Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
মনিরুলের ‘মানবতার দুয়ার’
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কা : ইরান, ইসরায়েল ও ইউক্রেনের কী হবে

  • বদলে যেতে পারে বিশ্বরাজনীতির সমীকরণ
রাকিব হাসান
রাকিব হাসান
agamir somoy
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:২৭
শেয়ার করুন:
ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কা : ইরান, ইসরায়েল ও ইউক্রেনের কী হবে

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট পড়েছে। ফলাফলও বেরিয়েছে। কিন্তু সেই ফলাফলের প্রভাব শুধু ওয়াশিংটনের ক্ষমতার করিডরে আটকে নেই। এর ঢেউ পৌঁছে গেছে তেহরান, তেল আবিব, কিয়েভ ও মস্কোতে। কারণ এবারের নির্বাচনে শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলায়নি। প্রশ্ন উঠেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও।

গত ৪ নভেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, রিপাবলিকানদের হারিয়ে কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় এবং ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ এই ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফলাফলকে সাধারণ নির্বাচনী পরাজয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কারণ গত প্রায় দুই বছরে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিপক্ষের সঙ্গে দর-কষাকষির নতুন পদ্ধতি নিয়েছেন। ইউরোপীয় নিরাপত্তা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ—সবখানেই তার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এখন সেই নীতির ওপরই নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা দরকার। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্পের হাতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকবে। তিনি সামরিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। কূটনৈতিক আলোচনা চালাতে পারবেন। নির্বাহী আদেশও দিতে পারবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে বাজেট, সামরিক সহায়তা, নিয়োগ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের বাধার মুখে পড়তে পারেন।

রয়টার্সের এক বিশ্লেষণেও এই সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ ট্রাম্পের ক্ষমতা শেষ হচ্ছে না। কিন্তু তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে যাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় তিনটি পরীক্ষাক্ষেত্র এখন ইরান, ইসরায়েল ও ইউক্রেন।

ইরান যুদ্ধের বোঝা নামাতে চাইবেন ট্রাম্প, নাকি আরও কঠোর হবেন?

ইরান যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটনের হিসাব হয়তো ছিল সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তেহরানকে চাপে রাখা যাবে। কিন্তু আট মাসের সংঘাতের পর যুদ্ধটি এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক লড়াই নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। বেড়েছে তেলের দাম। বেড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়। এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে রিপাবলিকানদের।

ট্রাম্প নিজেই ফক্স নিউজকে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ তার দলের নির্বাচনী ক্ষতির একটি কারণ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও সরাসরি বলেছেন, যুদ্ধের কারণেই রিপাবলিকানরা হেরেছে।
তেহরান অবশ্য বিষয়টিকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন সরকার যদি নিজের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট শক্তির চাপ মেনে চলে, তাহলে ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।

অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল পরিবর্তন হলেই ওয়াশিংটনের ইরাননীতি বদলে যাবে—এমন ধারণা ভুল। আল জাজিরার প্রতিবেদনে ইরানের এই অবস্থান উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। ইরান নির্বাচনী ফলাফলে উচ্ছ্বাস দেখালেও যুদ্ধের আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয়। বরং দেশটি একই সঙ্গে দুটি পথ খোলা রাখছে। একদিকে সামরিক প্রস্তুতি। অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনা। কারণ তেহরান জানে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প সমঝোতার পথে যেতে পারেন। আবার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপও নিতে পারেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি ভায়েজ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ। মুখরক্ষার মতো একটি চুক্তি করে বিজয় ঘোষণা করা। অথবা সামরিক অভিযান বাড়িয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। তার সতর্কবার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে দুর্বল হয়ে পড়া কোনো প্রেসিডেন্ট কখনো কখনো যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে চাইতে পারেন।

চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিলও মনে করছেন, ইরান নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী ভাবতে পারে। কিন্তু তাতে দেশটির সমস্যার সমাধান হবে না। তার মতে, পূর্ণাঙ্গ চুক্তির চেয়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়া বেশি বাস্তবসম্মত।

