Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
প্রবাসী বাকারের টাকায় শিক্ষার প্রসার
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

হেলথ সার্ভিসের সঙ্গে সংযুক্ত সবাই পরিস্থিতির জন্য দায়ী

agamir somoy
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:৪৭
হেলথ সার্ভিসের সঙ্গে সংযুক্ত সবাই পরিস্থিতির জন্য দায়ী

প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া হাম ভয়াবহভাবে ফিরেছে। এর মধ্যে হামে ঝরে গেছে ৫০০-এর বেশি শিশুর প্রাণ। আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করাও। হামসহ ইপিআই ও মহামারী প্রসঙ্গে আগামীর সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুমিতুল মিম্মা।


আগামীর সময়: হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই শিশুমৃত্যু প্রত্যক্ষ করছে বাংলাদেশ। অথচ হাম প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে বলে আমরা জানতাম। বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কোন কোন বিষয় দায়ী বলে মনে করেন?

ডা. নজরুল ইসলাম: প্রশ্নটির ব্যাপ্তি অনেক। হামের যে প্রাদুর্ভাব এখন আমরা দেখছি, সেটা এক দিনের নয়, বহুদিনের ব্যর্থতার ফল। টিকা সংগ্রহ, অর্গানাইজ করে টিকা দেওয়া ইত্যাদিতে প্রতি বছরই কোনো না কোনোভাবে ঘাটতি থেকে গেছে। আর সেটি বিস্ফোরিত হয়েছে এ বছর। এ কারণে বিষয়টি সবার নজরে এসেছে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদানে বড় ধরনের ঘাটতি এই বিস্ফোরণে সহায়তা করেছে। কম বয়সী শিশুদের হাম হওয়ার কথা নয়। মায়ের যদি টিকা নেওয়া থাকত, শিশুটি স্বাভাবিকভাবেই ৯ মাস পর্যন্ত হামের ইমিউনিটি নিয়ে জন্মাত। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সুরক্ষাবলয় আমাদের শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মায়েরা হামে ইমিউন ছিল না। মায়েদের ঘাটতি ছিল বলেই আজকে বাচ্চারা জন্ম নিচ্ছে হামের ঝুঁকি নিয়ে।


আগামীর সময়: আমাদের ইপিআই প্রোগ্রাম তো দক্ষিণ এশিয়ায় মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। তা সত্ত্বেও হামের আউটব্রেক প্রত্যক্ষ করছি কেন?

ডা. নজরুল ইসলাম: সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আমাদের এই অঞ্চলের মধ্যে একটা নামকরা প্রোগ্রাম এবং অত্যন্ত সাকসেসফুল। ইপিআইয়ের আওতায় যক্ষ্মা, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি, নিউমোনিয়া, হাম ও রুবেলা— এই ১০টি মারাত্মক রোগপ্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়। শিশুর জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত এ টিকাগুলো সময়মতো দেওয়া জরুরি। আমিও এই ইপিআইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলাম এবং দেশ থেকে পোলিও দূর করার জন্য কাজ করেছি। বাংলাদেশে অফিসিয়ালি ২০০৬ সালে সর্বশেষ পোলিও মাইলোসিস কেস পাওয়া গেছে, যেটির জন্য ভারতকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। পোলিওমুক্ত প্রজেক্টে দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছি আমরা। এটি শুরু হয়েছিল ইপিআইয়ের হাত ধরেই। কিন্তু এতকিছুর পরও আমাদের সবার অজ্ঞাতে হামের টিকায় ঘাটতি পড়ে গেছে। হয়তো আমরা পোলিওতে বেশি নজর দিয়েছি, হামে নজর কম পড়েছে। না হলে এখন এসে এভাবে আউটব্রেক হবে কেন? আর আমাদের খামখেয়ালির ফলাফল বহন করতে হচ্ছে ফুটফুটে শিশুদের। এর বেশিরভাগ দায় ইউনূস সাহেব সরকারের।

আমাদের হেলথের যিনি ইনচার্জ ছিলেন, নুরজাহান ম্যাডাম— তিনি কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে এটিও বলতে হবে, শুধু একজন লোকের জন্য এই বিশাল টিকা কেনার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, তা হতে পারে না। সুতরাং সে সময় আমাদের ইপিআই ও হেলথ সার্ভিসের সঙ্গে সংযুক্ত সবাই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাদের কেউই দায়িত্ব এড়াতে পারে না

আগামীর সময়: ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করার দাবি করেছে। তারা বলছে, ইউনূস সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বসেছেন, অফিসিয়ালি চিঠি দিয়েছেন। তারপরও বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটি কি অসতর্কতা, নাকি দায়িত্বহীনতা?

