বেনজীরের ভাগ্য ঝুলে আছে ইউএইর ওপর!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ভাগ্য নির্ভর করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে প্রভাবশালী কোনো দেশ; কিংবা দুবাইয়ের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবার সুপারিশ করলে বেঁচেও যেতে পারেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুবাইয়ে কাজ করা সাবেক এক কূটনীতিক আগামীর সময়কে এসব কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, একটি ইতিবাচক দিক হলো, দুবাই কর্তৃপক্ষ নিজেরাই বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশকে জানিয়েছে। হয়তো তিনি দুবাইয়ে কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।
দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে ধরতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছিল। তিনি দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন, গত রবিবার জাতীয় সংসদে এমন তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়েছে।
বেনজীরের গ্রেপ্তারের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে নানা রকম আলোচনা চলছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরবি বছরের প্রথম দিন ছিল গতকাল সোমবার। তাই সরকারি ছুটি হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো আদালত বসেনি। সে কারণে আপাতত, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা-ইন্টারপোলে আবুধাবি এনসিবির (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) হেফাজতেই কাটছে বেনজীর আহমেদের সময়।
জানা গেছে, মাসে মাত্র তিন দিন ইন্টারপোল-সংশ্লিষ্ট আদালত বসে। ওইদিনই বেনজীর আহমেদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এর আগপর্যন্ত আবুধাবি-এনসিবির ডিটেনশন সেন্টারেই থাকবেন তিনি। তবে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকার পরও যদি বেনজীর আহমেদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ‘ইউএই আদালতে’ বাংলাদেশের আবেদন জোরালো হতে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই আবুধাবি এনসিবি থেকে পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে যথাযথ প্রস্তাবনা পাঠাতে হবে।
এদিকে বেনজীর আহমেদকে মুক্ত করতে নানা জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করছেন তার স্ত্রী জিশান মির্জা। লবিস্টের মাধ্যমে তিনি দুবাইয়ের প্রভাবশালী আইনজীবীদের কাছে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
একটি সূত্র বলছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও দুই দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বেনজীর আহমেদের। একটি ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র, অন্যটি ইউরোপের একটি দেশের। একই সঙ্গে রয়েছে আরও দুটি দেশের রেসিডেন্স কার্ড। এগুলো ব্যবহার করেই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করছিলেন। তবে একটি দেশের পাসপোর্টে ইচ্ছা করেই তিনি নামের বানানে ভিন্নতা রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, আইনি ঝামেলা এড়াতে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পুলিশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-এনসিবিকে আবুধাবি-এনসিবির পাঠানো চিঠি অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত শুক্রবার কার্যদিবসের শেষ মুহূর্তে আবুধাবি এনসিবি থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ই-মেইল করা হয় ঢাকা এনসিবিকে। তবে বাংলাদেশে শুক্র এবং শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় তা ঢাকা এনসিবির নজরে আসে রবিবার সকালে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আগামীর সময়কে বলেছেন, আবুধাবি এনসিবির চিঠি অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ এবং দুদক। কাগজপত্র প্রস্তুত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।




