আগামীর চোখ
স্বাক্ষর দিন বেতন দিন

প্রিয়
প্রশাসক
খুলনা সিটি করপোরেশন
আপনার অধীন কর্মবীর মোস্তাফিজুর রহমানের দায়িত্ব ও কর্তব্যপরায়ণতার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকায়। আপনার প্রতিষ্ঠানে তিনি কম্পিউটারভিত্তিক বেতন বিল প্রস্তুতের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। এই কর্মবীর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুপস্থিত কর্মীর তিন মাসে মোট ২০৬ অনুপস্থিত দিনকে কর্মদিবস হিসাবে দেখিয়ে প্রতিদিন ৪০০ টাকা হারে মোট ৮২ হাজার ৪০০ টাকা তুলে নিয়েছেন। প্রতিবেদনটি পড়ে এই ভেবে আশ্বস্ত হলাম যে, তিনি সঠিক পথেই রয়েছেন। রাষ্ট্রের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় এমন ‘নিয়মতান্ত্রিক’ ঘটনা ঘটবে, এটাই তো স্বাভাবিক তাই না! কিন্তু সংবাদকর্মীরা এসব ঘটনাকে অনিয়ম উল্লেখ করে খামোখা হইচই বাধিয়ে দেন। অগ্রজরা যে পথে যাবেন, অনুজরা তো সে পথেই যাবেন। গ্রাম্য ভাষায় লোকে একটু কড়াভাবে বলে, ‘আগের হাল যে দিকে যায়, পেছনের হালও সে দিকেই যায়।’
কর্মবীর মোস্তাফিজুর রহমান যে টাকা পকেটে পুরেছেন, তা আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানের ফেলে আসা বছরগুলোর আমলনামা খুললে মোটা অঙ্ক বেরিয়েও আসতে পারে। তা ছাড়া আমার মনে হচ্ছে কি জানেন, এখানে মোস্তাফিজুর একা নন।
মাথায় কাঁঠাল ভাঙার এটা আদর্শ সময়। যদিও সারা বছরই আমাদের মাথায় ভাঙা হচ্ছে
তার প্রচুর সখা, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন? যারা বদলির করার পরও মোস্তাফিজুরকে আবারও সেই চেয়ারে বসাতে চাইছেন। নিশ্চয় মোস্তাফিজুরকে ছাড়া তাদের বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই অদৃশ্য দলটির টিকিও খুঁজে পাচ্ছেন না আপনি ও আপনার তদন্তকারী দল। একটু চোখ-কান খুলে দেখলে অসম্ভব কিছু নয়। কান টানলেই তো মাথা আসে।
এখন কাঁঠালের দিন। মাথায় কাঁঠাল ভাঙার এটা আদর্শ সময়। যদিও সারা বছরই আমাদের মাথায় ভাঙা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন যতটুকু বরাদ্দ পায় নগর উন্নয়নে, অনেক ক্ষেত্রেই নয়ছয় হয়। নয়ছয়ের অধিকাংশই আমাদের অগোচরে ঘটে, যা আমরা জানতেও পারি না। এমনই সূক্ষ্ম সেসব টিমওয়ার্ক। কিন্তু মোস্তাফিজুরের ঘটনা তো দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এ ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া তো সহজ। শুধু টাকা ফেরত আর বদলি— জনগণের টাকা লোপাটের শাস্তি হিসেবে বড্ড দুর্বল। এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করার পরও আপনার তদন্তে মোস্তাফিজুর রহমানের কর্মকাণ্ডকে তার উদাসীনতা ও অসাবধানতা বলে উল্লেখ করেছেন। সত্যিই কি এটা উদাসীনতা? তাহলে তো নগরবাসীকে কবীর সুমনের ওই গানটি একটু বদলে গাইতে হয়, ‘উদাসীন থেকো না স্বাক্ষর দাও।’
ইতি
একজন খুলনা নগরবাসী




