প্রধানমন্ত্রী
সবকিছুই গড়ে উঠেছে ঢাকাকেন্দ্রিক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠেছে ঢাকাকেন্দ্রিক। সে কারণেই সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকামুখী হয়।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বেলা ১১টায় শুরু হয় জাতীয় সংসদের অধিবেশন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আনফরচুনেটলি, যেভাবেই হোক, আমরা খেয়াল করেছি মানুষের সুযোগ-সুবিধা— সেটি চাকরির ক্ষেত্রে হোক, চিকিৎসার ক্ষেত্রে হোক, বাচ্চাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে হোক; সবকিছুই ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। এক দিন-দুই দিন না, এটি গড়ে উঠেছে বহু বছর ধরে।
তারেক রহমান বলেছেন, সারা দেশকে ঘিরে এ সুবিধাগুলো আমরা হয়তো সেভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি এখনো। সে কারণেই স্বাভাবিকভাবে সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকামুখী হয়ে থাকে। সে জন্যই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ধীরে ধীরে দেশের সব অংশেই পর্যায়ক্রমিকভাবে এই বেসিক সুবিধাগুলো গড়ে তোলা।
প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করছে বিশেষ শিল্পায়িত অঞ্চল গড়ে তুলতে। একই সঙ্গে আমরা চেষ্টা করছি দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাসেবাও গড়ে তুলতে এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের পড়াশোনার জন্য ধীরে ধীরে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে।
‘এ সুবিধাগুলো যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে মানুষ কম উৎসাহিত হবে ঢাকা শহরে আসার জন্য। এর মাধ্যমেই আমরা ধীরে ধীরে ঢাকার ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হব বলে মনে করি।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন’ ও ‘গ্রিন’ নগরী রূপে গড়ে তুলতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়কদ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানগুলো সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এই সিটি করপোরেশন কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্যব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সব বর্জ্যকে ‘জিরো’ বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল-সবুজে আবৃত করা হচ্ছে। সিটির আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষোরপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশ (মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (আবদুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত) নিচের খালি জায়গায় করা হবে বৃক্ষরোপণ। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণকে দেওয়া হয়েছে অগ্রাধিকার।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস এবং ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমণকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণসামগ্রী দ্বারা বায়ূদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা শহরের বায়ূদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকে অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাগুলো বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।



