অন্য শহরেও চাই নারীবান্ধব গণপরিবহন

সংগৃহীত ছবি
রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় সম্প্রতি চালু হয়েছে বিআরটিসির বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ বা ‘পিংক বাস’। এসব বাসের চালক, কন্ডাক্টর, হেলপার ও যাত্রী— সবাই নারী। বলা হচ্ছে, উদ্যোগটি ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে। এই ঘোষণা দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরের বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য নারী যাতায়াত করেন। কিন্তু অধিকাংশ মফস্বল ও জেলা শহরের গণপরিবহনে নারীদের জন্য বিশেষ কোনো সুবিধা নেই। বাসে ভিড়ের সুযোগে যৌন হয়রানি ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নারী যাত্রীদের নিত্যদিনের সঙ্গী।
নিরাপত্তার অভাবে অনেক নারী যাতায়াত সীমিত করতে বাধ্য হন কিংবা ব্যয়বহুল বিকল্প বাহন ব্যবহার করেন, যা
তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পারিবারিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিআরটিসির ‘পিংক বাস’ মডেলটি শুধু নারীর নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, পরিবহন খাতে নারীর কর্মসংস্থানও বাড়ায়। দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে প্রাথমিকভাবে দু-তিনটি বাস দিয়ে পাইলট প্রকল্প চালু করা যেতে পারে। পরে চাহিদা অনুযায়ী তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তবে শুধু পৃথক বাস চালুই যথেষ্ট নয়; জেলা ও বিভাগীয় শহরের বাসস্ট্যান্ডে পর্যাপ্ত আলো, নারী পুলিশের উপস্থিতি এবং অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পিংক বাসের এই উদ্যোগ দ্রুত সব জেলা ও বিভাগে সম্প্রসারণ করা জরুরি। কোনো অঞ্চলই যেন নারীবান্ধব গণপরিবহনের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
লেখক: আহ্বায়ক, আলেয়া সুলতানা স্মৃতি পাঠাগার, ফরিদপুর







