আজ প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ
প্রত্যাশা অনেক, মিলবে কি?

ফাইল ছবি
আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অবশেষে বসতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লক্ষ্য, মিত্রদের ‘মান ভাঙিয়ে’ তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। অন্যদিকে বৈঠকে নিজেদের ‘যথাযথ’ মূল্যায়নের জোরাল দাবি তুলবেন শরিকরা।
আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিকদের সম্মানে ডিনারের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ডিনার শেষে অনুষ্ঠিত হবে সেই ‘কাঙ্ক্ষিত’ বৈঠক, যেটার জন্য এতদিন অপেক্ষায় রয়েছেন মিত্ররা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং মিত্রদের অভিমান দূর করে জোটের ভেতরের আস্থা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উদ্যোগ।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, ‘যমুনার এই অনুষ্ঠানে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের দেড়শ’র অধিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’
ডিনারে অংশ নিতে পারেন এমন কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৈশভোজ শেষে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে তারা তাদের কথা তুলে ধরবেন। তাদের বক্তব্য হবে— যেভাবে রাজপথের আন্দোলনে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভূমিকা রেখেছেন, সেভাবেই সরকার পরিচালনায়ও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং বিএনপির ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’— ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের অঙ্গীকারের বিষয়টিও সামনে আনবেন তারা।
নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে চারটি জোটসহ ৪২টি রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে এই শরিক দলগুলো যুগপৎভাবে অভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন করে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শরিকদের মধ্য থেকে ১১টি দলকে ১৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর শরিকদের মধ্য থেকে দুই নেতাকে প্রতিমন্ত্রী করে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করা হলেও অধিকাংশ শরিক দল এটিকে প্রকৃত অর্থে জাতীয় সরকার হিসেবে দেখছে না। তাদের প্রত্যাশা, ওই দুই প্রতিমন্ত্রীর বাইরে বাকি শরিকদের মধ্য থেকে আরও কয়েকজনকে ‘টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী’ হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সংসদের উচ্চকক্ষ, বিভিন্ন করপোরেশন এবং সরকারি সংস্থায়ও শরিকদের যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে তাদের। অর্থাৎ তারাও সরকারের অংশ হতে চান।
তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে মিত্রদের এত এত প্রত্যাশার কতটুকু মিলবে? গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলছিলেন, ‘এই বৈঠকের মাধ্যমে যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের যাত্রা এখানেই শেষ হচ্ছে, নাকি এর ভবিষ্যৎ আছে— সেটি বোঝার চেষ্টা করব। যদি ভবিষ্যৎ থাকে, তাহলে তার ধরন-প্রকৃতি কী হবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি পাঁচ মাস ধরে একলা চলার যে কৌশল নিয়েছে, সেটি তারা অব্যাহত রাখবে, নাকি ‘রেইনবো নেশন’, ‘রেইনবো গভর্নমেন্ট’— সবাইকে নিয়ে সরকার পরিচালনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই পথেই এগোবে— বৈঠক থেকে তারই স্পষ্ট বার্তা পাওয়ার আশা করছি।






