রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর
মিয়ানমারের ওপর সমন্বিত চাপ বাড়ানোর তাগিদ
- জোরদার করতে হবে বৈশ্বিক পদক্ষেপ
- রাখাইনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ করাও জরুরি

রোহিঙ্গাদের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে আরও শক্তিশালী, সমন্বিত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। একই সঙ্গে এই বাস্তুচ্যুতদের নিজ দেশে ফেরাতে এবং স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর জোরদার করতে হবে সমন্বিত বৈশ্বিক চাপ। গতকাল শনিবার ঢাকার হোটেল শেরাটনে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) আয়োজিত ‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৬: অংশীদারত্ব, প্রশংসা ও অঙ্গীকারের এক সমাবেশ’— জানানো হয় এই আহ্বান। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর গণঅনুপ্রবেশের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে হয় এ অনুষ্ঠান। এতে স্বীকৃতি দেওয়া হয় বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সহায়তাকারী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর অবদান এবং অংশীদারত্বকে।
প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বললেন, ‘রোহিঙ্গাদের টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন এবং অন্যান্য টেকসই সমাধানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দায়ভার বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত তাদের। এ পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই সংকটে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।
গণঅনুপ্রবেশের বর্ষপূর্তি স্মরণ করিয়ে আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক হাসিনা রহমানের ভাষ্য, ৯ বছর কেটে গেছে, গতানুগতিক ধারা আমাদের দশম বা পঞ্চদশ বছরে নিয়ে যেতে পারবে না। তহবিল কমে আসায় এবং এই সংকট থেকে বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ায়, আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে এবং সুরক্ষা ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
‘যেকোনো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই রাখাইনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।’— পরামর্শ দিলেন রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী লাকি করিম।
প্যানেলিস্টদের মধ্যে ছিলেন এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে, বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের প্রতিনিধি হাম্মা হোসেন, আইআরসি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইআরসির আঞ্চলিক অ্যাডভোকেসি বিশেষজ্ঞ সাবিরা সুলতানা নূপুর।






