কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

কুয়েতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরবর্তীতে দূতাবাসের হলরুমে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী যথাক্রমে পাঠ করে শোনান দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর প্রথম সচিব মোহাম্মদ আতিকুল মামুন এবং সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মানিরুজ্জামান। এ সময় দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে একটি বিশেষ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কুয়েতে বসবাসরত বিভিন্ন পেশাজীবী ও প্রবাসী বাংলাদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য দেন দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রবক্তা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর দেশপ্রেমিক সেনাসদস্য ও সাধারণ জনগণের যৌথ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে বর্তমান সরকার এই দিনটিকে পুনরায় জাতীয় দিবস ও সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় এর ঐতিহাসিক চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স তাঁর বক্তব্যে কুয়েতে বসবাসরত তিন লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদানের কথা গর্বের সাথে স্মরণ করেন। তিনি জানান, গত অর্থবছরে কুয়েত থেকে প্রেরিত প্রায় ১.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ-এর মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের যে দ্বিপাক্ষিক অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে, তা দু’দেশের সম্পর্ককে আগামীতে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স প্রবাসীদের সুরক্ষায় এবং আইনি জটিলতা এড়াতে কুয়েতের স্থানীয় আইন-কানুন ও বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ভিসা, আকামা ও বৈধ পথে অভিবাসনের বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীদের দূতাবাসের হটলাইন ও ইমেইলে যোগাযোগের জন্য আশ্বস্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-কুয়েত বন্ধুত্বের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করে এক বিশেষ মোনাজাত করা হয়।



