সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
সুখের দেশের সেই রূপসী রিসোর্ট যেন দুর্গ

সংগৃহীত ছবি
সুইজারল্যান্ড। ইউরোপের এই রূপের রানীর হাজারো পরিচয়। পৃথিবীর স্বর্গ। ইউরোপের হৃৎপিণ্ড। ঘড়ির জন্য বিখ্যাত ভূখণ্ডটি চকলেট দেশ নামেও পরিচিত। তবে সবচেয়ে বড় তকমাটি হলো সুখের দেশ। বিশ্ব তালিকায় দশে। বহু ভাষার দেশ এ সুইজারল্যান্ডের মেঘকন্যা বুর্গেনস্টক পাহাড়চূড়ার বুর্গেনস্টক রিসোর্টে বসছে শান্তির মেলা। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা। কর্মক্লান্ত রুটিন জীবন ফেলে পরিবার-প্রিয়জন নিয়ে পর্যটকদের মনোরম সময় কাটানোর এ রিসোর্ট এখন পরিণত হয়েছে দুর্গে। দুই হাজার সেনা বেষ্টনীতে ঘেরা সমরাস্ত্র সজ্জিত ব্যারাক! প্রতি কিলোমিটারে বেড়া আর ব্যারিকেড। পদে পদে পাহারা। আকাশপথেও অবরোধ। জারি করা হয়েছে ‘নো ফ্লাই জোন’। পাহাড়ের ওপরসীমায় বিমান চলাচল নিষিদ্ধ।
লুসার্ন নদীর কোলঘেষাঁ ভূমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ফুট ওপরের অভিজাত এ রিসোর্ট বরাবরই বিশ্বনেতাদের পছন্দের শীর্ষে। সমঝোতা দরজা খুলতে সবাই ছুটে যান সেখানে। শুধু বিশ্ব রাজনীতিই নয়, বিশ্ব চলচ্চিত্ররও আঁতুড়ঘর এ বুর্গেনস্টক।
রূপালী পর্দার রূপবানরাও তাদের শুটিংয়ের জন্য ছুটে আসেন এই রূপনগরে। ছবির চেয়েও সুন্দর এ অঞ্চলে তাদের আনাগোনা গত দেড়শ বছরের। রাজনীতিবিদ, তারকা, বিত্তবান সবাই।
২০২৪ সালের জুনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির বৈঠকের পর এবার রিসোর্টটিতে আলোচনায় বসার কথা ছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের। বুধবার (১৭ জুন) ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এ ঘোষণা দিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। তাদের মধ্যকার শান্তিচুক্তি আলোচনা শুক্রবারেই হবে বলে নিশ্চিত করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বৃহস্পতিবার সে আলোচনা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।
অথচ নিরাপত্তার তাগিদে তেহরান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পর্বতচূড়ায় আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান আর কাতার। পুরো বিশ্বের চোখ ছিল বুর্গেনস্টকের রিসোর্টের দিকে। এ উপলক্ষে প্রকৃতির বুকের এই ‘এক টুকরো স্বর্গ’কে নিরাপত্তায় মুড়িয়ে ফেলেছিল সুইস সরকার। পর্বত এলাকাটি সুরক্ষিত করতে মোতায়েন করেছিল সামরিক বাহিনী। রিসোর্টের তিন দিকেই পানি। একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এই এলাকা ঘিরে ফেলা তুলনামূলকভাবে বেশ সহজ। নিরাপত্তা স্বার্থে রিসোর্টে পর্যটকদের আনাগোনা, জনসমাগম একদমই নিষিদ্ধ করেছিল সুইস সরকার। বাতিল করা হয়েছিল আগেই বুক করা অতিথিদের রেজিস্ট্রেশন। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক রেলব্যবস্থা (ফানিকুলার) আর আঁকাবাঁকা রাস্তার ব্যবহারও সিল করা হয়েছিল। জরুরি প্রয়োজনে প্রবেশাধিকার ছিল শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের।




