স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
চোখের স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, জাতীয় উন্নয়নের অংশ

‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন আই হেলথ বিয়ন্ড হেলথ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
চোখের স্বাস্থ্যকে কেবল চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাসংস্থান, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও সার্বিক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান হোটেল রেনেসাঁ আন্তর্জাতিক দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন আই হেলথ বিয়ন্ড হেলথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলছিলেন, চোখের স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সহজলভ্য করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। প্রত্যেক নাগরিক, তিনি যে অঞ্চলেই বসবাস করুক না কেন—গুণগত মানের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসা ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির কথা স্মরণ করে চিকিৎসক, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও এবং বিভিন্ন অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
কিডনি ও ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৩০ জুলাই ২০২৬
এম এ মুহিত উল্লেখ করেন, দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের প্রকোপ এবং গ্রাম ও দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষের সেবা প্রাপ্তিতে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং দুর্গম এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা যাতে সময়মতো চক্ষু চিকিৎসা পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যালোচনার সুবিধার্থে তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় চক্ষু স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা মূল্যায়নে একটি বড় ধরনের র্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়নে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
সামনের দিনগুলোতে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে বলে জানিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যেই এগুলো নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগে ছানি দূরীকরণে বিশেষ উদ্যোগ ‘বরিশাল ভিশন ২০৩০: ছানি নির্মূল কর্মসূচি’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুহিত বলছেন, সরকারের কমিটমেন্ট—আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শুধু বরিশাল বিভাগে নয়, সারা দেশে ছানিজনিত কারণে অন্ধত্ব দূর করা হবে।
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার রস পাইপার, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.এম. কাদির ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদ।





