তারেক রহমানকে দেখতে গিয়ে ক্ষোভ, শামা ওবায়েদকে ঘিরে উত্তেজনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হোটেলের সামনে এভাবেই জড়ো হয়েছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা। ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘ অপেক্ষার পরও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখতে না পেয়ে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার বিকেল থেকে ম্যানহাটনের হোটেলটির সামনে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তার সাক্ষাৎ পাননি। এ নিয়ে একপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে হোটেলের লিফটের সামনে শামা ওবায়েদকে ঘিরে কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি আগে থেকেই জানা থাকলেও সাক্ষাৎ কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত সমন্বয় ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ছিল না। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর প্রিয় নেতাকে কাছে না পাওয়ার হতাশা থেকেই তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
শুক্রবার বিকেল থেকে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও অনেকে তারেক রহমানকে একনজর দেখতে নিউইয়র্কে আসেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পরও অনেকে তার দেখা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন।
এ সময় ক্ষুব্ধ কয়েকজন নেতাকর্মী উচ্চস্বরে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। আপনারা আমাদের নেতাকে কর্মীদের কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।’
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নিউইয়র্ক স্টেটের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাদের নেতা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তাকে দেখার জন্য নেতাকর্মীদের যে আবেগ ছিল, অব্যবস্থাপনার কারণে তা ক্ষোভে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ অপেক্ষার পর আমাদের নেতাকে আমেরিকায় পেলাম। নেতাকে দেখার জন্য যে আবেগ ছিল, সেটা পরবর্তীতে অব্যবস্থাপনার কারণে খুবই ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। তবে নেতার প্রতি আমাদের ভালোবাসা অবিচ্ছিন্ন আছে।’
সাইদুর রহমান আরও বলেন, ‘নেতাকে ঘিরে যারা এই আয়োজন করেছেন, আয়োজনের ব্যবস্থাপকদের আরও একটু সচেতন হওয়া জরুরি ছিল।’
ওমান থেকে আসা যুবদলের নেতা সামাঊন মোল্লা জানান, তারেক রহমানকে দেখতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ওমানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নেতাকর্মীরা নিউইয়র্কে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘বহির্বিশ্ব থেকে, ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক নেতাকর্মী তারেক রহমানকে দেখার জন্য এসেছেন। কিন্তু এই অব্যবস্থাপনার কারণে আমরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও নেতার দেখা পাইনি। এর জন্য আমরা ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছি।’
পরে তারেক রহমানকে কাছে না পেয়ে ক্ষুব্ধ কয়েকজন নেতাকর্মী শামা ওবায়েদকে সামনে পেলে তার কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তাদের কেউ কেউ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ফলেই আজকে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু আপনারা আমাদের নেতাকে কর্মীদের কাছ থেকে দূরে রাখছেন।’
একপর্যায়ে হোটেলের লিফটের সামনে শামা ওবায়েদকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত নেতাকর্মীদের কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আশপাশে থাকা অন্যরা এগিয়ে আসেন।
নেতাকর্মীরা জানান, তাদের ক্ষোভ তারেক রহমানের প্রতি নয়, তাকে ঘিরে আয়োজিত সাক্ষাৎ কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা নিয়ে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নেতাকে কাছে না পাওয়ার হতাশা থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে তারেক রহমানের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন অটুট রয়েছে বলেও জানান তারা।




