বৈষম্যের অভিযোগ তুলে অবসরের আবেদন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের

সংগৃহীত ছবি
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগেন (সিআইডি)ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) আলী আকবর খান দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন। পদোন্নতিতে বঞ্চিত হওয়া এবং বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এ আবেদন জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দেওয়া আবেদনে আলী আকবর খান আগামী ২ জুলাই থেকে অবসর কার্যকরের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ওই তারিখ থেকে এক বছরের অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুরের আবেদনও করেন।
গত ১ জুন তাকে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিনের মাথায় তার এ অবসর আবেদন প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একই দিনে সরকারের জারি করা পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজন আলী আকবর খানের সমসাময়িক ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং তিনজন ১৭তম ব্যাচের জুনিয়র কর্মকর্তা রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আবেদনে আলী আকবর খান উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর তিনি সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তাকে বঞ্চনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরে ২০২২ সালের এপ্রিলে চাকরিচ্যুত করা হলেও ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক পদোন্নতির তালিকায় নিজের নাম না থাকায় তিনি নিজেকে আবারও বৈষম্যের শিকার বলে মনে করছেন। নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের ওপর বোঝা হয়ে থাকতে চান না উল্লেখ করে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সিআইডি সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এএম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তার আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আলী আকবর খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।