রয়টার্স বলছে, নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে আলোচনা এগোলেই যে যুদ্ধ থেমে যাবে, তার নিশ্চয়তা নেই।
এখানে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকট ও ইরানের কৌশলগত অবস্থান এক জায়গায় এসে মিলেছে। ট্রাম্পের প্রয়োজন একটি কূটনৈতিক সাফল্য। ইরানের প্রয়োজন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ কমানো। কিন্তু কেউই প্রকাশ্যে দুর্বলতা দেখাতে চাইছে না। ফলে সামনে সমঝোতার চেষ্টা এবং সামরিক হুমকি—দুটিই পাশাপাশি চলতে পারে।

দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে কি দূরত্ব বাড়ছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক বহু দশক পুরোনো। এই সম্পর্কের ভিত্তি শুধু রাজনৈতিক বন্ধুত্ব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামরিক সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অস্ত্র প্রযুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ।

রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন সেই সম্পর্কেই এখন নতুন প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনের দিন ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৭ সাল থেকে ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা হবে। তার বক্তব্য, ইসরায়েলের এখন আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তার আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে ১০ বছরের একটি সামরিক সহায়তা চুক্তি হয়েছিল। এর আওতায় ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মোট ৩৮০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়ার কথা। অর্থাৎ বছরে গড়ে ৩৮০ কোটি ডলার।

ট্রাম্পের ঘোষণার ফলে এই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ঘোষণা আর বাস্তবায়ন এক বিষয় নয়। বিদ্যমান চুক্তি, কংগ্রেসের ভূমিকা এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের পারস্পরিক নির্ভরতা বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা বন্ধের প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এপি জানিয়েছে, হঠাৎ করে সহায়তা বন্ধ করতে গেলে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

কেন এই পরিবর্তন?

এর পেছনে গাজা যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘদিনের মার্কিন সমর্থন সত্ত্বেও গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। পাশাপাশি রিপাবলিকানদের একটি অংশও প্রশ্ন তুলছে, ইসরায়েলকে সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থ কতটা রক্ষা হচ্ছে।
রয়টার্সের অন্য আরেকটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের নতুন কংগ্রেস ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা, পশ্চিম তীরের সহিংসতা এবং ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে আরও তদন্ত ও শুনানির উদ্যোগ নিতে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা থাকায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল অরেন সিএনএনকে বলেছেন, এখন দুই দলের মধ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানে পরিণত হয়েছে। তার আশঙ্কা, শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আয়রন ডোমের মতো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির যৌথ উন্নয়নও রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়তে পারে।

তবে এগুলো সম্ভাব্য পরিণতি। এখনই এমন সহযোগিতা বন্ধের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এখানে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করার পক্ষে তার অবস্থান রয়েছে। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এই যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে ট্রাম্পের দলকে।

ফলে নেতানিয়াহুর জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এখন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ধরে রাখতে চান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও অক্ষুণ্ণ রাখা তার জন্য জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়কে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন।

এখানে মূল পরিবর্তনটি কোথায়?

আগে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছিল দুই দলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐকমত্য। এখন সেই ঐকমত্যের জায়গায় রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র রাতারাতি ইসরায়েলের প্রতিপক্ষ হয়ে যাবে। দুই দেশের সামরিক, গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক অনেক গভীর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পও এই সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত।

বরং প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতে ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন কতটা শর্ত আরোপ করবে। এটি শুধু নেতানিয়াহুর জন্য নয়, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কিয়েভের জন্য সুযোগ, কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকিও

