সড়কে হারানো আমাদের শিশুরা...

সংগৃহীত ছবি
এই তো গতকালের কথা। এক রোড ক্র্যাশেই প্রাণ গেল ১৪ জনের। আজ যখন লিখছি তখনও মৃত্যু থেমে নেই। সড়কে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরা হয়নি হাজারো শিশুর। সড়কে হারানো আমাদের এই হাজারো শিশুরা কোথায় গেল? কেউ মারা গেছে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে, কেউ বাড়ির পাশের সড়কে খেলতে গিয়ে। গত প্রায় সাত বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এমন বাস্তবতায় আগামীকাল পালন হবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। কালও সড়কে মৃত্যু থেমে থাকবে না। প্রতিদিন সকালে আমরা ঘর থেকে বের হই। কেউ অফিসে, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউ ব্যবসার কাজে, কেউবা জীবিকার সন্ধানে। আমাদের প্রত্যেকেরই একটি গন্তব্য থাকে। কিন্তু দিনের শেষে সেই গন্তব্যে সবাই পৌঁছাতে পারে না। কারও যাত্রা থেমে যায় একটি রোড ক্র্যাশে, কোনো পরিবারের অপেক্ষা পরিণত হয় আজীবন শূন্যতায়, কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই অন্ধকার হয়ে যায়।
সড়কে একটি প্রাণহানি শুধু একটি সংখ্যা নয়। এর পেছনে থাকে একটি পরিবার, অসংখ্য স্বপ্ন, একটি কর্মক্ষম মানুষ, একজন সন্তান, একজন বাবা-মা, একজন স্বামী বা স্ত্রী। অথচ রোড ক্র্যাশের খবর প্রকাশের সময় আমরা প্রায়ই মানুষকে সংখ্যায় পরিণত করি—‘এতজন নিহত’, ‘এতজন আহত’। পরদিন আরেকটি খবর আসে, আর আগের দিনের মৃত্যুর স্মৃতি ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়।
প্রশ্ন হলো—আর কত প্রাণ হারালে আমরা সত্যিকার অর্থে জাগব?
রোড ক্র্যাশ বাংলাদেশে নতুন কোনো সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে রোড ক্র্যাশ, মৃত্যু, আহত হওয়া, পঙ্গুত্ব এবং পরিবারের আর্থিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানে রোড ক্র্যাশের সংখ্যা ও মৃত্যুর হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই—বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং এটি একটি গুরুতর জাতীয় সংকট।
রোড ক্র্যাশ কি সত্যিই ‘দুর্ঘটনা’?
আমাদের চিন্তার জায়গাটিই সম্ভবত এখানে পরিবর্তন করা দরকার। ‘দুর্ঘটনা’ শব্দটি অনেক সময় এমন একটি ধারণা তৈরি করে যে, এগুলো হয়তো হঠাৎ ঘটে যাওয়া অনিবার্য ঘটনা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সড়কে অধিকাংশ প্রাণহানির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক নকশা, পর্যাপ্ত ফুটপাত ও পারাপারের ব্যবস্থা না থাকা, দুর্বল আইন প্রয়োগ, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং, অব্যবস্থাপনা এবং রোড ক্র্যাশের পর দ্রুত চিকিৎসার অভাব—সবকিছু মিলেই একটি প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করে।
অর্থাৎ একটি রোড ক্র্যাশ অনেক সময় একক কোনো ব্যক্তির ভুল নয়; এটি একটি সিস্টেমের ব্যর্থতা।
এই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু চালককে শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একই সঙ্গে দেখতে হবে—কেন একজন অদক্ষ ব্যক্তি পেশাদার চালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলেন? কেন ঝুঁকিপূর্ণ গতিতে যান চলাচল করতে পারল? কেন সড়কটি এমনভাবে নির্মিত হলো যেখানে পথচারীর নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নেই? কেন রোড ক্র্যাশের পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না?
চালকের হাতে স্টিয়ারিং, কিন্তু দায়িত্ব কার?
