মানবিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি

সংগৃহীত ছবি
একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা দৃশ্যমান সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিকের নিরাপত্তা বোধ, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তার মধ্যেই রাষ্ট্রের প্রকৃত সক্ষমতা প্রতিফলিত হয়। যখন একজন মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরে আসার বিষয়ে শঙ্কিত থাকে, তখন রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার দিকেই ইঙ্গিত করে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত কয়েকটি ঘটনা নাগরিক জীবনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রামিসা হত্যাকাণ্ড, শেওড়াপাড়ায় প্রকাশ্যে ইট নিক্ষেপ করে রাফিকে হত্যা, শিশু ধর্ষণের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি এবং ছিনতাই-রাহাজানির বিস্তার নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো অপরাধ বেড়েছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতা এখন কেবল পথঘাটে নয়, ডিজিটাল পরিসরেও বিস্তার লাভ করেছে।
জননিরাপত্তা কেবল পুলিশের একক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দায়বদ্ধতার বিষয়। তাই জনগণ ও পুলিশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। অবৈধ অস্ত্র, মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অভিযান পরিচালনা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।
তবে শুধু কঠোর আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় জোরদার করতে হবে। কারণ, অপরাধ দমনের চেয়ে অপরাধের জন্ম রোধ করাই অধিক কার্যকর পথ।
নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তবেই আজকের নিরাপত্তাহীনতা আগামী দিনের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে পরিণত হবে।
লেখক: কবি ও লেখক, ফেনী




