মন্ত্রিপরিষদ কেন অসম্মত!

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের চিন্তা, মনন, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে। তাই আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। এদিক থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী হিসেবে মনে করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার একাধিক বক্তব্যে শিশুদের সংগীত শিক্ষার গুরুত্বের প্রসঙ্গ এনেছেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে মন্ত্রিপরিষদ এ প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছে!
সংগীত মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে, মনকে পরিশীলিত করে। ছোটবেলা থেকে সংগীতের চর্চা একটি শিশুকে সংবেদনশীল, মানবিক ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সাহায্য করে। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে শিশুরা ক্রমেই মোবাইল ফোন ও ভার্চুয়াল জগতের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। ফলে তাদের স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক বিকাশ অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত সংগীতশিক্ষা চালু হলে শিশুরা সুস্থ বিনোদন ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ পাবে।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় দিবস ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। কিন্তু অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত সংগীত শিক্ষকের অভাব রয়েছে। ফলে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। একজন দক্ষ সংগীত শিক্ষক শুধু গানই শেখাবেন না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
তবে এ নিয়োগপ্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ, যোগ্যতাভিত্তিক এবং বাস্তবসম্মত হতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও বিদ্যালয়ের সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
একটি জাতি তখনই সমৃদ্ধ হয়, যখন তার নতুন প্রজন্ম জ্ঞান, নৈতিকতা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হয়ে বেড়ে ওঠে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ সে লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।
লেখক : চাকরিজীবী, যশোর




