প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের

প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক আগামীর সময়ের প্রথম পৃষ্ঠায় গত ৮ জুন ‘রপ্তানির আড়ালে চাঞ্চল্যকর অর্থপাচার’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি প্রতিবেদনটিকে ভিত্তিহীন, অসংগতিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে আগামীর সময়ে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন।
তার বক্তব্যের মূল অংশ তুলে ধরা হলো—
‘প্রতিবেদনে আমাকে বেস্ট লেদার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য। আমি কখনোই উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করিনি। আমি গত ০৫. ০৫. ২০১৫ তারিখে বেস্ট লেদার কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং ২০. ০৫. ২০২১ তারিখে সকল শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে উক্ত পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করি।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির মতিঝিল লোকাল শাখার মাধ্যমে ১৬টি এলসির বিপরীতে ২৬ লাখ ৯৮ হাজার ৯০১ ইউএস ডলার মূল্যের চামড়া রপ্তানি করা হয়; কিন্তু রপ্তানি আয় পাঁচ বছরেও দেশে ফেরেনি।’ প্রতিবেদনে বর্ণিত এলসি-সংক্রান্ত এ তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইসলামী ব্যাংক পিএলসির মতিঝিল লোকাল শাখায় কখনোই বেস্ট লেদার কোম্পানি লিমিটেডের নামে কোনো এলসি খোলা হয়নি। রপ্তানির বিষয়ে প্রকৃত তথ্য হলো, ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ইসলামপুর শাখার মাধ্যমে ১৬টি এলসির বিপরীতে ১৩,৮৫,৫৪০.২০ ইউএস ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। এখানে অর্থপাচারের মতো কোনো ধরনের গুরুতর অপরাধ বা অনিয়মের ঘটনা ঘটার প্রশ্নই আসে না। উল্লেখ্য, ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ইসলামপুর শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখাপ্রধান কর্তৃক স্বাক্ষরিত ০৯. ০৬. ২০২৬ তারিখের আইবিবিএল/আইএসপি/এফইএক্স/২০২৬/৬৮৭ নং স্মারকে প্রদত্ত প্রত্যয়নে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকের কাছে বেস্ট লেদার কোম্পানি লিমিটেডের কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ইএক্সপি (ইএক্সপি-রপ্তানি ফরম) এবং এফবিসি (এফবিসি-ফরেন বিল ফর কালেকশন) বকেয়া বা অনাদায়ি নেই। অর্থাৎ এটি স্পষ্ট যে, ব্যাংকিং লেনদেনের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটির রেকর্ড অত্যন্ত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ। কাজেই, উপর্যুক্ত সূত্র ধরে আমার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার যে ইঙ্গিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে, তার বিন্দুমাত্র বাস্তব ভিত্তি নেই। আমি মনে করি, অসত্য সংবাদ প্রকাশ করায় স্বাধীন ও পেশাদার গণমাধ্যম হিসেবে সাংবাদিকতার নীতি উপেক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাচ্ছি, ব্যবসায়ী হিসেবে আমার সুনাম সর্বজনবিদিত। রাজনীতি-কিংবা ব্যবসা কোনো ক্ষেত্রেই আমি অর্থপাচার বা দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনোই সম্পৃক্ত ছিলাম না।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্তের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এখানে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই।




