পরিস্থিতির অবনতির জন্য এককভাবে কেউ দায়ী নয়

রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নাগরিকের নিরাপত্তার অন্যতম শর্ত হলো কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। যখন মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তখন উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে। রাজনৈতিক সংঘাত, বেকারত্ব, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সামাজিক বৈষম্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে।
আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য কোনো একক পক্ষকে দায়ী করা যায় না। সরকার, বিরোধী দল, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন সবারই দায় আছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোটি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সমাজে পড়েই।
পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নের জন্য আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে। মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। শিক্ষার প্রসার ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হবে। এ ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ও গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো প্রয়োজন।
সরকারি দলের দায়িত্ব হলো সুশাসন নিশ্চিত করা, প্রশাসনকে প্রভাবমুক্ত রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সহিংসতা পরিহার করা। উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
স্থানীয় প্রশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য তাদের এককভাবে দায়ী করা যায় না। জনবল, সম্পদ ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে জবাবদিহি ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
লেখক: চাকরিজীবী, মিরপুর, ঢাকা




