মহোদয়দের ‘বাণিজ্যিক ভিশন’!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
জেলা প্রশাসক, খুলনা
আমি এক আতঙ্কিত অভিভাবক। আমার সন্তান কয়রা উপজেলার ১১০ নম্বর চৌকুনী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে। সম্প্রতি স্কুলের পুরনো ভবনের টিন ও বেঞ্চ বিক্রি করে েদওয়ার ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারলাম। ঘটনাটি বোধহয় আপনার গোচরেও এসেছে।
বিদ্যালয়ে একটি আধুনিক সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সেখানে স্থানান্তরিত হলে, পুরনো ভবনটি পরিত্যক্ত হয়। ব্যস! অমনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নবগঠিত পরিচালনা কমিটির সভাপতি মহোদয়দের মাথায় ‘বাণিজ্যিক ভিশন’ ভর করল। সম্ভবত ঢেউটিন ও বেঞ্চগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখতেও তাদের খারাপ লাগছিল। সবকিছু তো আর অর্থ দিয়ে বিচারও হয় না! তাই পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যদের না জানিয়ে, কোনো সভা বা রেজল্যুশন ছাড়াই গোপনে স্কুলের টিন ও বেঞ্চ বিক্রি করে দিলেন!
কাল হয়তো ভবনের ইটগুলো খুলে নিয়ে বলবেন, ইটগুলো ক্ষয়ে গেছে, তাই বিক্রি করে দিয়েছি
বেচাবিক্রি মিটে যাওয়ার পর স্থানীয় মানুষ ও বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্যরা মাঠে নামলেন। এরপর ওই ‘ভদ্রলোকরা’ বিক্রি হয়ে যাওয়া টিন ফিরিয়ে এনে ভবনের চালে লাগিয়ে দিলেন। তারপর এমন ভাব করলেন— যেন কিছুই হয়নি! মানে টিনগুলো শুধু একটু বেড়াতে গিয়েছিল আর কি! তবে নিখোঁজ বেঞ্চগুলোর হদিস মেলেনি। প্রধান শিক্ষক মহাশয় বলছেন, ‘বেঞ্চগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।’ মনে প্রশ্ন জাগে— নষ্ট হলেই কি বিক্রি করে দিতে হবে? এটা আপনার ঘরের ফার্নিচার নাকি!
আজ বিজ্ঞ কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ভবনের টিন আর বেঞ্চ বিক্রি করে পকেটস্থ করছেন, কাল হয়তো ভবনের ইটগুলো খুলে নিয়ে বলবেন, ইটগুলো ক্ষয়ে গেছে, তাই বিক্রি করে দিয়েছি। আমার ভয়ের জায়গাটি হলো তাদের এই ক্ষুধা। এটা ভেবে আতঙ্কিত হই যে, একদিন সকালে উঠে হয়তো শুনতে পাব— স্কুলটাই বিক্রি হয়ে গেছে! আমরা অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে গিয়ে দেখব, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাইকে বাজছে সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার বিখ্যাত সংলাপ— ‘আজ থেকে পাঠশালা বন্ধ!’ রাজার দুরভিসন্ধিতে নয়, আমাদের সীমাহীন লোভে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে আপনার কাছে আমার আবেদন— শিশুদের বিদ্যাচর্চার এই আশ্রয়টুকু রক্ষা করতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করুন। কোনো অসাধু মহলের গ্রাসে বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আগেই এই অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দিন। তারপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
ইতি
এক অভিভাবক



