এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ
২ বছরে প্রথম গুমের অভিযোগ

এইচআরডব্লিউ বলেছে, মিরাজ শেখকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল কোস্ট গার্ডের হেফাজতে, যাতে প্রতীয়মান হচ্ছে, এটাই দুই বছরে বাংলাদেশে প্রথম গুমের ঘটনা হতে পারে।
বাগেরহাটের মোংলা থেকে কোস্ট গার্ড সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিন মাস পার হতে চললেও ওই যুবকের সন্ধান পায়নি পরিবার। একে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গুমের প্রথম ঘটনা হিসেবে তুলে ধরে উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
নিখোঁজ ওই যুবকের নাম মিরাজ শেখ (৩০)। তার বাড়ি মোংলার জয়মণি গ্রামে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করার পাশাপাশি গুম রোধে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কারেরও আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, মিরাজ শেখকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল কোস্ট গার্ডের হেফাজতে, যাতে প্রতীয়মান হচ্ছে, এটাই দুই বছরে বাংলাদেশে প্রথম গুমের ঘটনা হতে পারে। লন্ডনের স্থানীয় সময় গত রবিবার রাতে এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির ভাষ্য, গুম প্রতিরোধের লক্ষ্যে যে সংস্কার প্রস্তাব হয়েছিল, তা বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে বাংলাদেশ সরকারের সরে আসা উচিত। তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে হাজারো মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং সর্বশেষ এ ঘটনা দেখাচ্ছে যে যথাযথ সংস্কার ছাড়া এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। এটি স্পষ্ট, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে এ ধরনের চর্চা গভীরভাবে গেঁথে গেছে। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া নতুন সরকারের (নাগরিকদের) সুরক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।’
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল রাতে মোংলার সুন্দরবনসংলগ্ন জয়মণির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা জেলে মিরাজ শেখকে আটক করে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরদিন তার পরিবারের সদস্যরা মোংলার দিগরাজে কোস্ট গার্ডের কার্যালয়ে গেলে প্রথমে বলা হয়, মিরাজ একটি ‘অভিযানে’ আছেন এবং তাদের বিকালে আসতে বলা হয়; কিন্তু বিকালে গেলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, মিরাজ কখনোই সেখানে ছিলেন না।
মিরাজ শেখের পরিবারের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনের ভাষ্য, প্রত্যক্ষদর্শীরা গুম করার সময় ও পরিস্থিতি এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা কীভাবে মিরাজ শেখকে তুলে নিয়ে গেছেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
মিরাজের পরিবার এ বিষয়ে একাধিক সরকারি কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েও কোনো ফল পায়নি। পরে মিরাজের বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জুলাই হাইকোর্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাকে খুঁজে বের করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।




