আগামীর চোখ
আকাশের যত তারা ট্রাম্পের তত ধারা

প্রিয়
বিশ্ব মোড়ল ডোনাল্ড ট্রাম্প,
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে এই মুহূর্তে আপনার মানসম্মান নিয়ে টানাটানি চলছে। ইরান যুদ্ধে লেজেগোবরে জড়িয়ে যাওয়াতেই এ সংকটের সূত্রপাত। মানসম্মান যা অবশিষ্ট রয়েছে, একটি শান্তিচুক্তিতে তা নিয়ে মোটামুটি বেরিয়ে আসতে পারলেই বাঁচেন। তা ছাড়া চীন-রাশিয়ার যাতনা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে দারুণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আমি তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক। আপনার সঙ্গে অন্যান্য বিশ্ব মোড়লের মারামারি দূর থেকে দেখছিলাম। শুধু আমি নই, আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানরাও দূর থেকে দেখছিলেন। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হলে প্রজাদের সামনে যাওয়া বারণ। আপনার সামনে তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান আর নাগরিকের মধ্যে তো কোনো ফারাক নেই। এক্ষেত্রে আপনি সাম্যবাদী।
যুদ্ধবিগ্রহ বাধিয়ে আপনার দেশের ট্যাঁকে টান ধরিয়েছেন। ফলে আপনার মনে ভয় ধরেছে, দেশের মানুষ ঘটিবাটি নিয়ে যেকোনো মুহূর্তে হোয়াইট হাউজে তেড়ে আসতে পারে। তাই দেশের ট্যাঁক ঠিক রাখতে আমাদের ওপর জোরজবরদস্তি চুক্তি ও শুল্ক চাপিয়ে দিতে শুরু করেছেন। ধারার তো অভাব নেই— আকাশের যত তারা ট্রাম্পের তত ধারা। একেবারে জমিদারি স্টাইলে পরবর্তী বংশধরদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করে ফেলেছেন। তৃতীয় বিশ্বের নাগরিকের মাথায় থাকবে ঋণের বোঝা আর আপনার দেশের মানুষের মাথায় থাকবে ডলারের মুকুট।
খবর পেলাম, বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যে আরও ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে আপনার বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়। তারা বলছে, ‘জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য বা কাঁচামাল আমদানি কমাতে ব্যর্থ হয়েছে এই দেশগুলো।’ নতুন এ শুল্ক আরোপ হলে আপনার দেশের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য কিনতে বাড়তি শুল্ক গুনতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
আপনার শুল্কাস্ত্রে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপানও আক্রান্ত হবে; কিন্তু সবচেয়ে বেশি ধকল সইতে হবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকেই। যাদের না আছে পারমাণবিক বোমা, না আছে তেলের খনি। আমরা জিম্মি আপনার মতো বিশ্ব মোড়লের হাতে। আমাদের নীতিনির্ধারকরা ভয়ে সরাসরি আপনাকে বলতে বা লিখতে পারে না; মসনদটি রক্ষা করার দায়ে। কিন্তু আমার মতো নাগরিকের হারানোর কিছু নেই, আপনার বোমা কিংবা গুলির ভয় নেই। কারণ, আমাদের পেটে খিদের জ্বালা।
ইতি
বাংলাদেশের এক নাগরিক





