১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা
মেধাবীদের প্রথম পছন্দ হবে শিক্ষকতা, সবকিছু সেভাবেই সাজানো হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
- শিক্ষকতা পেশা কখনো ‘উপায়হীন বিকল্প’ হতে পারে না

সংগৃহীত ছবি
সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার বিকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান এবং শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ ও সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষকতা পেশা কখনোই ‘উপায়হীন বিকল্প’ কিংবা সাধারণ চাকরির মতো হতে পারে না। সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যাতে শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সেভাবেই নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
জাতীয় দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের আমন্ত্রণের বিষয়ে নতুন নির্দেশনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতা বা বিজয় দিবসের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে চলতি বছর থেকেই নীতিমালার ভিত্তিতে প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের অন্তত একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত বা কর্মরত শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতার জন্য যাতে কার্যালয়ে ঘুরতে না হয়, সেজন্য নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের হাতে এবার ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প না ভেবে ‘শিক্ষকের শক্তি’ হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান। এই লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত ১০২ গুণী শিক্ষকের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জন, মাধ্যমিকের ২০ জন, কলেজের ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জন, মেডিকেল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন, প্রকৌশল ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত ৭ জন শিক্ষক রয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ ও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক।



