আগামীর চোখ
উন্নয়নের ন্যূনতম ফি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
পুত্র,
তুই নাকি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা করতে চাস? কথাটা শুনে খুব চিন্তায় পড়েছি। ব্যবসা করে টাকা কামানো যায়— এটি ঠিক। কিন্তু তার জন্য দোকান, পুঁজি, কর্মচারী, কাস্টমার, ট্যাক্স, লোকসান— এত ঝামেলা কেন করবি? তোর বাবা কি তোকে এত কষ্ট করে মানুষ করেছে তুই নিজের টাকায় বড়লোক হবি বলে? চাকরি কর। সরকারি চাকরি কর। বেতনও পাবি, সম্মানও পাবি। আর বুদ্ধি থাকলে বেতনের বাইরে কীভাবে ‘উন্নতি’ করতে হয়, সেটাও শিখে যাবি।
ধনী হওয়ার জন্য যে সবসময় ব্যবসা করতে হয়, এই ধারণাটা কে তোকে দিয়েছে? এই যে লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে নিয়ে এখন এত আলোচনা— খবরটা কি মন দিয়ে পড়েছিস? বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত একটি ভিডিওর কথা এসেছে। তাতে ‘দুই কোটি টাকার নিচে নড়ব না’ বলে যে দৃঢ়প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, সেটি অনুধাবন করে দেখিস। প্রয়োজনে তিনি পিডিবির চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ার সাহস রাখেন। তার সরল বিশ্বাস ছিল— এক ফাইলে দুই কোটি টাকা কামিয়ে দিলে চেয়ারম্যান মহোদয় তাকে তিরস্কার তো দূর, উল্টো কোনো আরও ‘উর্বর’ ও চমৎকার জায়গায় পোস্টিং দিয়ে পুরস্কৃত করবেন। এই মহান আশাবাদই তো আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদের দিন-রাত দেশের সেবা করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
শুধু একটা কথা মনে রাখিস, কোটিপতি হওয়া আর কোটি টাকার মামলার আসামি হওয়া এক জিনিস নয়
বাবা হিসেবে আমি খবরটার অন্য শিক্ষা দেখি। লোকটা ব্যবসা করেনি। দোকান খোলেনি। পুঁজি বিনিয়োগ করেনি। কাস্টমারের পেছনে ছোটেনি। চাকরি করেছে। আর চাকরি করেই যদি কোটি টাকার অঙ্ক আসে, তাহলে তুই ব্যবসা করতে এত মরিয়া কেন? তুই বলিস, ‘বাবা, ব্যবসা করলে নিজেই নিজের মালিক হব।’ আমি বলি, ‘সরকারি চাকরি করলে অন্যের মালিকও হবি!’ এই পার্থক্যটা বুঝতে শেখ। ব্যবসায় কাস্টমার তোর কাছে আসে না, তুই কাস্টমারের কাছে যাস। সরকারি অফিসে কিন্তু লোকজন নিজেই আসে। সবাই হাত কচলাতে কচলাতে টাকা দিয়ে যায়।
তবে একটা জিনিস মনে রাখিস— আগে ক্যামেরা কম ছিল। এখন মোবাইল সবার হাতে। যাই করিস সবসময় প্রযুক্তিকে সম্মান করবি। মানুষকে ভুলিয়ে রাখা যায়, ক্যামেরাকে নয়।
আর চাকরিতে ঢুকে প্রথমেই অঙ্কটা ভালো করে বুঝে নিস। তিন লাখ, ত্রিশ লাখ, এক লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার, দুই কোটি, পাঁচ কোটি—জীবনে কখন কোন অঙ্ক সামনে আসে, বলা যায় না। মোটকথা, ব্যবসা আপাতত বাদ দে। আগে চাকরি নে। চেয়ারে বস। বেতন নে। শুধু একটা কথা মনে রাখিস, কোটিপতি হওয়া আর কোটি টাকার মামলার আসামি হওয়া এক জিনিস নয়।
আমি প্রথমটা চেয়েছি। দ্বিতীয়টা যেন ভুল করে না হয়ে যায়।
ইতি
তোর গর্বিত বাবা



