মূল্যায়ন করে সরকারি কোম্পানি আসবে শেয়ারবাজারে
- সংসদে প্রধানমন্ত্রী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সরকারি মালিকানাধীন যেসব লাভজনক কোম্পানি এখনো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি, সেগুলো মূল্যায়ন করে বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বললেন, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতে উপযুক্ত কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হবে শেয়ারবাজারে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি উপস্থাপন করা হয় টেবিলে।
একই দিন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের কথা জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।
পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের যেসব কোম্পানি এখনো শেয়ারবাজারে আনা হয়নি, সেগুলো আমরা অ্যাসেস (মূল্যায়ন) করে দেখব। যাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা যদি সুপারিশ করে থাকেন, এগুলোকে এনলিস্ট করলে ভালো ফল পাব— অবশ্যই আমরা সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
‘বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন ও তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালনা কার্যক্রমে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক পতনের পেছনে কতগুলো কারণ আমরা পেয়েছি। কারণগুলো হলো— বাজার কারসাজি এবং কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও ও বন্ড ইস্যুতে বিভিন্ন অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল তদারকি ও সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ ও বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসংগতি, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং পুঁজিবাজারবান্ধব কর নীতির অভাব। ধারাবাহিকভাবে শেয়ারবাজারে পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বর্তমান সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে’— যোগ করেন সরকারপ্রধান।
গৃহীত ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বললেন, ‘এরই মধ্যে শেয়ারবাজারে কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তা উদ্ঘাটনের কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে শেয়ারবাজার কারসাজি, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে চিহ্নিতকরণে তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকে পাঠানো হয়েছে।’
বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর জানিয়ে তারেক রহমান বলছিলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি পণ্য বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত এবং টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, সেখানে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বললেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপক্ষীয় ফ্রন্টে মিয়ানমারের মূল জান্তা সরকারের পাশাপাশি সবপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।




