যুদ্ধের চেয়ে ‘আত্মসমর্পণকে বেশি ভয় পায়’ ইরান

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল পরমাণু ইস্যুতে ইরান সমঝোতা করুক। সেই অনুযায়ী আলোচনাও চলছিল। এরমধ্যে গত বছর ইসরায়েল হামলা চালিয়ে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করতে পারলেও বেশ একটা সুবিধা করতে পারেনি। ফলে দেশটির অনুরোধে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাতেও ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট মনে হয়নি।
এরপর থেকে আলোচনার জন্য চাপ দিতে গিয়ে বারবার হামলার হুংকার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার হুমকির মধ্যে সম্প্রতি দুই দেশ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আলোচনা করছিল। এরমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। এতে আরো বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।
তবে ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেও যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা সুবিধা করতে পারবে বলে মনে করেন না কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসি। তিনি বিশ্বাস করেন যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কৌশল হচ্ছে যতক্ষণ না কেউ আত্মসমর্পণ করে ততক্ষণ পর্যন্ত যত বেশি সম্ভব সিনিয়র নেতাদের হত্যা করা। তার মতে, এটি একটি ভুল হিসাব।
উপসাগরে ট্রাম্প বিমানবাহী রণতরী এনে ইরানিদের ভয় দেখাতে চেয়েছেন বলে মনে করেন পারসি। তার মতে, ট্রাম্প ভেবেছিলেন যে উপসাগরে বিমানবাহী রণতরী আনার মাধ্যমে ইরানিদের ভয় দেখাবেন। তার আশা ছিল, এটি ইরানিদের এতটাই ভীত করবে যে তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে।
কিন্তু ট্রাম্পের এই হিসাব ভুল বলেই মনে হচ্ছে কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতার। তিনি বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বুঝতে পারছে না যে এই বিশেষ ধর্মতন্ত্র (ইরানি শাসনব্যবস্থা) যুদ্ধের চেয়ে আত্মসমর্পণকে অনেক বেশি ভয় পায়।
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এর কারণ হলো ইরান সরকার বিশ্বাস করে যে, তারা যুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে। কিন্তু যদি আত্মসমর্পণ করে, তাহলে তারা আর টিকে থাকতে পারবে না।
‘কাউকে আত্মসমর্পণে রাজি করাতে গেলে শুধু নেতৃত্বের একের পর এক স্তর সরিয়ে ফেললেই হবে না, বরং পুরো দেশটিকেই কার্যত ধ্বংস করে দিতে হতে পারে’ যোগ করেন পারসি।
তিনি আরও বলেন, এমনটা সম্ভব হলেও এতে কত সময় লাগতে পারে, তা ট্রাম্প প্রশাসন জানে না। আর সেই সময়ের মধ্যে ইরানের কৌশল হবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর, মার্কিন সেনাদের ওপর, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর এবং বিশ্ববাজারের ওপর যতটা সম্ভব ক্ষতি করা— এটি ট্রাম্পের জন্য এতটাই ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে যে তিনি এই চেষ্টা করাই ছেড়ে দেন।



