আগামীর চোখ
কাঁঠাল এখন কেমিক্যালে পাকে

প্রিয়
মহানুভব আড়তদার,
সালাম-আদাব জানবেন। আপনি শহরের বড় ব্যবসায়ী, মস্ত আপনার কারবার। আমরা গ্রামের চুনোপুঁটি চাষি, গাছের যত্নআত্তি করাই আমাদের কাজ। মেহেরপুরের গাছে গাছে এখন কাঁঠালের মেলা। ১৬৩ হেক্টর জমিতে ফলন উপচে পড়ছে। লক্ষ্যমাত্রা নাকি সাড়ে নয় হাজার টন। আমাদের বুক তো গর্বে ভরে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু বুক কাঁপছে আতঙ্কে। আমরা বুক দিয়ে আগলাচ্ছি ফল। আর আপনারা পিঠ চাপড়ে বিষ খাওয়াচ্ছেন।
প্রাকৃতিক নিয়মে কাঁঠাল পাকতে একটু সময় লাগে। সবুরেই তো মেওয়া ফলে, নাকি? কিন্তু আপনাদের তর সইছে না। গাছ থেকে নামানোমাত্রই স্প্রে করে দিচ্ছেন কেমিক্যাল। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ! দু-এক দিনেই সবুজ কোড়ো কাঁঠাল একেবারে লাল-টকটকে পাকা!
সব কাঁঠাল একসঙ্গে পেকে গেলে আপনাদের বেচতে সুবিধে, মানছি। কিন্তু ক্রেতাদের মারার বন্দোবস্ত করছেন কেন? পুষ্টিবিদরা তো বলছেন, অপরিণত ফলে বিষ ঢাললে পুষ্টিগুণ কর্পূরের মতো উড়ে যায়। স্বাদ-গন্ধও গায়েব। চিকিৎসকরা আবার পেটের রোগের ভয় দেখাচ্ছেন। হজমশক্তি নাকি একেবারে তলাানিতে গিয়ে ঠেকবে।
বলি, বিষের ইনজেকশন দিয়ে ফল লাল করার এই যে মরণখেলা, এর শেষ কোথায়? ক্রেতারা তো আর ল্যাবরেটরি নিয়ে বাজারে যান না যে পরখ করে কিনবেন! তারা সরল বিশ্বাসে বিষ কিনে ঘরে ফিরছেন, আর আপনাদের ক্যাশবাক্স ফুল-ফেঁপে উঠছে। এই পাপের টাকা রাখবেন কোথায়?
আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ! দু-এক দিনেই সবুজ কোড়ো কাঁঠাল একেবারে লাল-টকটকে পাকা!
অবশ্য আপনার দোষ দিয়েও লাভ নেই। আপনার মতনই এক ফলের আড়তদার তো বলেই দিলেন এই কেমিক্যাল শরীরে কী ক্ষতি করে, তিনি নাকি জানেনই না! আহা, কী নিষ্পাপ... যেন প্রায় শিশু! কেমিক্যাল বিষ, ইহা শিশুদের ও আড়তদারদের হাত থেকে দূরে রাখুন!
অবশ্য, টাকার গন্ধ পেলে বোধহয় বিষের গন্ধ আর নাকে ঢোকে না। কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, কাঁঠাল পাকাতে কেমিক্যাল দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে আপনাদের লোভের কাছে আইন কতটা টিকবে, তা বিধাতাই জানেন।
আড়তদারবাবু, মেহেরপুরের কাঁঠাল এখন কেবল সবজি হিসেবে খাওয়ার উপযুক্ত। এঁচড়ের ডালনা রাঁধুন, আপত্তি নেই। কিন্তু জোর করে পাকাতে যাবেন না। কেমিক্যালের ম্যাজিকে কাঁঠাল তো পাকছে, কিন্তু সাথে মানুষের আয়ুটাও পেকে যাচ্ছে। মানুষকে বিষ খাইয়ে কোটিপতি হয়ে কী লাভ?
দয়া করে কেমিক্যালের বোতলটা এবার দূরে রাখুন। কাঁঠালকে একটু নিজের মতো করে বাঁচতে দিন। মানুষগুলোকে সুস্থ থাকতে দিন।
ইতি
মেহেরপুরের এক ভুক্তভোগী কাঁঠালচাষি




