নেপথ্যে অবৈধ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহার

সংবাদপত্রের পাতা খুললেই দখলবাজির খবর এখন নিত্যদিনের চিত্র। নদী, খাল, বনাঞ্চল, খাসজমি থেকে শুরু করে মানুষের রক্ত ঘামে অর্জিত ব্যক্তিগত সম্পত্তি কিছুই ছাড় পাচ্ছে না অসাধু দখলদারদের থাবা থেকে। এই দখলদার ও অপশক্তির দৌরােত্ম্যর মূল উপড়ে ফেলা এখন সময়ের দাবি। মূলত আইনের শিথিল প্রয়োগ, প্রশাসনিক শিথিলতা এবং প্রভাবশালীদের বিচারহীনতার সংস্কৃতিই দখলবাজিকে উৎসাহ জোগাচ্ছে। দখলদারিত্ব এবং দুর্নীতি একে অপরের পরিপূরক। যেকোনো অবৈধ দখলদারদের নেপথ্যে থাকে অবৈধ অর্থ লেনদেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি– যার প্রতিটিই দুর্নীতির প্রত্যক্ষ অঙ্গ।
দুর্নীতি ও জবরদখলমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। আমাদের তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। আগামীর সময় পত্রিকা এই জ্বলন্ত বিষয়ে যে গঠনমূলক উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়। আসুন, জবরদখল ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করি এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
যদি আমরা ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ না রেখে যেতে পারি, তবে আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা দায়ী থাকবো। এমনটা কারো প্রত্যাশা নয়। আজই আসুন, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে শপথ নিই।
লেখক: সাধারণ সম্পাদক, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), বেতাগী উপজেলা শাখা, বরগুনা।



