প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে শিশুদের খেলাধুলা, যুক্ত হচ্ছে পাঠ্যক্রমে
- ২২ লাখ খুদে ফুটবলারের মাঠ কাঁপানো লড়াই, লক্ষ্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস

ছবি: আগামীর সময়
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিশুদের ক্রীড়ামোদী করে গড়ে তোলার জন্য খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আজ মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের খেলা উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন শিশুদের। তাই শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ। খেলাধুলা পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট।’
সারা দেশের শিশুদের জন্য স্কুল ড্রেস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, শিশুরা যেন পুষ্টিহীনতায় না ভোগে এবং সেজন্য এ বছরের মধ্যেই দেশের সকল স্কুলে মিড ডে মিল দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের প্রয়োজন, সম্ভাবনা ও বিকাশের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তোমাদের জন্য একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের ভাষ্য, ‘আমরা ক্রীড়াখাত এমনভাবে গড়ে তুলব যাতে খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, পেশা হতে পারে। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও রাষ্ট্রের যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’
উল্লেখ্য, এ বছরের ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে এ টুর্নামেন্ট শুরু হয়। দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে। বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দলের ১১ লক্ষ ১০ হাজার ৮১৪ জন খেলোয়াড় এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দলের ১১ লক্ষ ৩ হাজার ২৯১ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে।
ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে উপজেলা/থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা গত ২৩ মে শেষ হয়। আজ থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলায় দেশের ৮টি বিভাগের বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন ৮টি বালক ও ৮টি বালিকা মোট ১৬টি দলের খেলা শুরু হবে। এ পর্যায়ের খেলার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হলো।




