মানবতার উঠোনে জমছে বারুদ

দেশত্যাগের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে এক বিক্ষোভে সমবেত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা, বাংলাদেশ, কক্সবাজার। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/রয়টার্স
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন থেকে রোহিঙ্গারা যখন প্রাণভয়ে এদেশে ছুটে এসেছিল, তখন তাদের হাতে কোনো ভূরাজনীতির মানচিত্র ছিল না। ছিল দু-একটি কাপড়ের পুঁটলি। কারও কোলে শিশু, কারও কাঁধে বৃদ্ধ মা বাবা। পেছনে পোড়া বাড়ি। সামনে নাফ নদী। তারও সামনে বাংলাদেশ।
মানুষ বিপদে পড়লে প্রথম কাজ হিসাব করা নয়, দরজা খোলা। বাংলাদেশ তখন হিসাব করেনি। বাংলাদেশ সাত-আট লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা খুললো। তাদের খাদ্য লাগল, মাথার ওপর প্লাস্টিকের ছাউনি লাগল, ওষুধ লাগল, পানীয় জল লাগল। বাংলাদেশ দিল। গ্রামের মানুষ নিজের ভাত ভাগ করে দিল। পৃথিবী বাহবা দিল। ক্যামেরা এল। বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানেরা এলেন কেউ কেউ। জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা এলেন। দাতার এলেন। বিবৃতি এল। বড় বড় আন্তর্জাতিক শব্দও এল—নিরাপদ প্রত্যাবাসন, স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবর্তন, মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন। শুধু ফেরার নৌকাটি এল না।
প্রায় নয় বছর পরে কক্সবাজারের পাহাড়ে এখন একটি জনগোষ্ঠীর দ্বিতীয় জীবন তৈরি হয়েছে। জীবন বলা যায় কি না, সেটিই প্রশ্ন। জন্ম হচ্ছে, মৃত্যু হচ্ছে, শিশু যুবক হচ্ছে, নতুন পরিবার তৈরি হচ্ছে। শুধু ‘বাড়ি ফেরা’ হচ্ছে না।
সময় অবশ্য বসে থাকেনি। এত বছরে সে রোহিঙ্গাদের সমস্যাকে যত্ন করে বড় করেছে। যে সংকট শুরু হয়েছিল মানবিক বিপর্যয় দিয়ে, সেটি ই এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার হিসাবের খাতায় জেঁকে বসেছে বড় সমস্যা হিসেবে।
নয় বছর পরে সেই পুটলি হাতে আসা রোহিঙ্গারা এখন অনেক শক্তিশালি। এখন তাদের বগলে পুটলি ছাড়াও রয়েছে বহিঃদেশগুলোর ইন্ধন, ইয়াবার বড়ি, অস্ত্র। ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব, মাদক, মানবপাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি, আধিপত্যের লড়াই—এসব এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আবার এই অপরাধের দায় পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়াও অন্যায়।
অপরাধী আর আশ্রয়প্রার্থী এক জিনিস নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যৎহীন অবস্থায় আটকে রাখলে অপরাধী গোষ্ঠীগুলো যে তাদের অসহায়ত্বের পুঁজি দিয়ে দোকান খুলে বসবে, তাতেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। সেই ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা শিবিরে খুলেছে নানা ধরনের দোকান। চোরাবাজার, ক্যাম্পে আরসা, আরএসও কিংবা অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে সংঘর্ষ বহুবার রক্তাক্ত হয়েছে। মাদক পাচার ও অস্ত্রের নেটওয়ার্কও সীমান্তকে ব্যবহার করছে। হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ক্রমেই ক্যাম্পের নিরাপত্তাকে জটিল করেছে।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, ক্যাম্পে গড়ে ওঠা অপরাধী অর্থনীতি কাঁটাতারের বেড়া মানে না। ইয়াবা কিংবা অস্ত্রের কোনো শরণার্থী পরিচয়পত্র নেই। মাদক ব্যবসায়ীও জানে না কোথায় মানবিক সংকট শেষ এবং কোথায় জাতীয় নিরাপত্তা শুরু।
