আপাতদৃষ্টিতে সংগীত শিক্ষকের প্রয়োজন নেই

সংগৃহীত ছবি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের আপাতদৃষ্টিতে প্রয়োজন নেই বলেই মনে হয়। এটি কোনো সর্বজনীন সিদ্ধান্ত নয়; বরং কিছু বাস্তবসম্মত ও কৌশলগত কারণে আলাদাভাবে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার একটা অপপ্রয়াস মাত্র। একজন সাধারণ শিক্ষক যেন ক্লাসে ছড়া-গান বা দেশাত্মবোধক গান গেয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে পারেন সেদিকে নজর দেওয়াই বাস্তবসম্মত। ইচ্ছা করলে সেভাবেই কাঠামো দাঁড় করানো যায়। এতে করে আলাদা সংগীত শিক্ষকের ওপর নির্ভরতাও কমে আসবে। তা ছাড়া আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিপুলসংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদা সংগীত কক্ষ, হারমোনিয়াম, তবলা বা অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের জোগান দেওয়া এবং প্রতি স্কুলে একজন করে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া বেশ ব্যয়বহুল। প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো, শিশুদের ভাষা (বাংলা ও ইংরেজি), গণিত, বিজ্ঞান এবং নৈতিকতার শক্ত ভিত্তি গড়ে দেওয়া।
বর্তমানে আলাদা করে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ না হলেও বিদ্যালয়ে জাতীয় সংগীত, বাৎসরিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সামনে রেখে সংগীতচর্চা নিয়মিতই চলে। তা ছাড়া গান-বাজনায় অনেকেই পারদর্শী নয়। অনেক অভিভাবক আছেন যারা গান-বাজনা পছন্দ করেন না। যারা একান্তই সংগীতের ওপর চর্চা করতে চায়, তারা ইচ্ছা করলে প্রতিটি উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি বা সংগীত বিদ্যালয়ে গিয়ে চর্চা করতে পারে। আমার মতে, সব শিক্ষার্থীর ওপর গান-বাজনার চাপ না দিয়ে শুধু ব্যক্তির পছন্দের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো।
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী
নালিতাবাড়ী, শেরপুর




