ছিনতাই হচ্ছে মানুষের অধিকার

প্রতীকী ছবি
দখলবাজির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো— এটি শুধু জমির মালিকানা বা দখলের প্রশ্ন নয়, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি আদালত কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া অন্যের দখলীয় জমি থেকে তাকে উচ্ছেদ করে, সেটি আইনগতভাবে অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। আইনটির ৮ ধারায় অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করতে পারেন। এই আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা। বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী আবেদন পাওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দখল পুনরুদ্ধারের বিধান রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা জেলায় এ আইনে ৮০৭টি মামলা হয়েছে, যার ৪৭৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে।
শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিই নয়, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কিংবা জনসাধারণের ব্যবহার্য ভূমিও দখলবাজদের লক্ষ্য হতে পারে। আইনের ১১ ধারায় এ ধরনের জমি অবৈধভাবে দখল, প্রবেশ, স্থাপনা নির্মাণ কিংবা ভূমি, স্থাপনা, গাছ বা সীমানা চিহ্নের ক্ষতিসাধনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং এর জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। একই আইনের ১০ ধারায় আইনানুগ দখলে থাকা জমির সীমানা বা সীমানা চিহ্ন নষ্ট করার বিষয়েও শাস্তির বিধান রয়েছে।
দখলবাজির ক্ষতি আরও ব্যাপক হয় যখন আক্রান্ত হয় কোনো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। একইভাবে খাল, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল হলে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ ও নাগরিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়। ঢাকার ৫৬টি খাল দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগের কথাও সরকার জানিয়েছে। ভূমির রেকর্ড ও নামজারি হালনাগাদ, ডিজিটাল ভূমি-তথ্যব্যবস্থা, সীমানা নির্ধারণ ও ডিমার্কেশন, সরকারি সম্পত্তির নিয়মিত তালিকা ও নজরদারি এবং অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভূমিবিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য সহজ আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দখলের সঙ্গে যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, অসাধু সহযোগিতা বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শুধু দখলদার উচ্ছেদ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; দখলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থাটিও বন্ধ করতে হবে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, বগুড়া