সড়ক নিরাপত্তার আলোচনায় চালকের ভূমিকা অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পেশাদার চালক তৈরি করা এবং তাদের দক্ষতা যাচাই করার দায়িত্বও রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর।
একজন চালকের হাতে হাজার হাজার মানুষের জীবন নির্ভর করতে পারে। অথচ শুধু গাড়ি চালাতে পারলেই একজন ব্যক্তি পেশাদার চালক হওয়ার উপযুক্ত—এমন ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
চালকের প্রশিক্ষণে শুধু গাড়ি চালানো শেখানো যথেষ্ট নয়। থাকতে হবে নিরাপদ ও প্রতিরক্ষামূলক চালনা, গতি নিয়ন্ত্রণ, পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের প্রতি আচরণ, ঝুঁকি শনাক্তকরণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় গাড়ি চালানো, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় এবং রোড ক্র্যাশ এড়ানোর কৌশল। লাইসেন্স দেওয়ার আগে দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। লাইসেন্স পাওয়ার পরও চালকের প্রশিক্ষণ ও কর্মদক্ষতার ধারাবাহিক মূল্যায়ন দরকার।
গতি—সড়ক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় শত্রু
সড়কে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ একটি মৌলিক বিষয়। গাড়ির গতি যত বাড়ে, চালকের প্রতিক্রিয়ার জন্য সময় তত কমে এবং সংঘর্ষ হলে আঘাতের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
আমাদের অনেক সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা থাকলেও বাস্তবে তার যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। কোথাও কোথাও সড়কের অবকাঠামোই অতিরিক্ত গতিকে উৎসাহিত করে। আবার জনবহুল এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার কিংবা আবাসিক এলাকার মতো জায়গায় নিরাপদ গতিসীমা ও কার্যকর নজরদারি না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই শুধু ‘ধীরে চালান’ বলে প্রচার চালালে হবে না। যেখানে মানুষের চলাচল বেশি, সেখানে সড়কের নকশা, গতিসীমা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগ—সবকিছুকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পথচারী কি সড়কের সবচেয়ে অবহেলিত নাগরিক?
ঢাকার ফুটপাতের দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে পারি পথচারীর অবস্থান কতটা অনিরাপদ। কোথাও ফুটপাত দখল, কোথাও ভাঙা, কোথাও নির্মাণসামগ্রী, কোথাও আবার ফুটপাতই নেই। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটেন।
একজন পথচারী যখন ফুটপাতের পরিবর্তে যানবাহনের লেন ব্যবহার করতে বাধ্য হন, তখন তাকে শুধু ‘অসচেতন পথচারী’ বলা অন্যায়। নিরাপদ সড়ক মানে শুধু নিরাপদ গাড়ি চলাচল নয়। নিরাপদ সড়ক মানে নিরাপদ পথচারী, নিরাপদ সাইকেল আরোহী, নিরাপদ মোটরসাইকেল চালক এবং নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা।
শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য সড়ককে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। নিরাপদ ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং, যেখানে সত্যিই প্রয়োজন সেখানে কার্যকর ফুটওভারব্রিজ, পথচারী সিগন্যাল এবং নিরাপদ স্কুল জোন—এসবকে বিলাসিতা নয়, মৌলিক নাগরিক অধিকার হিসেবে দেখতে হবে।
আইন আছে, বাস্তবায়ন কোথায়?
বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আইন, নীতিমালা ও বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এসবের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর?
আইন প্রয়োগ যদি ব্যক্তি, সময় বা পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তিত হয়, তাহলে আইন মানুষের কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। আবার কোনো চালক আইন ভাঙার পর যদি সহজেই পার পেয়ে যান, তাহলে অন্যদের কাছেও আইন ভাঙার প্রবণতা তৈরি হয়। সড়ক নিরাপত্তায় আমাদের তাই শুধু ‘কঠোর আইন’ নয়, নিরপেক্ষ ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগ দরকার।
প্রযুক্তি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্পিড ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফিটনেস ও লাইসেন্সের তথ্যভান্ডার এবং ডেটাভিত্তিক নজরদারি—এসবের সমন্বিত ব্যবহার আইন প্রয়োগকে আরও কার্যকর করতে পারে।
রোড ক্র্যাশের পরও শুরু হয় আরেকটি লড়াই
রোড ক্র্যাশে আহত ব্যক্তির জন্য প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু রোড ক্র্যাশের পর দ্রুত উদ্ধার, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি চিকিৎসা এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থায় এখনও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
একজন আহত মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় যদি মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, তাহলে একটি বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা মৃত্যুর দিকে চলে যেতে পারে। তাই সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধের পাশাপাশি Post-Crash Response বা রোড ক্র্যাশ-পরবর্তী জরুরি সেবাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক করিডোরে জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত প্রথম প্রতিক্রিয়াকারী, কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক এবং হাসপাতালের মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
নিহতের পরিবারকে আমরা কী দিই?