বাংলাদেশকে তাই অত্যন্ত সতর্কভাবে একটি পার্থক্য ধরে রাখতে হবে—রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এক জিনিস, তাদের দুর্দশাকে পুঁজি করা অপরাধী নেটওয়ার্ক আরেক জিনিস। বারো লাখ শরণার্থীকে জাতীয় নিরাপত্তার শত্রু হিসেবে দেখা যেমন ভয়ংকর ভুল হবে, তেমনি তাদের ঘিরে গড়ে ওঠা অপরাধী অর্থনীতি, অস্ত্রের নেটওয়ার্ক কিংবা সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে মানবিকতার নামে উপেক্ষা করাও সমান ভুল
উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারাও তাই এই সংকটের নীরব অংশীদার হয়ে গেছেন। অপহরণের ভয়, রাতের গোলাগুলি, মাদক ব্যবসার বিস্তার, শ্রমবাজারে চাপ এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তন—সব মিলিয়ে সেখানে ধীরে ধীরে একটি অস্বাভাবিক স্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছে।
কক্সবাজারের সমুদ্র শান্ত, কিন্তু তার পেছনের পাহাড়ে রাত নামলে অন্য ভূগোল খুলে যায়। ২০২৪ ও ২০২৫—দুই বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত ৮৪টি হত্যাকাণ্ডের হিসাব পাওয়া গেছে। কোথাও আধিপত্যের লড়াই, কোথাও সশস্ত্র গোষ্ঠীর হিসাব-নিকাশ, কোথাও মাদক, অপহরণ, পুরোনো শত্রুতা। ক্যাম্পগুলো এখন শুধু আশ্রয়ের ঠিকানা নয়, অপরাধ ও অস্ত্রের ছায়াও সেখানে ক্রমশ ঘন হচ্ছে। শান্তির তাঁবুর ফাঁকে ফাঁকে তাই ভয়ও বাসা বেঁধেছে।
কিন্তু বাংলাদেশের বিপদ এখন শুধু কক্সবাজারের ভেতরে নয়। বিপদের আরেকটি অধ্যায় লেখা হচ্ছে সীমান্তের ওপারে। রাখাইনে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ গত কয়েক বছরে দ্রুত বদলে গেছে। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাত তীব্র হওয়ার পর রাখাইনের একের পর এক এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মংডু দখলের পর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের প্রায় পুরো অংশেই আরাকান আর্মির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা সামনে আসে।কূটনীতির পুরোনো বইতে সীমান্তের ওপারে থাকে আরেকটি রাষ্ট্র। তার পতাকা থাকে, সীমান্তরক্ষী থাকে, টেলিফোন নম্বর থাকে। সমস্যা হলে ফোন করা যায়। কিন্তু এখন সেখানে কাগজে একটি রাষ্ট্র, মাটিতে আরেক শক্তি।
বাংলাদেশকে মিয়ানমারের স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়, অথচ সীমান্তের বাস্তব নিয়ন্ত্রণে থাকা আরাকান আর্মিকেও ট্যাক্স দিয়ে চলতে হয়। তাদের উপেক্ষা করাও সম্ভব নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশি জেলে আটক হওয়া এবং পরে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের ফিরিয়ে আনার ঘটনাগুলো এই নতুন বাস্তবতারই পরিচয় দেয়।
সীমান্তে কে রাষ্ট্র, কে অ-রাষ্ট্র—আইনের বই তার উত্তর দেয় একভাবে। বাস্তব কখনো অন্যভাবে। আর এখানেই কূটনৈতিক বিপদ। এর সঙ্গে রয়েছে আরও কঠিন প্রশ্ন—যে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ ফেরত পাঠাতে চায়, তারা ফিরবে কার শাসনের অধীনে?
আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখা রোহিঙ্গাদের রাখাইনে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার কথা বললেও রোহিঙ্গাদের পৃথক জাতিসত্তা, নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মংডু ও বুথিডং এলাকায় রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার নানা অভিযোগও গত কয়েক বছরে সামনে এসেছে। ফলে প্রত্যাবাসন এখন কেবল সীমান্ত পার হওয়ার বিষয় নয়। প্রত্যাবাসনের কাগজে ‘রাখাইন’ লিখলেই এখন রোহিঙ্গাদের বাড়ি তৈরি হয়ে যায় না।
একজন মানুষকে ফেরত পাঠাতে হলে সেখানে তার জীবন থাকতে হয়। বাড়ি থাকতে হয়। নিরাপত্তা থাকতে হয়। নাগরিক অধিকার থাকতে হয়। সন্তানকে নিয়ে রাতে ঘুমানোর নিশ্চয়তা থাকতে হয়। এসবের কোনোটিই যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে প্রত্যাবাসন একটি সুন্দর কূটনৈতিক শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই জায়গায় মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক উদ্যোগটি আগ্রহের সঙ্গে দেখার মতো।
মালয়েশিয়া মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর জন্য শনাক্তকরণ, নথিবদ্ধকরণ ও যাচাইয়ের একটি বাস্তব প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। সেখানে সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে, মানুষ যাচাই করা হয়েছে, ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য ধাপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে মালয়েশিয়ার পথ অনুসরণ করাই নিরাপদ কিংবা নৈতিক সমাধান। বরং এখানেই সবচেয়ে বড় সতর্কতার জায়গা।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বর্তমান মিয়ানমার পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক কিংবা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছে। রাখাইনে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ থাকায় শুধু বিমানে বা জাহাজে তুলে মানুষকে ফেরত পাঠানোকে ‘সমাধান’ বলা যায় না।
তবু মালয়েশিয়ার উদাহরণটি একটি বিষয় পরিষ্কার করে—কূটনৈতিক আলোচনা যখন ফলপ্রসূ হয়, তখন তা সংখ্যা, তালিকা, যাচাই, সময়সীমা ও বাস্তব প্রক্রিয়ায় নেমে আসে। বাংলাদেশের প্রয়োজন ঠিক সেই জায়গাটিতেই আরও শক্ত অবস্থান।
প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে প্রয়োজন একটি স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য রূপরেখা—কতজন ফিরবে, কোথায় ফিরবে, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ থাকবে কি না, নাগরিকত্ব বা আইনি পরিচয়ের নিশ্চয়তা কী হবে এবং ফিরে যাওয়া মানুষের জমি, বাড়ি ও চলাচলের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত হবে। কারণ শুধু মানুষ পাঠানো প্রত্যাবাসন নয়। মানুষকে নিজের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া প্রত্যাবাসন।
এই সংকটের আরেকটি ভয়ংকর দিক হলো নতুন রোহিঙ্গা প্রবাহের আশঙ্কা। রাখাইনে সংঘাত বাড়লে বাংলাদেশ আবার নতুন মানুষের ঢলের মুখে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে যে বিশাল জনসংখ্যার চাপ বাংলাদেশ বহন করছে, তার সঙ্গে আরও কয়েক লাখ মানুষ যুক্ত হলে তার অভিঘাত শুধু ত্রাণ ও আবাসনের ওপর পড়বে না। চাপ পড়বে স্থানীয় অর্থনীতিতে। বন ও পাহাড়ে। শ্রমবাজারে। আইনশৃঙ্খলায়। সীমান্তে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সামাজিক সম্পর্কে।
