টিকটকে উগ্রপন্থা ছড়ানোর অভিযোগে আলোচনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিজানুর রহমান

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। লন্ডনে জন্ম নেওয়া ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ইরাকে ব্রিটিশ সেনাদের হত্যার আহ্বান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ইসলামিক স্টেটের পক্ষে সমর্থন চাওয়ার দায়ে দুই পৃথক মামলায় কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের অভিযোগ, কারাগার থেকে মুক্তির পর ‘আবু বারা’ নামে টিকটকে এমন বক্তব্য ছড়িয়েছেন তিনি, যা কিশোরদের উগ্রপন্থার দিকে টানতে পারে। তার টিকটক অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস। তবে ডেইলি মেইলের কাছে নিজেকে উগ্রপন্থী বলে মানতে অস্বীকার করেছেন রহমান।
রহমানের জন্ম ১৯৮৩ সালে লন্ডনে। তার বাবা-মা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে জানিয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি ড্যাজলিং ডন। অনলাইনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ‘আবু বারা’ নামে বইও লিখেছেন তিনি। ব্রিটিশ উগ্রপন্থী বক্তা আনজেম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন রহমান।
রহমানের বিরুদ্ধে প্রথম মামলার সূত্রপাত ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ডেনমার্কের একটি পত্রিকায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে লন্ডনের ড্যানিশ দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভ হয়। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রহমান ইরাকে ব্রিটিশ সেনাদের হত্যার আহ্বান জানান। পুলিশ তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে। রায় ঘোষণার সময় দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে ২০০৭ সালে লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন।
২০১৬ সালে নিষিদ্ধ সংগঠন ইসলামিক স্টেটের পক্ষে সমর্থন চাওয়ার দায়ে রহমান ও চৌধুরী দোষী সাব্যস্ত হন। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে দুজনকেই পাঁচ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ডেইলি মেইলের তথ্য অনুযায়ী, রহমান ২০১৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে আলাদা এক মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আল-মুহাজিরুন পরিচালনার দায়ে ২০২৪ সালে চৌধুরীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, উত্তর লন্ডনের এনফিল্ডে কাউন্সিলের মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট থেকে রহমান টিকটকে ভিডিও প্রকাশ করতেন। একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত অধিকাংশ মানুষের মামলার সঙ্গে সহিংসতার সম্পর্ক নেই। আরেকটি ভিডিওতে তিনি মুসলিমদের পুলিশে যোগ দেওয়ার সমালোচনা করেন। দ্য টাইমসের হিসাবে, তাঁর টিকটক অ্যাকাউন্টে চার হাজারের বেশি অনুসারী ছিল।
বই বিক্রি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, রহমানের কয়েকটি বইয়ে সশস্ত্র লড়াইয়ের পক্ষে বক্তব্য এবং ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য রয়েছে। এর একটি ছোট শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের সহায়িকা হিসেবে প্রকাশ করা হয়। পত্রিকাটি জানিয়েছে, ওয়াটারস্টোনস ও টিকটকের অনলাইন দোকান থেকে তাঁর বই সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কিছু বই অ্যামাজনে পাওয়া যাচ্ছিল।
বাকিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক অ্যান্থনি গ্লিস ডেইলি মেইলকে বলেন, রহমানের বক্তব্য অল্পবয়সী দর্শকদের উগ্রপন্থার দিকে টানতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে, রহমান সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে উগ্রপন্থী বলে মানতে অস্বীকার করেন। অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়ার পর তিনি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার কথা জানিয়েছেন বলেও পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল



