আগামীর চোখ
পরীক্ষার আর দরকার কী!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
শিক্ষামন্ত্রী
আপনার ভয়ে বাচ্চারা পড়তে বসে গেছে। বড়রাও কমবেশি পড়ার টেবিলের কাছাকাছিই থাকছে। প্রচার কাজে দিচ্ছে বলা যায়। কিন্তু আমার খটকা লাগছে অন্য জায়গায়। আপনার ফেভারিট সেক্টর ‘নকল ঠেকাও’-এর কী হবে!
পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্রে ঘষামাজা বা যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে শাস্তির প্রস্তাব করেছিল ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় ১০ বছরের কারাদণ্ড নেমে এলো পাঁচ বছরে! আর ১ কোটি টাকার বিষয়টি হয়ে গেল গায়েব! সত্যি বলছি মন্ত্রী মহোদয়, প্রাথমিক শাস্তির প্রস্তাবটি দেখে ভেবেছিলাম, এবার বোধহয় আমাদের ডিজিটাল চোর-নকলবাজ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস শিল্পের উদ্যোক্তারা ফ্যাক্টরির দরজায় তালা দিতে যাচ্ছে। তাদের মেধা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহারে আপনাকে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার কথাও ভাবছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় যে লাফ দিলেন, তাতে আমার প্রস্তাব দেওয়ার সুপ্ত বাসনা গুপ্ত হয়ে গেল। অন্যদিকে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের বেরিয়ে আসার রাস্তা তৈরি হলো। এমন দয়ার পরশ বইতে থাকলে একসময় তারা ট্রেড লাইসেন্সও চেয়ে বসতে পারে।
অন্যদিকে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের বেরিয়ে আসার রাস্তা তৈরি হলো
শাস্তির এই মেগা ডিসকাউন্টের পর পরীক্ষার হলে গোপন ডিভাইস ব্যবহারের দরকার হবে না। আর যদি এরকম কিছু হয়, হেলিকপ্টার নিয়ে আপনি তো প্রস্তুত রয়েছেনই। তবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রশ্ন আদান-প্রদান করা ভাই-ব্রাদার কিংবা প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রকে কাবু করার ক্ষেত্রে আপনার প্রস্তুতি নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। দেখা গেল, আপনি হেলিকপ্টার নিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া উড়ে বেড়াচ্ছেন আর নিচে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্র আরামসে প্রশ্ন বিক্রি করে যাচ্ছে! মানে ফুটো নৌকায় পানি সেচার মতো পরিস্থিতি হবে। যতক্ষণে সার্বিক পরিস্থিতি বুঝবেন, ততক্ষণে মাছ নিয়ে যাবে চিলে।
অপরাধীদের প্রতি মায়া দেখানো চূড়ান্ত খসড়াটি সংসদে পাস করিয়েই ফেলুন। বড়জোর কী হবে? দেশের সৎ ও পরিশ্রমী পরীক্ষার্থীরা না হয় একটু কাঁদবে, তাদের জায়গায় অযোগ্যরাই না হয় বড়সড় পদে বসবে। এ আর এমন কী!
আইনের মারপ্যাঁচ নিয়ে ভাবি না তেমন। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ভাবি। যদিও শিক্ষাব্যবস্থা বলে তেমন বিশেষ কিছু অবশিষ্ট নেই। যতটুকু আছে, সেখানেও যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের দৌরাত্ম্য চলে, তাহলে দেশে ঘটা করে আর পরীক্ষার আয়োজনের দরকার কী? শাস্তির মাত্রা কমিয়ে আর যাই হোক— নকল আর নকল ব্যবসা ঠেকানো যাবে না।
ইতি
এক সচেতন নাগরিক