ডা. নজরুল ইসলাম: দুটিই। অসতর্কতা তো বটেই, দায়িত্বজ্ঞানহীনতাও রয়েছে। এখানে আরেকটি বিষয় আছে, এ সময় আমাদের হেলথের যিনি ইনচার্জ ছিলেন, নুরজাহান ম্যাডাম— তিনি কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে এটিও বলতে হবে, শুধু একজন লোকের জন্য এই বিশাল টিকা কেনার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, তা হতে পারে না। সুতরাং সে সময় আমাদের ইপিআই ও হেলথ সার্ভিসের সঙ্গে সংযুক্ত সবাই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাদের কেউই দায়িত্ব এড়াতে পারে না। কেউ বলতে পারবে না, আমি অন্য সেক্টরে ছিলাম, আমি হসপিটালের অমুক বিভাগের দায়িত্বে বা মেডিকেল শিক্ষা বিভাগে ছিলাম— সেজন্য আমি বিষয়টি জানি না। এটা হওয়া সম্ভব নয়। কারণ ডিজি অফিসে কম্বাইন্ড মিটিং হয় এবং সবকিছু নিয়ে আলোচনা করা িহয়। সেখানে নিশ্চিতভাবে টিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলে সবাই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তবে, মায়েদেরও হামের টিকা নেওয়া হয়নি, এই মায়েদের বয়স ১৬-২৪ বছর। ফলে গত দুই-আড়াই দশকে যে সরকারই এসেছে, কেউ এর দায় এড়াতে পারে না।


আগামীর সময়: মায়েদের টিকা নেওয়ার কথা বললেন, সেক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান কীভাবে করতে হবে? যেহেতু সমস্যাটা বহুদিনের...

ডা. নজরুল ইসলাম: ভবিষ্যতে আউটব্রেক ঠেকাতে যেসব মেয়ের বিয়ে হয়েছে; কিন্তু সন্তানসম্ভবা নন, সবাইকে নতুন করে হামের টিকার আওতায় আনতে হবে। এতে পরে তার সন্তান হলে স্বাভাবিকভাবে আমাদের নতুন প্রজন্ম মায়েদের কাছ থেকে ম্যাটারনাল ইমিউন নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। এতে ৯ মাস পর্যন্ত শিশুটি প্রটেক্টেড থাকবে। এরপর সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে।


আগামীর সময়: আমাদের হার্ড ইমিউনিটি ভাঙার পেছনে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আর কোন কোন কারণকে চিহ্নিত করবেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকাবিরোধী প্রচারও লক্ষ করা গেছে...

ডা. নজরুল ইসলাম: প্রধানত সরকার দায়ী। টিকাদানের কাজটি হেলথ সার্ভিস ও সরকারের দায়িত্ব। তবে সমাজেরও দায়িত্ব আছে। অনেকে টিকাবিরোধী প্রচার চালায়, তাদের মোকাবিলা করতে হবে। টিকা নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে সমাজের দায়িত্বশীল মানুষদের। কারণ যারা টিকাবিরোধী প্রচার চালায়, তারা অজ্ঞতা থেকে করে, তাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক ও ধর্মীয় জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। সঠিকভাবে না জেনে কিছু বলা বা করা সব ধর্মেই নিষেধ। ইপিআই সিস্টেম বাংলাদেশ তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মডেল। এ কাজের বিরোধিতা করতে গেলে তাকে অবশ্যই সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করতে হবে। প্রমাণ দিতে না পারলে তাদের কঠোর হাতে দমন করার কাজটি সরকারের।


আগামীর সময়: হাম পরিস্থিতি বাংলাদেশ একা মোকাবিলা করছে না। ২০২৪-২৬-এর মাঝে বিশ্বের অনেক দেশে হামের আউটব্রেক লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যে জাপান, ইউএসএ ও কানাডার নাম উল্লেখযোগ্য।