ইরান ও ইসরায়েলের মতো ইউক্রেনের ভবিষ্যৎও যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তবে কিয়েভের হিসাব কিছুটা আলাদা। গত কয়েক মাসে ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর চাপ দিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার জন্য কিয়েভকে বিভিন্ন শর্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের সমস্যা হলো, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দেশটির যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কিয়েভের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের ফলে ইউক্রেন আরও বেশি সহযোগিতা পেতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। তার ভাষায়, ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনকে সমর্থন এবং সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়েও তারা কথা বলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন হলে ইউক্রেনের জন্য আরও সহযোগিতা আসবে বলেই তার প্রত্যাশা। তবে জেলেনস্কি রিপাবলিকানদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এখানে একটি বাস্তবতা বুঝতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এককভাবে সব সামরিক ও আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করেন না। কংগ্রেসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন কংগ্রেস ইউক্রেনের জন্য সহায়তার প্রস্তাব আনতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের রাশিয়াসংক্রান্ত নীতির ওপর নজরদারি বাড়াতে পারে। এক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তার উদ্যোগ নিতে পারে। রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ট্রাম্পের নীতিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

তবে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কংগ্রেসে নতুন সহায়তার প্রস্তাব উঠলেই তা দ্রুত ইউক্রেনের হাতে পৌঁছাবে না। বিশেষ করে প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহে সময় লাগে।

পুতিনের জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন হিসাব

এখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের তৎপরতা নিয়ে গত কয়েক মাসে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের মাঠে রাশিয়ার অবস্থান ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন রাশিয়ার জন্য দুটি সম্ভাবনা তৈরি করছে। প্রথমত, ট্রাম্প যদি নির্বাচনী পরাজয়ের পর ইউক্রেনের বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হন, তাহলে কিয়েভ নতুন সহায়তা পেতে পারে। এতে রাশিয়ার জন্য যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দুর্বল হওয়ার সময় পুতিন মনে করতে পারেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে আরও বড় পরিবর্তন আসার আগে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

সিএনএনের এক বিশ্লেষণে এই দ্বিতীয় আশঙ্কাটির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ট্রাম্পের রাজনৈতিক সময়সীমা যত এগিয়ে আসবে, পুতিন তত দ্রুত সামরিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন—এমন একটি ঝুঁকি রয়েছে। যদিও এটি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়ার ঘোষিত কোনো সামরিক পরিকল্পনা নয়।

ইউক্রেনের জন্য তাই পরিস্থিতি একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক ও উদ্বেগজনক। কংগ্রেসে নতুন সমর্থন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু রাশিয়া সেই পরিবর্তনের আগেই যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

নির্বাচনের প্রভাব কি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ ছাড়িয়ে এশিয়াতেও পৌঁছাবে?

এই নির্বাচনের প্রভাব শুধু তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য, সামরিক ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক।

প্রথমত, জ্বালানি বাজার। ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ কমতে পারে। কিন্তু সংঘাত বাড়লে পরিস্থিতি উল্টো হবে।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। ইউরোপকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও আরও বেশি অনুভব করতে হবে।
তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও শুল্কনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলে এশিয়ার দেশগুলো বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে সতর্ক হতে পারে। চতুর্থত, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ট্রাম্পের উদ্যোগ নতুন কংগ্রেসের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্যও এর তাৎপর্য রয়েছে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়বে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং মূল্যস্ফীতিতে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে সংঘাত কমে এলে জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফেরার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু যুদ্ধবিরতি হলেই তেলের দাম আগের অবস্থায় ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উৎপাদন, সরবরাহ, বীমা ব্যয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে কী হতে পারে

এখন প্রশ্ন, ট্রাম্প এই নির্বাচনী ধাক্কা সামলাবেন কীভাবে? ইরান, ইসরায়েল ও ইউক্রেনের ক্ষেত্রে তার পরবর্তী পদক্ষেপ-ই বা কী হবে?