একজন মানুষ রোড ক্র্যাশে মারা গেলে শুধু একজন মানুষকে হারায় না—একটি পরিবার তার উপার্জনক্ষম সদস্য, অভিভাবক বা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হারাতে পারে।
একজন চালকের ভুল, একটি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন কিংবা একটি অনিরাপদ সড়কের মূল্য কখনো কখনো একটি পরিবারকে বছরের পর বছর বহন করতে হয়। তাই রোড ক্র্যাশে নিহত ও গুরুতর আহতদের জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই মৃত্যুর বিকল্প নয়। একজন মানুষের জীবনের মূল্য টাকা দিয়ে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে—রোড ক্র্যাশ যেন না ঘটে।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়
সড়ক নিরাপত্তা শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিআরটিএ বা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়। এটি একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক বিষয়।
সড়ক নির্মাণ থেকে শুরু করে যানবাহন, চালকের প্রশিক্ষণ, আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নগর পরিকল্পনা—সবকিছুর সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা জড়িত। তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাঠামো, যেখানে নির্দিষ্ট লক্ষ্য, সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফল থাকবে।
প্রতি বছর শুধু কতটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, কতটি মামলা হয়েছে কিংবা কতটি গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব দিয়ে সাফল্য পরিমাপ করা যাবে না। মূল প্রশ্ন হতে হবে—কতটি প্রাণ বাঁচানো গেছে?
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে
নাগরিক হিসেবেও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। হেলমেট পরা, সিটবেল্ট ব্যবহার করা, ট্রাফিক সিগন্যাল মানা, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, মাদক বা ঘুমঘুম অবস্থায় গাড়ি না চালানো—এসব ব্যক্তিগত আচরণও জীবন বাঁচাতে পারে।
কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রের দায়িত্বও স্পষ্ট করতে হবে। একজন নাগরিক আইন মানবেন, আর রাষ্ট্র তাকে নিরাপদ অবকাঠামো দেবে না—এটিও গ্রহণযোগ্য নয়। নাগরিকের দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা কি একইভাবে চলব?
প্রতিদিন রোড ক্র্যাশের খবর পড়ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করব, কয়েকদিন আলোচনা করব এবং তারপর আবার সবকিছু ভুলে যাব? নাকি এবার সত্যিকার অর্থে একটি পরিবর্তন শুরু করব?
সড়ক নিরাপত্তাকে প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম কিংবা দিবসকেন্দ্রিক প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন আনতে হবে। সড়কের নকশা নিরাপত্তাকেন্দ্রিক করতে হবে। গতিসীমা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পথচারী ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। আইন প্রয়োগে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। রোড ক্র্যাশের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে একটি সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেস তৈরি করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, সড়ক নিরাপত্তার প্রতিটি সিদ্ধান্তে একটি প্রশ্ন সামনে রাখতে হবে—এই সিদ্ধান্তটি কি মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ করবে?
কারণ একটি উন্নত সড়ক মানে শুধু দ্রুত যাতায়াত নয়। একটি উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা মানে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একজন মা তার সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন; একজন শ্রমিক কর্মস্থলে গিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন; একজন পথচারী রাস্তা পার হওয়ার সময় নিজের জীবন নিয়ে আতঙ্কিত না হন।
আমাদের মনে রাখতে হবে—সড়কে মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। প্রতিটি প্রাণহানি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রতিটি রোড ক্র্যাশ আমাদের ব্যবস্থার কোনো না কোনো দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসে।
প্রশ্ন তাই আর শুধু ‘কেন রোড ক্র্যাশ ঘটল?’ নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমরা আগে থেকেই কেন তা প্রতিরোধ করতে পারিনি?
আর কত প্রাণ হারালে আমরা জাগব? সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমাদের বুঝতে হবে—জাগার জন্য আর কোনো প্রাণহানির অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ নিরাপদ সড়ক কোনো দাবি নয়; এটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার।
লেখক: সাধারণ সম্পাদক, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন




