সরষের ভেতরেই ভূতের বাস!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সিনিয়র সচিব
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
সালাম গ্রহণ করবেন। ভাড়া বাসায় থাকি, জায়গাজমি নেই, তাই কোনোরকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই আপনাকে এই চিঠি লিখছি। সম্প্রতি পত্রিকায় দেখলাম, গত ৫০ বছরে আমাদের চট্টগ্রাম শহরের ছোট-বড় ২০০টি পাহাড় মানচিত্র থেকে চিরতরে ভ্যানিশ হয়ে গেছে। এর পেছনে আপনার মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরের কমবেশি দায় রয়েছে। রক্ষকদের এই হাল দেখে আমার কী বলার থাকে! কার কাছেই বা বলব! ‘যে সরষে দিয়ে ভূত তাড়ানোর কথা, সেই সরষের ভেতরেই ভূতের বাস।’
জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরের ‘কীর্তি’ আরেকটু না বললেই নয়। স্বাধীনতার পর বিএস জরিপে বহু পাহাড়কে কাগজ-কলমে পুকুর, শণখোলা, নাল জমি কিংবা বাড়ির ভিটা বানিয়ে দেওয়া হলো! পাহাড়কে ‘পাহাড়’ হিসেবে কাগজে দেখালে কেটে সাবাড় করা যায় না। তাই বোধ হয় বিএস জরিপে শত শত একর পাহাড়ি জমিকে কাগজ-কলমে পুকুর কিংবা বাড়ির ভিটা বানিয়ে দেওয়া হলো! আর এতটা বছর এই ‘ভুল’কে ভুল হিসেবেই রেখে দেওয়া হলো! ফলে পাহাড়খেকোরা আরামসে পাহাড় খেয়ে গেল।
যেন পাহাড় কাটার ওপর একধরনের ‘পাহাড় কাটা কর’ আদায় করছে!
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সম্পর্কে না বললে ঠিক জমছে না। কোনো জমি কাগজ-কলমে ‘টিলা’ জেনেও সেখানে ৯ তলা বা ১৪ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া যে কতটা উদার ও দানশীল মানসিকতার পরিচয়, তা সিডিএ না থাকলে আমরা জানতেই পারতাম না! আলোকানন এলাকার ‘সেন্ট্রাল হোমস’ কিংবা পাহাড়তলী ও নাছিরাবাদের টিলাভূমিতে বহুতল ভবনের অনুমোদন দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে— নিয়মকানুন শুধুই সাধারণ মানুষের জন্য; পাহাড়খেকো বা ভবন নির্মাণকারীদের জন্য নয়! সিডিএ আবার নিজেই ১৬টি পাহাড় কেটে বায়েজিদ লিংক রোড বানিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে, পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতায় তারা কারও চেয়ে পিছিয়ে নেই!
আর আপনার পরিবেশ অধিদপ্তর? পাহাড় কাটা শেষ হওয়ার পর সেখানে গিয়ে সামান্য কয়েক লাখ টাকার জরিমানা এবং দু-একটা মামলা ঠুকে দিয়েই দায়িত্ব সারে। যেন পাহাড় কাটার ওপর একধরনের ‘পাহাড় কাটা কর’ আদায় করছে! জরিমানা দাও, পাহাড় কাটো, অবৈধ বসতি তোল!
যেভাবে চলছে, তাতে আগামীতে অবশিষ্ট পাহাড় থাকবে কি না, সন্দেহ রয়েছে। পাহাড় তো দূর, বিএস দাগই খুঁজে পাওয়া যাবে না! ফলে যা করার এখনই করুন।
ইতি
চট্টগ্রাম শহরের এক অধিবাসী