এ মুহূর্তে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা যায়। প্রথমত, কূটনীতির দিকে অগ্রসর হওয়া। ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সীমিত সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে পারেন। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধেও নতুন আলোচনা শুরু করতে পারেন। এতে সাময়িক উত্তেজনা প্রশমন ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি মিলতে পারে।

দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ট্রাম্প নিজের আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারেন। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বাড়াতে পারেন। ইসরায়েলকে নিরাপত্তা সহযোগিতা দিতে পারেন, আবার ইউক্রেনকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিতে পারেন। এতে আঞ্চলিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। সবশেষ, কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্টের মধ্যে নীতিগত সংঘাত। নতুন কংগ্রেস সামরিক ব্যয়, ইসরায়েলকে সহায়তা, ইউক্রেনের জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়াতে পারে। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধের মূল্য শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে দিতে হয় না। সেই মূল্য দিতে হয় ভোটারদেরও।

ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতি দীর্ঘদিনের মার্কিন সমর্থন নিয়ে দুই দলের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনও নতুন কংগ্রেসের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য ফেরানোর আশা করছে।

তবে ট্রাম্পের সামনে এখনো বড় সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে কূটনৈতিক আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। আবার নিজের আগের অবস্থানে অনড় থেকেও এগোতে পারেন।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচনে পরাজয় মানেই পররাষ্ট্রনীতির তাৎক্ষণিক পরিবর্তন নয়। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্টের হাতে এখনো সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

ইরান চাইবে এই রাজনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড় আদায় করতে। ইসরায়েল চাইবে তার নিরাপত্তা সহযোগিতা অক্ষুণ্ণ রাখতে। ইউক্রেন চাইবে নতুন কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে। আর রাশিয়া চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে নিজেদের কৌশলগত সুবিধা খুঁজে নিতে।

যুক্তরাষ্ট্রডোনাল্ড ট্রাম্পভ্লাদিমির পুতিনভলোদিমির জেলেনস্কিবেনিয়ামিন নেতানিয়াহুইরানআমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ভাগ্য খুলতে পারে দেড়শ কর্মকর্তার

    ভাগ্য খুলতে পারে দেড়শ কর্মকর্তার

    অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করলেন শিক্ষক, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

    অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করলেন শিক্ষক, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

    মাধবপুরে পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪২৯২ লিটার তেল চুরি

    মাধবপুরে পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪২৯২ লিটার তেল চুরি

    পরীমনিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

    পরীমনিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

    শুটিংয়ের ফাঁকে শিল্পীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ অভিনেত্রীর

    শুটিংয়ের ফাঁকে শিল্পীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ অভিনেত্রীর

    ইপিএসে সবাইকে ছাড়িয়ে পূবালী ব্যাংক

    ইপিএসে সবাইকে ছাড়িয়ে পূবালী ব্যাংক

    একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন, চারটি স্থগিত

    একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন, চারটি স্থগিত

    বকেয়া বিলের সংযোগ কাটতে গিয়ে হামলার শিকার দুই বিদ্যুৎকর্মী

    বকেয়া বিলের সংযোগ কাটতে গিয়ে হামলার শিকার দুই বিদ্যুৎকর্মী

    ‘পূর্বজন্মে পাপ করলে এ জন্মে বিএনপি করে’, পোস্ট ঘিরে পুলিশ-প্রেস মিনিস্টার বিতর্ক

    ‘পূর্বজন্মে পাপ করলে এ জন্মে বিএনপি করে’, পোস্ট ঘিরে পুলিশ-প্রেস মিনিস্টার বিতর্ক

    আশুগঞ্জে নিজের অস্ত্রের গুলিতে এসআইয়ের আত্মহত্যা

    আশুগঞ্জে নিজের অস্ত্রের গুলিতে এসআইয়ের আত্মহত্যা

    রূপান্তরের পথপ্রদর্শক হতে পারে

    রূপান্তরের পথপ্রদর্শক হতে পারে

    কুড়িকৃবি’র স্থান নির্ধারণ প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক

    কুড়িকৃবি’র স্থান নির্ধারণ প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক

    সারা দেশে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা

    সারা দেশে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা

    গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান

    গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান

    জাহাজে বেতন ১৫ লাখ, মেরিনে লাখের নিচে, মিলছে না শিক্ষক

    জাহাজে বেতন ১৫ লাখ, মেরিনে লাখের নিচে, মিলছে না শিক্ষক