‘তৌহিদী জনতা’ তাহলে কী করবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়
জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, বিগত কিছুদিন যাবৎ দেশব্যাপী লোকজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের যে চমৎকার ধারা অব্যাহত রয়েছে, আমরা অতিশয় আনন্দের সহিত তা প্রত্যক্ষ করছিলাম। মেলা, বাউল গানের আসর, ওরস কিংবা কনসার্ট বন্ধের পবিত্র দায়িত্বে ‘তৌহিদী জনতা’র একচ্ছত্র সুনাম এতদিন অক্ষুণ্ণ ছিল। কোথাও কোনো গানের সুর কিংবা মেলা বসার সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা উপস্থিত হয়ে ‘মূল্যবোধে’ আঘাতের অজুহাতে যুদ্ধংদেহী শঙ্কা সৃষ্টি করতাম আর প্রশাসনও আয়োজন বন্ধ করে দিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে দেশের মানুষকে হেফাজত করত।
কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ঘটনা আমাদের দীর্ঘদিনের এই সেবায় এক গভীর ধাক্কা দিয়েছে। উপজেলার করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাটে একই স্থানে বিএনপি ৪ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর এবং জামায়াত ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর পৃথক নৌকাবাইচের আয়োজন করে। এর ফলে সংঘাতের আশঙ্কায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচটি পণ্ড করে দিয়েছে।
এতদিন জানতাম, লোকজ আয়োজন বন্ধ করা কেবল আমাদের সুচিন্তিত আপত্তির ওপর নির্ভর করত
এ ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করছি। যেখানে যেকোনো ঐতিহ্যবাহী মেলা, বাউল আসর কিংবা সামাজিক উৎসব বন্ধ করার একক কপিরাইট ছিল আমাদের অর্থাৎ ‘তৌহিদী জনতা’র, সেখানে হুট করে বিএনপি ও জামায়াতের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো সুকৌশলে আমাদের এই মহান দায়িত্বে ভাগ বসাতে শুরু করেছে! এভাবে কি তারা আমাদের কার্যক্রমশূন্য অথর্ব একটি দলে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সাংস্কৃতিকচর্চা ও আয়োজন বন্ধের ভরা মৌসুমে নতুন এ উপসর্গ আমাদের জন্য চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এতদিন জানতাম, লোকজ আয়োজন বন্ধ করা কেবল আমাদের সুচিন্তিত আপত্তির ওপর নির্ভর করত। কিন্তু এখন যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কোন্দল মারফতই এসব আয়োজন বন্ধের কৃতিত্ব নিয়ে যায়, তবে আমাদের ‘তৌহিদী জনতা’র কী হইবে? আমরা কি তবে রাজনৈতিক কোন্দলের ভিড়ে হারিয়ে যাব?
অতএব, মহোদয়ের নিকট আরজ, অনতিবিলম্বে দেশের সাংস্কৃতিক আয়োজনসমূহ বন্ধ করার প্রক্রিয়ায় প্রথাগত নীতি বজায় রাখার নির্দেশনা প্রদান করুন। কোনো রাজনৈতিক দল যেন এসব অনুষ্ঠান বন্ধের দাবির স্বত্ব কৌশলে কাড়িয়া লইতে না পারে এবং এসব বন্ধের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব যেন ‘তৌহিদী জনতা’র হাতেই ন্যস্ত থাকে— সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা গ্রহণে আপনার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ইতি
এক ক্ষুব্ধ ‘তৌহিদী জনতা’





