কাতারে ইরানের জব্দ হওয়া অর্থ
মার্কিন পণ্য কেনার কড়া শর্তে ছাড় ৬ বিলিয়ন ডলার

সংগৃহীত ছবি
কাতারে সংরক্ষিত ইরানের জব্দ হওয়া ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানবিক ও নিষেধাজ্ঞামুক্ত পণ্য কেনার অনুমতি দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বুধবার সই হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তির অধীনে কেনা যাবে এ পণ্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে এ তথ্য।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ পদক্ষেপ সেই জব্দ হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আর্থিক প্রণোদনার অংশ, যা ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক আলোচনা এগিয়ে নিতে এবং বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে একটি প্রস্তাব।
হরমুজ প্রণালির পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া এবং আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে চুক্তিতে নির্ধারিত ৬০ দিনের বর্ধিত যুদ্ধবিরতির সময় থেকে ধাপে ধাপে এ অর্থ ছাড়া হবে। চুক্তি সম্পর্কে অবহিত এক কূটনীতিক জানান, এ অর্থ শুধু মার্কিন পণ্য ক্রয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, যদি ইরান ভালো আচরণ করে, তবে চূড়ান্ত আলোচনার সময় ওয়াশিংটন কিছু অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করবে। যেমন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর। এ ছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ শিথিল করবে এবং ৬০ দিনের মেয়াদে ইরানকে তেল রপ্তানির অনুমতি দিতে একটি অব্যাহতি প্রদান করবে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন, জাপান, ভারত এবং ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইরানের তেল বিক্রির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার জমাট অবস্থায় রয়েছে। তবে এই ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী সময়ে ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্তির প্রত্যাশা করছে তেহরান।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাইডেন প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তিতে পৌঁছানোর পর দক্ষিণ কোরিয়ায় সংরক্ষিত ৬ বিলিয়ন ডলার দোহায় একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলের ওপর হামলার পর এই তহবিলে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় ইরানকে। আগের ব্যবস্থাটি পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়ার পর আস্থা বৃদ্ধির একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
সাম্প্রতিক শর্তগুলোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দাবি করছেন যে, এই অর্থ ইরানেরই সম্পদ। কঠোর নির্দেশিকার আওতায় তা ফেরত দেওয়া মার্কিন উৎপাদক ও মানবিক বাণিজ্য— উভয়ের জন্যই উপকারী।
কিছু রিপাবলিকান এবং ট্রাম্পের অন্যান্য সমালোচক এরই মধ্যে এ অস্থায়ী চুক্তির সমালোচনা শুরু করেছেন। তাদের দাবি, তেহরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এ বিতর্ক এমন সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ একটি গুরুতর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে। যে পথ দিয়ে একসময় বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।




