমতার আসল স্বার্থে আঘাত করতে হয় না।

ডানপন্থী তরুণ ও কর্মীদের মধে লেনিন পাঠের ক্ষেত্রেও একটি ‘ম্যাকিয়াভেলিয়ান’ বা সুবিধাবাদী ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা লেনিনের কাছ থেকে পার্টি শৃঙ্খলা, ক্যাডার গঠন ও ক্ষমতার বাস্তব রাজনীতি বোঝার কৌশলগুলো ঠিকই ধার করছে; কিন্তু বাদ দিয়ে দিচ্ছে তার শ্রেণি রাজনীতি, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের সমালোচনা এবং অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্ন। এখানে লেনিনকে খুব নির্বাচিতভাবে পড়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বামপন্থীদের শূন্যতাও এখানে বড় বিষয়।

আগামীর সময়: লেনিনীয় বিপ্লব বা প্র্যাক্সিসের ধারণাকে একধরনের জিহাদি ডিসকোর্সে বা পরিভাষার সাহায্যে হাজির করার চেষ্টা চলছে। একে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আসিফ বিন আলী: আমি এটিকে খুব ঝুঁকিপূর্ণ হাইব্রিড হিসেবে দেখি। এখানে লেনিনবাদ আর মুক্তির রাজনীতি থাকে না; তা হয়ে যায় সংগঠিত মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণের কৌশল, যা ডানপন্থার জন্য খুব সুবিধাজনক। এ প্রবণতাকে খুব সতর্কতার সঙ্গে দেখা দরকার।

আসিফ বিন আলীরাজনীতিসাক্ষাৎকাররাষ্ট্রমতাদর্শিকনাগরিক
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ২১ জুন ২০২৬
    রাত ২:০০ টা
    জার্মানি
    ২
    আইভরি কোস্ট
    ১
    ২১ জুন ২০২৬
    রাত ৪:০০ টা
    ইকুয়েডর
    ০
    কুরাসাও
    ০
    ২১ জুন ২০২৬
    সকাল ১০:০০ টা
    তিউনিশিয়া
    ০
    জাপান
    ৪
    ২১ জুন ২০২৬
    রাত ১০:০০ টা
    স্পেন
    ০
    সৌদি আরব
    ০
    কে হচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব

    কে হচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব

    ২১ জুন ২০২৬, ০৬:২৫

    হরমুজ বন্ধের ঘোষণার পরপরই লেবাননে হামলা বন্ধে নেতানিয়াহুর নির্দেশ

    হরমুজ বন্ধের ঘোষণার পরপরই লেবাননে হামলা বন্ধে নেতানিয়াহুর নির্দেশ

    ২১ জুন ২০২৬, ০০:১২

    বিশ্ব মানচিত্রে নয়া খেলোয়াড়

    বিশ্ব মানচিত্রে নয়া খেলোয়াড়

    ২১ জুন ২০২৬, ০০:৩৯

    একদিকে উদ্‌যাপন অন্যদিকে সংগীত শিক্ষায় আপত্তি

    একদিকে উদ্‌যাপন অন্যদিকে সংগীত শিক্ষায় আপত্তি

    ২১ জুন ২০২৬, ০৬:২৪

    অবিশ্বাস্য কিপিংয়ে কুরাসাওয়ের প্রথম পয়েন্ট

    অবিশ্বাস্য কিপিংয়ে কুরাসাওয়ের প্রথম পয়েন্ট

    ২১ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬

    চুক্তি মানছে না ইসরায়েল, আবার বন্ধ হরমুজ

    চুক্তি মানছে না ইসরায়েল, আবার বন্ধ হরমুজ

    ২১ জুন ২০২৬, ০৬:২২

    দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড গড়ল বিশ্বকাপ

    দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড গড়ল বিশ্বকাপ

    ২১ জুন ২০২৬, ০৯:০১

    কামাল লোহানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে উদীচীর স্মরণসভা

    কামাল লোহানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে উদীচীর স্মরণসভা

    ২১ জুন ২০২৬, ০১:০২

    ইবনে সিনায় চাকরির সুযোগ, কর্মস্থল ঢাকা

    ইবনে সিনায় চাকরির সুযোগ, কর্মস্থল ঢাকা

    ২১ জুন ২০২৬, ০৭:২৫

    মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি, ভ্যাপসা গরম থাকবে বছরের দীর্ঘতম দিন

    মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি, ভ্যাপসা গরম থাকবে বছরের দীর্ঘতম দিন

    ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪

    ৪০০ মানুষের চোখের আলো খায়রুল

    ৪০০ মানুষের চোখের আলো খায়রুল

    ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৫৬

    বছরের দীর্ঘতম দিন আজ, কার কী পরিকল্পনা

    বছরের দীর্ঘতম দিন আজ, কার কী পরিকল্পনা

    ২১ জুন ২০২৬, ০৮:১১

    সুফিয়া কামাল স্মরণে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক আয়োজন

    সুফিয়া কামাল স্মরণে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক আয়োজন

    ২১ জুন ২০২৬, ০১:৪৩

    একদিকে উদ্‌যাপন, অন্যদিকে সংগীত শিক্ষায় আপত্তি

    একদিকে উদ্‌যাপন, অন্যদিকে সংগীত শিক্ষায় আপত্তি

    ২১ জুন ২০২৬, ১৩:৩৯

    ৫০ দিন পর বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

    ৫০ দিন পর বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

    ২১ জুন ২০২৬, ০২:১০

    advertiseadvertise