অপরাধ নির্মূলে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে

সংগৃহীত ছবি
একটি দেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের খবর উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই এমন সব ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়, যা সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা আরও গভীর করে তুলছে।
বর্তমানে দেশে এমন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে মানুষ ঘর থেকে বের হওয়ার আগে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত— সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তার ছায়া। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল অনেকের কাছেই ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে— এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে বাস্তবতা হলো, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের তৎপরতার কারণে তাদের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব মোকাবিলায় আরও কার্যকর গোয়েন্দা তৎপরতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। অপরাধ বৃদ্ধির বড় কারণ হলো বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা। একটি অপরাধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হলে তা অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। অপরাধী যদি মনে করে, আইনের ফাঁক গলে সহজেই পার পাওয়া সম্ভব, তবে অপরাধ প্রবণতা কমার পরিবর্তে আরও বাড়বে। তাই আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় মানুষের দেশ। এ দেশের মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে চায়, স্বস্তিতে ব্যবসা করতে চায় এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা এবং ন্যায়ভিত্তিক বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ সমাজ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; এটি দেশ, প্রশাসন ও নাগরিক সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আইন ও ন্যায়ের শাসনই পারে মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
লেখক: চাকরিজীবী, যশোর




