সংলাপই স্থায়ী সমাধানের পথ

সংগৃহীত ছবি
পরীক্ষা, মূল্যায়ন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তায় নামে, তখন বিষয়টি কেবল ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ হিসেবে না দেখে এর পেছনের কারণগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি।
তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের যৌক্তিক দাবি, উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া রাষ্ট্র, শিক্ষা প্রশাসন এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, দাবি আদায়ের ভাষা যেন কখনো সহিংসতা, ভাঙচুর বা জনদুর্ভোগের কারণ না হয়। শিক্ষা মানুষকে যুক্তি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখায়।
আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা
যায়, ক্ষোভ বা অসন্তোষের শুরুতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর সংলাপ না হওয়ায় পরিস্থিতি
জটিল রূপ নেয়। এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়, প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম
ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। অথচ সময়োচিত আলোচনার মাধ্যমে অধিকাংশ
সংকটেরই শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। শিক্ষার্থীদের আবেগ থাকবেই, তবে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত
করার গুরুদায়িত্ব শিক্ষক ও প্রশাসনের। কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য মনোযোগ
দিয়ে শোনা এবং যুক্তিসংগত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা। এতে প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের
আস্থা বাড়বে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ও সমাজ বিনির্মাণকারী। তাই
তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পরমত-সহিষ্ণুতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের
আন্দোলনকে সংঘাতের দৃষ্টিতে না দেখে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের বার্তা হিসেবে বিবেচনা
করতে হবে। একটি উন্নত, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের আস্থার কোনো
বিকল্প নেই। সংঘাত নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সংলাপই হোক যেকোনো সংকট উত্তরণের স্থায়ী
পথ।




