মব সমর্থন করিনি, ৩২ ভাঙার ইস্যুতে সালেহউদ্দিন

ফাইল ছবি
রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি ভেঙে ফেলার ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘নৈতিকভাবে আমি এ ধরনের মব বা ভাঙচুর সমর্থন করিনি। তবে ১৫ বছরে অনেক কিছুতে বাড়াবাড়ি করা হয়েছিল, এটি তারই একটা রিফ্লেকশন।’ আগামীর সময়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেছেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, ৩২ নম্বর পাকিস্তান আমল থেকেই একটা প্রতীকী ছিল। কিন্তু সব জায়গায় একই পরিবারের নামে সবকিছু করার কারণে মানুষের মধ্যে যে আক্রোশ তৈরি হয়েছিল, তারই প্রভাব পড়েছে ৩২ নম্বরের বাড়ি এবং বিজয় সরণির ভাস্কর্যের ওপর। যেমন পাকিস্তানে জিন্নাহর নামেই তো বহু কিছু আছে। সেজন্য ওরা তো আর সব রাস্তাঘাট জিন্নাহর নামে করে ফেলেনি। আপনি দেখবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে অনেক কিছু ছিল। নামকরণের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে কিন্তু কেউ আপত্তি করেনি, যেমন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু পরে দেখা গেল সবকিছুই এক নামে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ পছন্দ করেনি। তাই বলে ভেঙে ফেলা যুক্তিসংগত নয়, কারণ সেটি একটা মিউজিয়াম ছিল।
‘এসব ঘটনা হঠাৎ করে এবং খুব দ্রুত ঘটেছে। আকস্মিকভাবে বুলডোজার নিয়ে এসে পরিকল্পনা করেই এগুলো করা হয়েছে, যা আমাদের বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায়। আমরা আমাদের জায়গা থেকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পুঞ্জীভূত আক্রোশের যে ধাক্কা ছিল, সেটি থামানো সম্ভব হয়নি’, যোগ করেন তিনি।
দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে চাপ ছিল উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলো, যেমন বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী বলত, ‘আপনারা কেন এসব সংস্কার করতে যাচ্ছেন, আপনারা কেয়ারটেকার মোডে থাকেন। ট্যাক্স স্ট্রাকচার ধরবেন না, এগুলো আমরা এসে দেখব।’ তাদের এই চাপ ছিল। কারণ রাজনীতিবিদদের কাছে আবার ব্যবসায়ীরা ধরনা দিতেন।
গণমাধ্যম থেকেও চাপ ছিল উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেছেন, মিডিয়া থেকেও পরোক্ষভাবে চাপ আসত। ব্যবসায়ীরা বা রাজনীতিবিদরা মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক কিছু লেখাতেন, যাতে আমরা কিছু কাজ থেকে নিবৃত্ত থাকি। তবে একদিক থেকে এটা ভালো ছিল। চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকা দরকার। মিডিয়া বা মানুষের সমালোচনা না থাকলে আমরা হয়তো বেপরোয়া হয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আমরা জবাবদিহির কথা মাথায় রেখেছিলাম বলেই বেপরোয়া হইনি।