ডা. নজরুল ইসলাম: জাপান, কানাডা, ইউএসএ— এগুলো উন্নত দেশ। তাদের ওখানে কভিডও অনেক বেশি এফেক্ট করেছিল। কারণ ওই দেশগুলোতে প্রচুর লোক ভ্রমণ করে। মানে তাদের বর্ডার দিয়ে নিয়মিত মানুষ ঢোকে এবং বের হয়। ফলে তাদের কার কার কী কী টিকা দেওয়া নেই, তা খেয়াল করা সম্ভব নয়। আবার টিকাদানে ঘাটতির বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। ফলে সবসময়ই ওরা খুব ভালনারেবল থাকে। আমেরিকার টেক্সাসে এবং কানাডার অন্টারিওতে এভাবেই হামের বিস্তার ঘটেছে। জাপানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই।


আগামীর সময়: টিকাদান কার্যক্রমের প্রচার থেকে আমাদের সরকার কি খানিকটা সরে এসেছিল, যার প্রভাবে সমাজে টিকা নেওয়ার গ্রহণযোগ্যতাও কমে এসেছিল?

ডা. নজরুল ইসলাম: এটাকে বলব লেথার্জিক বা ফ্যাটিগ। যেকোনো কার্যক্রমের শুরুতে ডিপার্টমেন্টগুলো খুবই উৎসাহ নিয়ে কাজ করে। কিছুদিন পর তারা লেথার্জিতে ভোগে, ফ্যাটিগ হয়ে পড়ে। এই হাঁপিয়ে ওঠার কাজটি অজানা। এটি থেকে কার্যক্রমগুলোকে বাঁচাতে পারে লিডিং পার্সোনালিটি। ফলে নেতৃত্বের শূন্যতা আমাদের সবকিছুকে অনেক বেশি ভোগায়। আমাদের ইপিআইয়ে ভালো এক নেতা ছিলেন। তার নাম হচ্ছে ডক্টর লুৎফুর রহমান সরকার। তার উৎসাহে আমাদের ইপিআই সিস্টেমটা বড় হয়েছে। অবশ্যই রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি।


আগামীর সময়: উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই এপ্রিল থেকে নতুন করে টিকাদান শুরু হয়েছে। এসব টিকার বেশ কয়েকটি লট এসেছে। সেটা কি এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত?

ডা. নজরুল ইসলাম: এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। আমরা এমনি পপুলেশনের স্ট্যাটিস্টিকস জানি। বছরে কটি বাচ্চার জন্ম হয়, কতজন তরুণী মা হবেন, কতগুলো শিশু স্কুলে পড়ে ইত্যাদির হিসাব করে টিকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। সবটা না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।


আগামীর সময়: হাম বা এর উপসর্গ নিয়ে যেসব শিশু ভর্তি হচ্ছে, তাদের প্রায় প্রত্যেকেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে কেন? এ অবস্থায় প্রপার আইসিইউ ব্যবস্থাপনা না থাকায় অনেক শিশু জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কেন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য আরও বৃহৎ পরিসরে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না?

ডা. নজরুল ইসলাম: বিগত আওয়ামী সরকার প্রতিটি উপজেলা ও জেলা হাসপাতাল, কলেজ ও ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আইসিইউ তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল। সে নির্দেশ কি পালিত হয়েছে? যে শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তারা যদি ইমিউন না হয় তাহলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়া ছাড়াও কনজাংকটিভাইটিস, ক্রনিক ডায়রিয়া ও মধ্যকর্ণে অটাইটিস ইনফেকশন হতে পারে। কিন্তু এ সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শ্বাসযন্ত্রের কোনো না কোনো ইনফেকশন। এ কারণে বলা হয়, হাম মানুষকে মারে না; কিন্তু হামের কারণে উদ্ভূত জটিলতাই মানুষকে মেরে ফেলতে যথেষ্ট। যদি বুকের ইনফেকশনটা আমরা সামলে ফেলতে পারি, তাহলে শিশুগুলোর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে যায়। এটি করতে গেলে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা হাসপাতাল, কলেজ ও ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আইসিইউর দরকার।

ভবিষ্যতে আউটব্রেক ঠেকাতে যেসব মেয়ের বিয়ে হয়েছে; কিন্তু সন্তানসম্ভবা নন, সবাইকে নতুন করে হামের টিকার আওতায় আনতে হবে। পরে মায়েদের কাছ থেকে ম্যাটারনাল ইমিউন নিয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে


আইসিইউব্যবস্থা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা কোনো মুখের কথা নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে টাকা দিতে হবে, প্রশিক্ষিত জনবলের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পুরো ব্যবস্থাটির দেখভাল করতে হবে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, হেলথ সার্ভিসের সবাই সিস্টেমটিকে গড়ে তোলার কাজে সচেষ্ট নয়, সবাই টাকার ভাগ চায়। আর মন্ত্রণালয় হেলথ সার্ভিসে টাকা দিতে চায় না। ফলে যেটুকু টাকা আমরা পাই, তাও পরিপূর্ণরূপে ব্যবহার করতে পারি না। এটা একটা দুষ্টচক্র। হেলথ সার্ভিসে থাকা প্রতিটি লোক গ্রাম থেকে সবাইকে শহরে আসতে বাধ্য করে। চিকিৎসা আমাদের মৌলিক অধিকার হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্য খাতে খুব সামান্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই সামান্য বরাদ্দে হেলথ সিস্টেমের উন্নতি করা সম্ভব নয়।


আগামীর সময়: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক হারে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ লক্ষ করা যাচ্ছে। এই প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে আপনি মনে করেন?

ডা. নজরুল ইসলাম: ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ একটি বিরাট ফ্যাক্টর। পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগটাও দরকার। হাম যেমন নিঃশ্বাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে, ডেঙ্গু সেরকম নয়। ফলে মশকনিধন কর্মসূচি খুবই জরুরি। এটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারের। রাস্তা-ঘাট-ড্রেন এগুলোয় যেন লার্ভা বেড়ে উঠতে না পারে, সেটি দেখভাল করবে সরকার। আর বাসাবাড়ির ভেতরে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব দেশের সব নাগরিকের। তবে সরকারিভাবে যে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়, সেটি যথেষ্ট নয়।

আমরা হলাম দুর্নীতিপরায়ণ জাতি। ডেঙ্গুর জন্য যে ইনসেকটিসাইড (লারভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড) আনা হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলোয় ভেজাল মেশানো হয়। ফলে মানুষের জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলোতে আমরা ভেজাল দিচ্ছি, অর্থাৎ প্রতি বছর কোনো না কোনোভাবে একটি গণহত্যায় শামিল হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তিন গ্যালন ওষুধের দুই গ্যালন বিক্রি করে এক গ্যালনের ভেতরে পানি মিশিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছি। সিটি করপোরেশনের যিনি কাজটি করছেন, তার চোখে হয়তো এই অপরাধের মাত্রা সামান্য অথচ শত শত মানুষ মারা যেতে পারে তার ওই এক কাজে।


আগামীর সময়: একাধিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছেন, ‘ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বৃদ্ধির পেছনের প্রধান কারণ অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যব্যবস্থা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর করতে না পারলে এ সময় সংকট বাড়বে।’ একটু ব্যাখ্যা করবেন...

ডা. নজরুল ইসলাম: আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবকিছু ঢাকায় কেন্দ্রীভূত। এখানে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যায়। আমরা যদি পেরিফেরি বদলে জেলা শহরগুলোতে যাই, তাহলে দেখব স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্রমেই ঢিলে হয়ে আসছে। একেবারে গ্রামে গেলে দেখব আরও খারাপ। আমি রুরাল হেলথ সেন্টার বা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হার্টের অপারেশন করাতে পারব না। সেটি মেনে নিয়ে আমি সেই রোগীটিকে দ্রুত ঢাকার হাসপাতালে রেফার করব এবং তাকে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। সুচিকিৎসার জন্য রোগীকে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না, আমাদের ইন্টারনাল সিস্টেমই তার জন্য সে ব্যবস্থা করে দেবে। দীর্ঘসূত্রতা দূর করে রেফারেল সিস্টেম আপডেট করতে হবে। দরিদ্র মানুষটিকে বাঁচিয়ে রেখে তাকে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা দেওয়ার কাজটিই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাজ।


আগামীর সময়: বাংলাদেশ প্রতি বছরই কোনো না কোনোভাবে বিভিন্ন মহামারীর মুখোমুখি হচ্ছে। হামের মতো নির্মূল হওয়া রোগ আবারও ফিরে আসছে। মহামারী ব্যবস্থাপনায় আমাদের সক্ষমতা বর্তমানে কেমন?