পৃথিবীর সব জায়াগায়তেই আতিথেয়তারও একটি ধারণক্ষমতা আছে। ঘর যতই বড় হোক, যদি একসময় উঠোন পর্যন্ত বিছানা পাততে হয়- সেটা হবে এদেশের জন্য আরেকটি মহা সংকট। আর এই সংকটের ঢেউ শুধু বাংলাদেশেই থামবে, এমনটা ভাবারও কারণ নেই।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা, রাখাইনে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অস্ত্র ও মাদকের আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্ক—এসব উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বৃহত্তর বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে। একটি অস্থিতিশীল সীমান্ত কখনো চুপচাপ বসে থাকে না। সে তার চারপাশে অস্থিরতার আরেকটি মানচিত্র তৈরি করে। সেই কারণে রোহিঙ্গা সংকটকে কেবল শরণার্থী ব্যবস্থাপনার সমস্যা হিসেবে দেখার সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এটি এখন একই সঙ্গে মানবিক সংকট, সীমান্ত সংকট, অপরাধ-অর্থনীতির সংকট, কূটনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট।
সবচেয়ে বড় বিপদ সম্ভবত সময়।
সময় সমস্যাকে সবসময় সারায় না। কোনো কোনো সমস্যা সময় পেলে শিকড় গজায়। প্রায় নয় বছর ধরে ক্যাম্পে বড় হচ্ছে একটি প্রজন্ম। অনেক শিশু রাখাইন দেখেনি। তাদের কাছে ‘বাড়ি’ শব্দটি হয়তো বাবা-মায়ের গল্পের কোনো জায়গা। কাজের বৈধ সুযোগ সীমিত, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, শিক্ষার সুযোগও প্রয়োজনের তুলনায় কম। এমন পরিবেশে হতাশা জন্মায়। আর হতাশার বাজারে সবচেয়ে আগে হাজির হয় ড্রাগ, অপরাধী, পাচারকারী এবং বন্দুকধারী।
বাংলাদেশকে তাই অত্যন্ত সতর্কভাবে একটি পার্থক্য ধরে রাখতে হবে—রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এক জিনিস, তাদের দুর্দশাকে পুঁজি করা অপরাধী নেটওয়ার্ক আরেক জিনিস। বারো লাখ শরণার্থীকে জাতীয় নিরাপত্তার শত্রু হিসেবে দেখা যেমন ভয়ংকর ভুল হবে, তেমনি তাদের ঘিরে গড়ে ওঠা অপরাধী অর্থনীতি, অস্ত্রের নেটওয়ার্ক কিংবা সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে মানবিকতার নামে উপেক্ষা করাও সমান ভুল।
রাষ্ট্রের কাজ এই দুইয়ের মাঝখানে কঠিন সীমানা পিলার গেথে দেওয়া। ক্যাম্পের সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা, দক্ষতা ও নিয়ন্ত্রিত জীবিকার সুযোগ বাড়াতে হবে। অপরাধী নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভাঙতে হবে। মাদক ও অস্ত্রের রুট বন্ধ করতে হবে। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়াতে হবে। সীমান্ত নজরদারিকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ, রাখাইনের বাস্তব ক্ষমতাকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়—এই তিন দিকেই সমান্তরাল কূটনীতি চালাতে হবে।
রাষ্ট্রের আবেগ থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রনীতি আবেগ দিয়ে চলে না। রোহিঙ্গারা যখন প্রথম বাংলাদেশে এসেছিল, তাদের হাতে ছিল পুঁটলি। বাংলাদেশের হাতে ছিল এক বাটি ভাত। প্রায় নয় বছর পরে টেবিলে এখন আরও অনেক কিছু পড়ে আছে—ইয়াবার বড়ি, বিদেশি বন্দুক, অপহরণের তালিকা, আরাকান আর্মির মানচিত্র, মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ, কমতে থাকা আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং বারো লাখের বেশি মানুষের অনিশ্চিত আগামী। মানবিক সমস্যা বেশিদিন ফেলে রাখলে তার স্বভাব বদলে যায়। দুঃখের সঙ্গে ক্ষোভ মেশে। ক্ষোভের সঙ্গে অর্থনীতি। অর্থনীতির সঙ্গে অপরাধ। অপরাধের সঙ্গে বন্দুক। তারপর এক সকালে রাষ্ট্র আবিষ্কার করে—যে মানুষগুলো একদিন আশ্রয় চাইতে এসেছিল, তারাই দুর্দশার চারপাশে একটি বারুদঘর তৈরি করে ফেলেছে। আর দেশ সেই বারুদঘরকে কোলে নিয়ে বসে আছে।
লেখক: সাংবাদিক।





