দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা জানালেন মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন
চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
আজ শুক্রবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেছেন, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য পরিবার। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহদী আমিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ১০টি উদ্যোগ তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১। প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
২। চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
৩। জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ টন চাল দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুততম সময়ে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
৪। সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিনবেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
৬। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণে প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় ছুটে গিয়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন, সশরীরে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
৭। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবাই ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে। এই সংকটে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ জনগণের পাশে রয়েছেন।
৮। ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
৯। এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।
১০। টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য সরকার নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করবে।
পোস্টের শেষাংশে মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী সংকটের শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সরকার দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন।




