পিআইএফ গভর্নর
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ টিকিয়ে রেখেছিল সৌদি পাইপলাইন

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার পড়েছিল হুমকিতে। তবে তা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সৌদি আরবের পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী তেল পাইপলাইনের পেছনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বৃহস্পতিবার রোমে এফআইআই প্রায়োরিটি ইউরোপ সম্মেলনে এমন কথা জানান সৌদির পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) গভর্নর ইয়াসির আল-রুমাইয়ান। বক্তব্যে তিনি জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি রক্ষায় রিয়াদের ভূমিকা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি সৌদি উপদ্বীপ জুড়ে নির্মিত ওই পাইপলাইনের কৌশলগত গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।
ইয়াসিরের বক্তব্য, ‘আশির দশকে আমরা একই ধরনের একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম। যখন ইরানি শাসনব্যবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আমাদের রাজ্যের পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে একটি পাইপলাইন থাকবে।’ তিনি আরও জানান, পাইপলাইনটি সৌদি অর্থনীতির জন্য একটি জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা না থাকলে বিশ্ব অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ত। এমনকি আমরা যে অবস্থার মধ্যে ছিলাম তার চেয়েও খারাপ। কারণ, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তেলের মজুদ সীমিত। তিনি যুক্তি দেন, জ্বালানির ক্ষুধার্ত বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পারমাণবিক শক্তিসহ নতুন জ্বালানির উৎসগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক।
আল-রুমাইয়ানের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে আমরা এটি খুব স্পষ্টভাবে দেখেছি। বিশ্ব জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ছাড়া চলতে পারে না। তেল ও গ্যাসের বাইরেও তিনি উল্লেখ করেন, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প প্লাস্টিক, পলিমার, সার, কীটনাশক, ব্যক্তিগত পরিচর্যা সামগ্রী এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পণ্যসহ বহু শিল্প খাতের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। যেগুলো খাদ্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাওয়া বিশ্ব শুধু বেশি ব্যয়বহুল জ্বালানিতে সরে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলবে— এমনটা ভাবা যায় না। আরও বেশি জ্বালানি প্রয়োজন বিশ্বের। আমরা বলতে পারি না, ‘ঠিক আছে, আমি আপনাকে জ্বালানি দেব।’
ইউরোপের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে আল-রুমাইয়ানের ভাষ্য, সম্মেলনের আলোচনায় ইউরোপ মুদ্রাস্ফীতির দিকে এগোচ্ছে কি না, তা গুরুত্ব পেলেও সামনে এগোনোর একমাত্র পথ হলো বিনিয়োগ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০১৭ সাল থেকে পিআইএফ ইউরোপ জুড়ে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে আনুমানিক ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মসংস্থান।
আল-রুমাইয়ান পিআইএফের সদ্য অনুমোদিত ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের দিকে কৌশলগত পুনঃসমন্বয় একটি স্বাভাবিক বিবর্তন। তবে সার্বভৌম তহবিলটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। তিনি ছয়টি নতুন ইকোসিস্টেমকেন্দ্রিক অগ্রাধিকার খাতের কথা তুলে ধরেন— পর্যটন, নগর উন্নয়ন, উন্নত উৎপাদন, শিল্প ও লজিস্টিকস, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং নিওম।




