হাসপাতালে আরও ১১
ব্রিটেনে মেনিনজাইটিসে শিক্ষার্থীসহ দুজনের মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি
ব্রিটেনে মেনিনজাইটিসের প্রাদুর্ভাবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে। ইংল্যান্ডের কেন্টের ক্যান্টারবেরি এলাকায় ‘ইনভেসিভ’ মেনিনজাইটিস ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে আরও ১১ জন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে মেনিনজাইটিস ও সেপটিসেমিয়ার সন্দেহে মোট ১৩টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে এবং তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
দেশটির হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের খবরে বলা হয়েছে, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে এই সংক্রমণের সম্ভাব্য সম্পর্ক থাকতে পারে। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেনিনজাইটিস মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের আবরণে সংক্রমণ সৃষ্টি করে এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, ত্বকে র্যাশসহ অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনিনজাইটিস সাধারণত অণুজীবের সংক্রমণে হয়। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস সাধারণত নিসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস বা স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়ে থাকে এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এটি ছড়াতে পারে। ভাইরাল মেনিনজাইটিস ভাইরাসের কারণে হয় এবং হাঁচি-কাশি বা স্বাস্থ্যবিধি না মানার ফলে ছড়াতে পারে।
এছাড়া পরজীবীজনিত মেনিনজাইটিস খুবই বিরল হলেও তা মস্তিষ্কে মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। ছত্রাকজনিত বা ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিসও তুলনামূলকভাবে বিরল এবং সাধারণত রক্তের মাধ্যমে মেনিনজেসে ছড়িয়ে পড়ে। এইডস, ডায়াবেটিস বা ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিসের ঝুঁকি বেশি থাকে।
কিছু ক্ষেত্রে অসংক্রামক মেনিনজাইটিসও দেখা যায়। ক্যানসার, সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাস (লুপাস), নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন, মাথায় আঘাত বা মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের কারণে এ ধরনের মেনিনজাইটিস হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক লক্ষণ দেখে অনেক সময় মেনিনজাইটিস শনাক্ত করা কঠিন। রোগ শনাক্ত হলেও প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। আবার প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী বেঁচে গেলেও স্থায়ী শারীরিক জটিলতা বা প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
মেনিনজাইটিসের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি বা বমি বমি ভাব, স্মৃতিভ্রম, আলোর দিকে তাকাতে অসুবিধা, শরীরে অস্বাভাবিক দাগ, অস্বস্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব এবং শরীরের ভারসাম্য হারানো।
রোগ নির্ণয়ের জন্য সাধারণত ব্লাড কালচার পরীক্ষা করে রক্তে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষা করার জন্য লাম্বার পাংচার করা হয়। মস্তিষ্কের অবস্থা বোঝার জন্য অনেক ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যানও করা হয়।
চিকিৎসকেরা বলছেন, মেনিনজাইটিস একটি গুরুতর ও প্রাণঘাতী রোগ। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিউরোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