ডা. নজরুল ইসলাম: যেগুলো ইনফেকশন ডিজিজ অর্থাৎ যেগুলো ছড়ায়, সেগুলো ঠেকানোর জন্য তো আমাদের ভ্যাকসিনেশন আছে। তারপর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি রয়েছে। ডেঙ্গুতে মশা নির্মূলকরণ ব্যবস্থা রয়েছে, র‍্যাবিসে আক্রান্ত কুকুর-বিড়াল-শেয়াল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। আবার সারা দেশে যেন কুকুর-বিড়ালের আঁচড়-কামড়ের ক্ষেত্রে মানুষকে দ্রুততম সময়ে টিকা দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থাও রয়েছে। আমাদের চলমান সুরক্ষা ব্যবস্থাটি যেন বজায় থাকে সরকারকে সেদিকটি দেখতে হবে। না হলে এই ইনফেকশন ডিজিজ থেকে মহামারী শুরু হয়ে যেতে পারে। এক্সপার্টদের নিয়ে আলোচনা করে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বপ্রথম আমরা যেমন পোলিও দূর করেছি। মুখে খাওয়ার উপযোগী পোলিও ভ্যাকসিন দিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল; কিন্তু বর্তমানে সেটি ইনজেক্টেবল। অর্থাৎ কৌশল পরিবর্তন করেছি, দূরীভূত করেছি; কিন্তু প্রাথমিক ব্যবস্থা দিয়েই। সেরকম আন্তরিক চেষ্টায় যেকোনো মহামারী ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব। ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া নিয়েও আমাদের এরকম স্ট্র্যাটেজি সৃষ্টি করতে হবে।

আমাদের সক্ষমতার বিচার করার আগে দায়িত্বজ্ঞানের জায়গাটি আগে দেখতে হবে। আমাদের দায়িত্বজ্ঞানের অভাব হামের পুরো চিত্রটি আলাদা করে দিল। অভিভাবকেরা শিশুদের মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন, এটি দেখে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের মাথা নিচু হয়ে যাওয়ার কথা। নিজের দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালনের শিক্ষা আগে আমাদের দিতে হবে। প্রতিটি কাজের একটি পরিণতি রয়েছে। সেটি নিয়ে বিশদে কাজ করতে হবে।

 

 

হেলথ সার্ভিসহামভয়াবহশিশুর প্রাণসম্পাদকীয়সাক্ষাৎকার
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ১০ জুলাই ২০২৬
    রাত ২:০০ টা
    ফ্রান্স
    ০
    মরক্কো
    ০
    ১১ জুলাই ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    স্পেন
    ০
    বেলজিয়াম
    ০
    ১২ জুলাই ২০২৬
    রাত ৩:০০ টা
    নরওয়ে
    ০
    ইংল্যান্ড
    ০
    advertisement
    advertisement
    হাসপাতাল ছাড়া জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়

    হাসপাতাল ছাড়া জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০:৩০

    শোকের মধ্যেই ইরানে পাল্টা হামলা, ভাঙনের মুখে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা

    শোকের মধ্যেই ইরানে পাল্টা হামলা, ভাঙনের মুখে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৯

    আবার কাঁদল কারবালা

    আবার কাঁদল কারবালা

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:১১

    প্রবাসী বাকারের টাকায় শিক্ষার প্রসার

    প্রবাসী বাকারের টাকায় শিক্ষার প্রসার

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫

    খামেনি অমর, অম্লান তার আদর্শ

    খামেনি অমর, অম্লান তার আদর্শ

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৭

    ‘কপালে ভাঁজ’ প্রশাসনের হাজার কর্মকর্তার

    ‘কপালে ভাঁজ’ প্রশাসনের হাজার কর্মকর্তার

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৮

    বিপিডিবির সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের চুক্তি

    বিপিডিবির সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের চুক্তি

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৭

    বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান সম্পর্ক বহুমুখীকরণে জোর

    বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান সম্পর্ক বহুমুখীকরণে জোর

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৭

    ভারতের সরকার ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে জবাবদিহির নির্দেশ হাইকোর্টের

    ভারতের সরকার ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে জবাবদিহির নির্দেশ হাইকোর্টের

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫

    পরিকল্পনার গলদে মিলছে না মুক্তি

    পরিকল্পনার গলদে মিলছে না মুক্তি

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৩

    মাঠে তার হাঁটুজল থাকে

    মাঠে তার হাঁটুজল থাকে

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০

    ছুটির ঘণ্টার আগেই শিশুদের মৃত্যুঘণ্টা

    ছুটির ঘণ্টার আগেই শিশুদের মৃত্যুঘণ্টা

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৮

    বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ

    বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৪

    আজকের নামাজের সময়সূচি (০৯ জুলাই)

    আজকের নামাজের সময়সূচি (০৯ জুলাই)

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬

    ট্রাম্পের হুমকির পরপরই ইরানে ফের বোমা হামলা

    ট্রাম্পের হুমকির পরপরই ইরানে ফের বোমা হামলা

    ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯

    advertiseadvertise