ডেঙ্গু মোকাবিলায় ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করবে সরকার

সংগৃহীত ছবি
বছরের এখনো আট মাস পেরোয়নি। এরই মধ্যে এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু রোগে মৃত্যু হয়েছে ৮১ জনের। একই সময়ে শনাক্ত হয়েছে ২৮ হাজার ৯২৩ জন ডেঙ্গু রোগী। এই যখন পরিস্থিতি তখন জানা গেল, ডেঙ্গু মোকাবিলায় ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যেখানে কাজ হবে চিকিৎসাসামগ্রী, পরিকল্পিত টিকাদান, চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানো, স্বাস্থ্যসামগ্রীর সরবরাহে ডিজিটাল নজরদারি নিয়েও।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার, ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও ইউনিসেফের সাপ্লাই ডিভিশনের মধ্যে একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গত জুনে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ইউনিসেফের সাপ্লাই ডিভিশনে ‘ভ্যাকসিন প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠােন এসব বিষয়ে এসেছে ঐকমত্যও। যাতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রীর নেতৃত্বে অংশ নেয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সফরের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ডেনমার্ক সফরে টিকাদান কর্মসূচি, ভ্যাকসিন নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেল, জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সুলভমূল্যে সংগ্রহের নিশ্চয়তা দিতে ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগাম চাহিদা নিরূপণ ও সরবরাহ পরিকল্পনার মাধ্যমে ডেঙ্গু পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন জরুরি অবস্থায় সামগ্রীর ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপন করা নথিতে বলা হয়েছে, টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা নিরূপণ, সময়মতো অর্থছাড়, বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও কার্যকর ক্রয় পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থ দ্রুত ছাড় এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও হয়েছে আলোচনা। পাশাপাশি ‘প্রকিউরমেন্ট এমওইউ’ হালনাগাদ ও ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট’ করার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
যদিও বাংলাদেশে কোন টিকা ব্যবহার হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডেঙ্গু টিকার প্রসঙ্গ এলেই আসে কিউডেঙ্গার নাম। ২০২৫ সালে চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল পিএলওএস মেডিসিনে প্রকাশিত ভ্যাকসিনেশন স্ট্র্যাটেজিজ, পাবলিক হেলথ ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড কস্ট-ইফেক্টিভনেস অব ডেঙ্গু ভ্যাকসিন টিএকে-জিরো-জিরো-থ্রি গবেষণায় বলা হয়, এই টিকাটি ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোসহ বিভিন্ন দেশে অনুমোদিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সাড়ে চার বছর পর্যন্ত কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে ৬১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ঠেকাতে ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ কার্যকর।
তবে এখন পর্যন্ত সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধেই বেশি মনোযোগ দিয়ে আসছিল। গত জুনে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্টবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়নও কঠিন। তিনি বলেছিলেন, যদি ব্যাপক ভ্যাকসিনেশনে যেতে হয়, তাহলে বিপুল বাজেটের প্রয়োজন হবে। চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
আবার ইউনিসেফ বা যে কারও সঙ্গেই টিকাদান শুরু করার আগে ট্রায়ালের মাধ্যমে নিরাপত্তা যাচাইয়ের ওপর জোর দিলেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘ডেঙ্গুর টিকা বাংলাদেশে ব্যবহারের আগে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।






