গ্যাস সংকট সমাধানে রোমান থিওরি!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ
খালি পেটের অন্তহীন হাহাকার থেকে আপনাকে লিখছি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী। গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের হলে লাকড়ির চুলা জ্বলছে। হলগুলোর ক্যান্টিনে প্রতিদিন দুই-তিন মণ লাকড়ি পুড়িয়ে তবেই খাবার রান্না করতে হচ্ছে। রান্না করতে সময়ও বেশি লাগছে। ক্যান্টিন পরিচালকের বাড়তি খরচ হওয়ায় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। পরিস্থিতি যা দেখছি, তাতে আগে পরে দাম বাড়বেই। ফলে সংকট সমাধানে এবং আমাদের খরচ বাঁচাতে ইতিহাস ঘেঁটে একটি পথের সন্ধান বের করেছি।
প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে আগুন কিংবা চুলা জ্বালানো আইনত নিষিদ্ধ ছিল। ফলে সাধারণ রোমান জনগোষ্ঠী রাস্তার ধারের থার্মোপোলিয়াম বা খাবারের দোকানের ওপর নির্ভর করত। এখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও শহরে যেভাবে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে প্রাচীন রোমের পথে হাঁটা যেতে পারে। এভাবে চললে সে পথে যেতে বেশিদিন অবশ্য লাগবে না। তাই আগে থেকে একটা প্রস্তুতি রাখলে ভালো হয় না?
অবশ্য খাবারের লাইনে দাঁড়ানোর জায়গা নিয়ে ব্যবসা শুরু হয় কি না তার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না
একবার পরীক্ষামূলকভাবে রোমান ব্যবস্থার প্রচলন করেই দেখতে পারেন। প্রথমে রাষ্ট্রীয়ভাবে চুলা জ্বালানো সম্পূর্ণরূপে বেআইনি ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একটি গেজেট জারি করুন। তারপর শহরের মোড়ে মোড়ে জনসংখ্যা অনুপাতে রোমানদের মতো খাবারের দোকান চালু করে দিন। সিরিয়াল এবং শিডিউল কিন্তু ঠিকঠাক রাখতে হবে, নইলে সেখান থেকে নতুন সংকট শুরু হতে পারে। অবশ্য খাবারের লাইনে দাঁড়ানোর জায়গা নিয়ে ব্যবসা শুরু হয় কি না, তার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। ওটা আপনার সেক্টর নয়। এ দিকটা ভেবে দেখিনি, যদি চান তবে ভেবে দেখতে পারি।
আমাদের ক্যাম্পাসে কয়েকটি খাবারের দোকানের শাখা খুলে দিলেই চলবে। তাহলে আর শহরের অন্য দোকানগুলোতে গিয়ে ভিড় করব না। এমনিতে লক্ষ্য তো পেটের খিদা মেটানো এবং খরচ বাঁচানো; ফলে শহরের অন্য দোকানে না যেতে হলেই বরং বাঁচি!
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, ঘরের কিংবা হলের (হল ছিল কি না জানি না) রান্না না খেয়েও রোমানরা বিশ্ব জয় করেছিল। আমাদের বিশ্ব জয় করার দিকে আপাতত না গেলেই চলবে। গ্যাস সংকটকে জয় করতে পারলেই হবে। আর সংকট কাটাতে হলে কার্যকর কিছু পথ বের করতে হবে, যদি তা সম্ভব না হয় আমার ‘রোমান থিওরি’ তো রইলই। খালি পেটে চিঠি লিখলাম, মাথা কাজ করছে না ঠিকঠাক, ভুল থিওরি দিলাম কি না বুঝতে পারছি না। একটু ফ্যাক্টচেক করিয়ে নেবেন কাইন্ডলি।
ইতি
এক ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থী



