নতুন সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে কী বদলাবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইন সংশোধন করে সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন আইন হয়েছে বাংলাদেশে। এই আইনে সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিরোধী দলের বিরোধিতার মধ্যে গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হয় ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মধ্য দিয়ে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে।
সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ দলটির নেতারা বিরোধিতা করছিলেন এই আইনের। এই আইন ইসলামের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আপত্তি তুলেছিলেন তারা।
ফলে এ আইনটি নিয়ে সবার মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেন নতুন আইনের প্রয়োজন দেখা দিল, কী পরিবর্তন এসেছে আইনে, আসলেই কি আইনটি ইসলামের কোনো বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক? এমন সব প্রশ্ন ঘুরছে সবার মনে। চলুন খোঁজা যাক তার উত্তর।
কী আইন ছিল?
সম্পত্তি থাকলে তা হস্তান্তরও থাকবে। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, তা ঠিক করতে ব্রিটিশ ভারতে ১৮৮২ সালে প্রণীত হয় ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি’ আইন বা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন। এটি ওই বছরের ১ জুলাই কার্যকর হয়েছিল। এর পর থেকে এবং ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একই আইনে চলছিল সম্পত্তি হস্তান্তর। স্থাবর (স্থানান্তর অযোগ্য) ও অস্থাবর (স্থানান্তরযোগ্য) সব সম্পত্তি বিক্রি, দান অর্থাৎ হস্তান্তর এই আইনেই চলছে।
এ আইন অনুযায়ী, কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্বেচ্ছায় কোনো বিনিময় ছাড়া অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করে দেওয়াকে হেবা বলে। হেবার মাধ্যমে একজন সম্পত্তির মালিক তার ওয়ারিশদের বা অন্য কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।
কেন সংশোধন?
সংশোধিত আইনের বিল উত্থাপনের সময় তার কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছিলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।
তাই আইনে সংশোধন আনার কথা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি।
কী সংশোধন হয়েছে?
সংশোধিত আইন অনুসারে, কেউ কোনো সম্পত্তি তার সন্তান বা উত্তরাধিকারদের দান করলে জীবিত থাকা পর্যন্ত তা ভোগ করতে পারবেন। স্বামী কিংবা স্ত্রী একে অন্যকে দান করলেও ভোগের ক্ষেত্রে একই বিষয় ঘটবে। আবার দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার দাতার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে তা স্থানান্তরিত হবে।




