সাইপ্রাসে বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন নিয়ে কমিউনিটিতে বিতর্ক

ছবি: রয়টার্স
উচ্চশিক্ষার জন্য সাইপ্রাসে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাস বা ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমুখী মতামত দেখা যাচ্ছে। তবে কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার ভিত্তিতে পুরো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্যের দাবি, বিদেশে গিয়ে কিছু শিক্ষার্থীর জীবনযাপনে পরিবর্তন এসেছে, যা বাংলাদেশের প্রচলিত সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বিবাহিত ব্যক্তিরাও নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষার্থী বললেন, ব্যক্তিগত জীবন প্রত্যেকের নিজস্ব বিষয়। আইন মেনে চলা হলে তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে নিজের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পুতুল (ছদ্মনাম) নামে এক বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থী বললেন, সাইপ্রাসে আসার পর প্রথম দিকে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন। সে সময় এক সিনিয়র বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তাকে সহযোগিতা করেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমি যখন প্রথম সাইপ্রাসে আসি, তখন হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। কয়েক মাস কাজ করারও সুযোগ পাইনি। তখন এক সিনিয়র ভাই আমাকে অনেক সহায়তা করেন। একসময় আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখন আমরা একসঙ্গে থাকি। সাইপ্রাসের আইনে এ ধরনের সম্পর্ক অবৈধ নয়।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনধারা নিয়ে মানুষের ভিন্ন মত থাকতে পারে। তবে বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মূল দায়িত্ব হলো পড়াশোনা, ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা। তিনি জানান, সাইপ্রাসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বসবাস ও শিক্ষা কার্যক্রম দেশটির অভিবাসন ও শিক্ষাবিষয়ক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
এ বিষয়ে মুসলিম ফোরাম অব সাইপ্রাসের সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেছেন, ‘কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজকে বিচার করা ঠিক হবে না। অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন এবং দেশের সুনাম রক্ষায় সচেষ্ট আছেন। তাই এ ধরনের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দায়িত্বশীলভাবে বক্তব্য দেওয়া উচিত।’
সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রবাসী কমিউনিটির সদস্যদের মতে, নতুন পরিবেশ, আর্থিক চাপ ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত জীবনে ভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থী শিক্ষা ও কর্মজীবন গড়ার লক্ষ্যেই সেখানে অবস্থান করছেন।




