আগামীর চোখ
আপত্তির সুর কেন একই স্কেলে বাজে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
মাননীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
জনাব, ২১ জুন, বিশ্ব সংগীত দিবস। একদিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্পকলা একাডেমিতে বিশাল উৎসব চলছে, অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের ফাইলটি আপনার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অত্যন্ত পরম যত্নে আটকে রয়েছে। একজন সচেতন ও অতি-উদ্বিগ্ন অভিভাবক হিসেবে সরকারের এই মহৎ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয়।
আমরা আসলেই ধন্য! ২০১০ থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা পর্যন্ত যতজন শিক্ষাবিদ ও গবেষক শিশুদের ‘মানসিক বিকাশ’ এবং ‘মানবিক গুণাবলি’র দোহাই দিয়ে প্রাথমিকে সংগীত ঢোকানোর কুচক্র করেছিলেন, আপনারা এক অসম্মতিতেই তাদের মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছেন। ঠিকই করেছেন আপনারা, জীবনটা তো আর কোনো মেলোডিয়াস গান নয়, জীবন হলো খটখটে গদ্য— তা আপনার বিভাগ নিখুঁতভাবে অনুধাবন করতে পেরেছে।
কেউ যেন আপনাদের এই মহৎ ‘অসম্মতি’র দেয়াল ভাঙতে না পারে
গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যখন কিছু নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক সংগঠন প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে তর্জনী উঁচিয়েছিল, তখন তাদের আপত্তির মুখে সরকারের পিছু হটাকে আমরা ‘চাপের মুখে নতি স্বীকার’ বলে সান্ত্বনা দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, রাজপথের ভাবাদর্শ আর সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন যন্ত্রের চেয়ার দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু এখন দোষ দেব কার! ধর্মভিত্তিক কোনো দল তো সরকারে নেই।
আমরা অভিভাবকরা আসলে বড্ড বোকা। আমরা ভেবেছিলাম শিশুরা স্কুলে গিয়ে একটু সা-রে-গা-মা শিখলে তাদের মনটা উদার হবে, মানবিক গুণাবলি বিকশিত হবে। কিন্তু আপনার বিভাগ আমাদের ভুল ভেঙে দিয়েছে। শিশুরা স্কুলে যাবে, মুখস্থ করবে, পরীক্ষায় পাস করবে— ব্যস! এর মাঝে গান গেয়ে মনকে ‘উদার’ করার অবান্তর চেষ্টার কোনো মানেই হয় না। তা ছাড়া, ৫ হাজার ১৬৬ জন সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকের পেছনে সরকারের যে বিপুল পরিমাণ বাজেট সাশ্রয় হচ্ছে, তা দিয়ে অন্য কোনো দৃশ্যমান কংক্রিটের স্থাপনা তৈরি করা যাবে, যা শিশুদের গান শেখার চেয়ে অনেক বেশি টেকসই!
অতএব মাননীয় সচিব, কেউ যেন আপনাদের এই মহৎ ‘অসম্মতি’র দেয়াল ভাঙতে না পারে। ক্ষমতা কার হাতে আছে সেটা কোনো বিষয়ই নয়, আপত্তির সুর যেন সবসময় একই স্কেলে বাজে— সেটি নিশ্চিত করার জন্য আপনাদের এই লাল ফিতার জাতীয় সংগীত আজীবন জারি থাকুক।
বিনীত
এক কানকাটা অভিভাবক




