‘দোয়া করবেন, যেন বেঁচে থাকি’

সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে স্বাগত বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে স্বাগত বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। হুইলচেয়ারে বসেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। বক্তব্য দিতে গিয়ে হঠাৎ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তার। সংসদকক্ষে নেমে আসে নীরবতা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বললেন, আমি দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস যাবৎ চিকিৎসাধীন। আজকের দিনটি আমার জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ দুই দশক পর সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর থেকে আনন্দ ও গর্বের বিষয় কি হতে পারে?
আবেগপ্রবণ হয়ে দল-মত-নির্বেশেষে সবার কাছে চাইলেন দোয়াও। বললেন, ‘বাকি সময়টুকু যেন বেঁচে থাকি। দেশ ও জাতির জন্য যেন কিছু করতে পারি।’
পুরো সংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ বলেছেন, ‘সব সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সবার ভালোবাসা-দোয়া এই কঠিন সময়ে আমাকে সাহস জুগিয়েছে। এই সংসদে ফিরে এসে বলতে চাই— আমি মানুষের মাঝে ফিরে এসেছি।’
হুইলচেয়ারে করে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে সংসদ অধিবেশন কক্ষে ঢুকলে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে স্বাগত জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগের দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মির্জা আব্বাস। কয়েকদিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ফলে তার আর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়া হয়নি।
সিঙ্গাপুরের পর মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নিয়ে গতকাল বুধবার দেশে ফেরেন তিনি। তার এক দিন বাদেই তিনি সংসদে গেলেন।
অধিবেশনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বক্তব্যের সময় সংসদ কক্ষে ঢোকেন মির্জা আব্বাস। হুইলচেয়ারে করে তাকে নিয়ে আসা হয়।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসার পর মির্জা আব্বাস সাহেব সংসদে এসেছেন। আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি।’
যুবদলের একসময়ের সভাপতি, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন।
গত ১১ মার্চ ঢাকার শাহজাহানপুরে নিজের বাসায় ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। তাকে তখন এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ তার মস্তিষ্কে দুই দফা অস্ত্রোপচার হয়েছিল।
উন্নত চিকিৎসার জন্য এরপর ১৫ মার্চ মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলে।
চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৪ এপ্রিল তাকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে বিশেষায়িত পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নেন তিনি।
চিকিৎসার পুরোটা সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস।







